পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাহুল গান্ধী তথা কংগ্রেসকে অস্বস্তিতে ফেলে বিরোধী মঞ্চ ইন্ডিয়া-র নেতৃত্বের প্রসঙ্গে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ডিএমকে প্রধান এম কে স্ট্যালিনের নাম তুলে দিল উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল ও কংগ্রেস আলাদা ভাবে লড়ছে। কেরলে ইন্ডিয়া-র শরিক কংগ্রেস ও সিপিএম এক অপরের বিরুদ্ধে। তামিলনাড়ুতে ডিএমকে ও কংগ্রেসের মধ্যে জোট নিয়ে টানাপড়েন চলছে। এরই মধ্যে ইন্ডিয়া-র শরিক উদ্ধবের শিবসেনা এই প্রশ্ন তোলায় নতুন করে বিরোধী জোটের মধ্যে ফাটলের বিষয়টি সামনে চলে এসেছে। সম্প্রতি বৃহন্মুম্বই পুরসভা নির্বাচনে কংগ্রেস ও উদ্ধবের শিবসেনা আলাদা ভাবে লড়েছিল।
শিবসেনার মুখপত্রের সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, বিরোধী মঞ্চ ইন্ডিয়া-কে অভিন্ন দিশা ও নেতৃত্ব নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছতে হবে। সে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হোন বা স্ট্যালিন কিংবা অন্য কোনও ব্যক্তি, যিনি জাতীয় সঙ্কট সামলাতে পারবেন। সামনে লোকসভা নির্বাচন নেই। ইন্ডিয়া-র সামগ্রিক প্রাসঙ্গিকতাও নেই। তবে মনে করা হচ্ছে, শিবসেনার মুখপত্রে এই প্রসঙ্গের অবতারণা আসলে বিরোধী জোটের নেতৃত্বে রাহুল গান্ধীর যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার উদ্দেশ্য নিয়েই করা হয়েছে। সম্প্রতি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের মিডিয়া উপদেষ্টা সঞ্জয় বারু একটি সাক্ষাৎকারে ও সংবাদমাধ্যমে লেখা নিবন্ধে দাবি তুলেছেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিরোধী জোটের মুখ হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই সবচেয়ে উপযুক্ত।
সামনে লোকসভা ভোট থাক আর না থাক, সর্বভারতীয় বিরোধী জোটের নেতৃত্বে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গটি আচমকা উঠে আসায় রাজ্যের বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূল শিবির উত্তেজিত। দলীয় শীর্ষ সূত্রের বক্তব্য, নেতৃত্বের প্রশ্নে এম কে স্ট্যালিন পিছিয়ে। কারণ, তাঁর দখল কেবলমাত্র তামিল ভাষাতেই। অন্য দিকে মমতা বাংলার পাশাপাশি হিন্দি এবং ইংরেজিতেও কাজ চালাতে স্বচ্ছন্দ বলে দাবি তাঁর দলের। তাঁর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় কাজ করার সুদীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। অন্য যে নেতারা রয়েছেন বিরোধী শিবিরে, অর্থাৎ অখিলেশ যাদব, তেজস্বী যাদব, হেমন্ত সোরেন, উদ্ধব ঠাকরে— সবার থেকে মমতার বয়স এবং অভিজ্ঞতা অনেকটাই বেশি। তিনি সবারই ‘দিদি’। এই নিয়ে প্রশ্ন করায় তৃণমূলের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র বাংলার বিধানসভা ভোটে বিজেপিকে হারানো নয়। গোটা দেশ থেকে ধুয়ে মুছে সাফ করে দেওয়া।” রাজ্যসভার উপনেতা সাগরিকা ঘোষ তাঁর এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, “প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের তৎকালীন মিডিয়া উপদেষ্টা এমন একটি ভাবনার কথা জানিয়েছেন, যার সময় এসে গিয়েছে। তিনি ইন্ডিয়া-র নেতৃত্বে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম তুলে ধরেছেন।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)