পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের মুখে দাঁড়িয়ে তৃণমূল অভিযোগ তুলল, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তথা বিজেপি, দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যেই এক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অন্য গোষ্ঠীকে তাতিয়ে দেওয়ার খেলা চালিয়ে যাচ্ছে। তৃণমূলের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েনের বক্তব্য, দাউদি বোহরা মুসলিম সম্প্রদায়কে অধিক গুরুত্ব দিয়ে এক দিকে মোদী তাঁর সংখ্যালঘু-প্রেম দেখাচ্ছেন, যা আরব বিশ্বের কাছে বার্তাবহ। অন্য দিকে সামান্য অংশের মুসলিমদের কিছু সুবিধা পাইয়ে দিয়ে তিনি সামগ্রিক ভাবে মুসলিমদের মধ্যে বিভাজন ও অস্থিরতা তৈরি করছেন।
ঘটনা হল, ভারতে বোহরা মুসলিমদের সম্মিলিত জনসংখ্যা ৫ লক্ষের মতো, যা ভারতের মোট মুসলিম জনসংখ্যার যৎসামান্য অংশ। গুজরাত এবং মহারাষ্ট্রের মুম্বইয়ে এই সম্প্রদায়ের আর্থিক প্রগতি চোখে পড়ার মতো। অনেকেই মনে করেন, মুম্বইয়ের ধনী ব্যবসায়ীদের মধ্যে এই সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাই রয়েছেন। গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময় থেকেই মোদীর সঙ্গে এই বোহরা মুসলিমদের সম্পর্ক অত্যন্ত মধুর। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরে তা আরও পোক্ত হয়েছে।
ডেরেক বলেছেন, “পাঁচটি রাজ্যে যখন বিধানসভা ভোট কড়া নাড়ছে, বিজেপি নেতাদের প্রচারের ভাষা ক্রমশই বিষাক্ত হয়ে উঠছে মেরুকরণের প্রশ্নে। বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী একটি ভিডিয়ো-বার্তায় সাম্প্রদায়িকতা ছড়িয়েছেন। মুসলিমদের প্রায়শই সাম্প্রদায়িক আক্রমণ করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, দেশে মুসলিমের সংখ্যা ২০ কোটি। তাঁদের মধ্যে বোহরা মুসলিম মাত্র ৫ লক্ষ। প্রশ্ন হল, একটি ছোট্ট সম্প্রদায়, যাঁরা গোটা মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে মাত্র ০.২৫ শতাংশ, তাঁরা বিজেপির কাছে এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছেন কেন? তার কারণ বোহরাদের অর্ধেকের বসবাস গুজরাতে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের কথ্য ভাষা এক। বিজেপি এই সংযোগ আবিষ্কার করে রাজনৈতিক ফায়দা নিচ্ছে।’’ তৃণমূলের রাজ্যসভার নেতার অভিযোগ, ওয়াকফ বিল পাশ হওয়ার পরেই মোদী বোহরা সম্প্রদায়ের সঙ্গে ছবি তুলতে বসে গিয়েছিলেন। আর বোহরা প্রতিনিধিদল ওয়াকফের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়। তাতে এমন একটা বার্তা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে, ভারতের মুসলমানরা এই আইনকে যেন পুরোদস্তুর সমর্থন করছেন! ডেরেকের কথায়, ‘‘সে দিন ওই ছবি যে কথাটা বলেনি তা হল, দেশের ২০ কোটি মুসলিম জনসংখ্যার মধ্যে এই ধনবান বোহরা সম্প্রদায়ের উপস্থিতি মাত্র ৫ লক্ষের!”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)