Advertisement
E-Paper

সারা রাত বাঁধে পড়ে বাসিন্দারা, ঘুমে ডুবে প্রধান

এক দিকে জল মাথায় হ্যাজাক জ্বালিয়ে বাঁধ পাহারা দিচ্ছেন গ্রামের মানুষ, আর গ্রামেরই অন্য প্রান্তে ঘুমে ডুবে রয়েছেন কর্তা— এই অভিযোগে দীর্ঘক্ষণ ওই কেতুগ্রামের ওই তৃণমূল প্রধান সুকুমার বিশ্বাসের বাড়ি ঘেরাও করে রাখেন বাসিন্দারা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ অগস্ট ২০১৫ ০২:০০
অজয়ের বাঁধ ভেঙে ভেসেছে কাটোয়ার রাজুয়া গ্রাম।

অজয়ের বাঁধ ভেঙে ভেসেছে কাটোয়ার রাজুয়া গ্রাম।

এক দিকে জল মাথায় হ্যাজাক জ্বালিয়ে বাঁধ পাহারা দিচ্ছেন গ্রামের মানুষ, আর গ্রামেরই অন্য প্রান্তে ঘুমে ডুবে রয়েছেন কর্তা— এই অভিযোগে দীর্ঘক্ষণ ওই কেতুগ্রামের ওই তৃণমূল প্রধান সুকুমার বিশ্বাসের বাড়ি ঘেরাও করে রাখেন বাসিন্দারা। পরে কেতুগ্রাম থানার আইসি মানস মাইতি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

গ্রামবাসীরাই জানান, রবিবার সবে তখন সন্ধ্যা নামছে। বোলপুর থেকে ময়ূরাক্ষী দক্ষিণ ক্যানেল ডিভিশনের নির্বাহী বাস্তুকার সূর্যভাস্কর মণ্ডল কেতুগ্রামের রসুই গ্রামে ফোন করে খবর দেন, ঝাড়খণ্ডের শিকাটিয়া থেকে ১ লক্ষ ২০ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। লাল সতর্কতাও জারি করা হয়েছে। রসুই গ্রামে অজয়ের বাঁধে পাহারা দেওয়ারও পরামর্শ দেন তিনি। গ্রামবাসীরা সেই খবর পেয়ে পঞ্চায়েত প্রধানকে জানান। গ্রামবাসীদের দাবি, প্রধান তাঁদের আশ্বাস দেন, ‘আপনাদের কোনও চিন্তা নেই। ঠিকাদারের লোকেরা তৈরি আছে। তাঁরাই যা করার করবে।’ কিন্তু বেশ কিছুক্ষণ কেটে গেলেও ঠিকাদারের লোকের দেখা মেলে না বলে বাসিন্দাদের অভিযোগ। অথচ হু হু করে জল বাড়ছে, বিপদ ঘনিয়ে আসছে বলে টের পাচ্ছিলেন গ্রামবাসীরা। রসুই গ্রামের তপন রায় বলেন, “আমাদের অপেক্ষার বাঁধ ভেঙে যায়। গ্রামের প্রতিটি বাড়ি থেকে প্লাস্টিকের বস্তা দোগাড় করতে নেমে পড়ি। পাঠাগারে কিছু বস্তা ছিল। তাই নিয়ে বাঁধের উপর চলে যাই।” এরপরে টিপটিপে বৃষ্টি, অন্ধকারের তোয়াক্কা না করেই বাঁধ মজবুত করতে লেগে পড়েন বাসিন্দারা। তাঁরাই জানান, বাঁধের উপরটা কাদায় মাখা, পিছলে পড়লেই একেবারে অজয়ে। তার মধ্যেই ঘর বাঁচানোর তাগিদে তিনটে হ্যাজাক জ্বালিয়ে কাজ শুরু হয়। জোগাড় করা প্লাস্টিকের বস্তায় গ্রামের ফুটবল মাঠে পড়ে থাকা বালি পুরে, বস্তার মুখ বেঁধে বাঁধের গায়ে হেলিয়ে রাখা শুরু হয়। গ্রামবাসীদের দাবি, প্রায় ১২০-২৫ জল মিলে রাতভর এ কাজ করেন তাঁরা। তবে এর মধ্যেই টান পড়ে বালির বস্তায়।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, আড়াই হাজার বস্তা বালি বাঁধের উপর দেওয়ার পরে বস্তা কম পড়ে যায়। পড়িমরি করে পঞ্চায়েত প্রধান সুকুমারবাবুর বাড়িতে ছুটে যান তাঁরা। বাপি ঘোষ, রথরাজ ঘোষদের ক্ষোভ, “তখন রাত ৮টা। জল বাড়ছে, বাঁধ রক্ষা কী করে হবে সে নিয়ে আমরা চিন্তায়। পর্যাপ্ত বালির বস্তাও পাচ্ছি না। প্রধানের কাছে বালির বস্তা চাইতে যাই। অনেক ডাকাডাকির পর বুঝতে পারি উনি ঘুম থেকে উঠে এলেন! সেই দেখে গ্রামের মানুষরা ক্ষোভ দেখান।” গ্রামবাসীদের দাবি, প্রধানকে বাঁধের কাছে গিয়ে পরিস্থিতি দেখতে বলা হয়। কিন্তু উনি যেতে অস্বীকার করেন। শান্তনু পাল, অপু সূত্রধরদের কথায়, “আমরা প্রাণের মায়া ছেড়ে বাঁধ রক্ষা করব, উনি কোনও সাহায্য না করে ঘুমাবেন, তা তো হয় না! সে জন্য আমরা তাঁকে কাজের জায়গায় যাওয়ার জন্য অনুরোধ করি। কিন্তু উনি আমাদের কথা শোনেননি।” বরং কেতুগ্রাম থানায় ফোন করে তাঁকে ঘেরাও করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সুকুমারবাবু।

যদিও বিল্লেশ্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সুকুমার বিশ্বাসের দাবি, “পুরো গ্রামের ছেলেরা আমার বাড়ি ঘেরাও করে বস্তা চাইতে শুরু করে। কাজের জায়গাতে যাওয়ার জন্যও দাবি তুলেছিল। আমি ৫০০ বস্তার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলাম।” পরে কেতুগ্রাম থানার আইসি মানস মাইতি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

গ্রামবাসীরা জানান, ওই বাঁধটির উপর দিয়ে বালির গাড়ি যাতায়াত করার ফলে বাঁধটি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। এ দিন ওই বাঁধের তিনটে অংশে ১০০ ফুট জায়গায় বালির বস্তা দিয়ে রক্ষা করা হয়। বালির বস্তাগুলোকে ধরে রাখতে মাটিও ফেলা হয় গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন। পুলিশও গ্রামের যুবকদের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন বলে বাসিন্দাদের দাবি। তাঁরা জানান, রাতভর বাঁধ পাহারা দিয়ে কোথায় ধস নেমেছে দেখে বালির বস্তা ফেলে হয়েছে। ভোরের দিকে বিপদ কেটে গিয়েছে বোঝার পর বাড়ির পথে রওনা দেন যুবকরা। তাঁদের কটাক্ষ, প্রধান বোধহয় তখনও ঘুমোচ্ছিলেন।

আবহাওয়া
খনি-শিল্পাঞ্চল

পূর্বাভাস: মঙ্গলবার আকাশ আংশিক মেঘলা থাকবে। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা থাকবে যথাক্রমে ৩৩ ডিগ্রি এবং ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি।

তাপমাত্রা: সোমবার সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল যথাক্রমে ২৭.২ ও ২৫.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

বৃষ্টি: গত ২৪ ঘণ্টায় মাঝারি বৃষ্টি হয়েছে।

সূর্যোদয়: ৫টা ১৩ মিনিট।

আবহাওয়া
বর্ধমান

পূর্বাভাস: মঙ্গলবার আকাশ আংশিক মেঘলা থাকবে। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা থাকবে যথাক্রমে ৩৩ ডিগ্রি এবং ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি।

তাপমাত্রা: সোমবার সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল যথাক্রমে ৩৩.২ ও ২৫.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

বৃষ্টি: গত ২৪ ঘণ্টায় মাঝারি বৃষ্টি হয়েছে।

সূর্যোদয়: ৫টা ১২ মিনিট।

ketugram flood ajay river ajay flood mayurakshi flood ketugram villagers ketugram village chief ketugram panchayet pradhan ketugram barraige guard
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy