Advertisement
E-Paper

পুলিশ ঢুকতেই শঙ্খধ্বনি, ফিরল নন্দীগ্রামের স্মৃতি

এক দশক আগে এই দৃশ্য দেখেছিল নন্দীগ্রাম। সেই একই ছবি ফিরল নন্দীগ্রামের জেলাতেই। এ বার ময়নার বাকচায়।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০১৮ ০৫:১৭
গ্রাফিক শৌভিক দেবনাথ।

গ্রাফিক শৌভিক দেবনাথ।

গ্রামে পুলিশ ঢুকছে। কথাটা সবাইকে জানাতে ঘরে ঘরে বেজে উঠত শাঁখ। শঙ্খধ্বনিতে সতর্ক হতেন গ্রামবাসী। গ্রামের রাস্তায় পুলিশের গাড়ি ঢুকতেই হত প্রতিরোধ।

এক দশক আগে এই দৃশ্য দেখেছিল নন্দীগ্রাম। সেই একই ছবি ফিরল নন্দীগ্রামের জেলাতেই। এ বার ময়নার বাকচায়।

পূর্ব মেদিনীপুরের এই এলাকায় পঞ্চায়েতের প্রধান নির্বাচন ঘিরে তৃণমূলের গোষ্ঠী সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছিলেন এক পুলিশ আধিকারিক ও সিভিক ভলান্টিয়ার। তৃণমূলের এক গোষ্ঠীকে সমর্থন করেছিল বিজেপি। সেই ঘটনায় নাম জড়ায় স্থানীয় বিজেপি নেতা বিজয় ভৌমিক এবং কয়েক জন তৃণমূল কর্মীর। তাঁদের গ্রেফতার করতেই বাকচার গোড়ামহল গ্রামে সোমবার রাতে অভিযান চালায় ময়না থানার পুলিশ। অভিযোগ, পুলিশ বিজয়ের বাড়িতে ঢোকার আগে বিজেপি এবং একাংশ তৃণমূল সমর্থক বাধা দেয়। তখনই আশপাশের সব বাড়ির মহিলারা শাঁখ বাজাতে শুরু করেন। ময়না থানার এক পুলিশ আধিকারিক মানছেন, ‘‘রাতে অভিযানে গিয়ে আমাদের বাধার মুখে পড়তে হয়। মহিলারা শাঁখ বাজিয়ে লোক জড়ো করেন।’’ পরে পুলিশকে ঘিরে শুরু হয় বিক্ষোভ, বোমাবাজি হয় বলেও অভিযোগ। পুলিশ শূন্যে গুলি চালায় বলে পাল্টা দাবি করেছেন গ্রামবাসীরা। পুলিশ গুলি চালানোর কথা মানেনি। ঘটনায় পাশাপাশি গোড়ামহল, বাকচা ও খিদিরপুর গ্রামেও উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি সামলাতে এলাকায় র‌্যাফ-সহ পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পরে গ্রেফতার করা হয়েছে দুই বিজেপি সমর্থক গোড়ামহলের গোপাল রাউত এবং বাকচার আশিস ভৌমিককে।

বিজেপি’র ময়না (দক্ষিণ) মণ্ডল সভাপতি অলক বেরার অভিযোগ, ‘‘বিজেপি সমর্থক ও নিরীহ গ্রামবাসীদের গ্রেফতার করছে পুলিশ। তাই গ্রামের লোক জোট বেঁধে পুলিশকে বাধা দিয়েছে।’’ ময়না ব্লক তৃণমূলের সভাপতি সুব্রত মালাকারের অবশ্য দাবি, ‘‘পুলিশের উপর আক্রমণে জড়িতদের ধরতেই ওই গ্রামে অভিযান হয়েছিল। এতে রাজনৈতিক পক্ষপাত নেই।’’ পুলিশও জানিয়েছে, নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই অভিযান চালানো হয়।

২১ আসনের বাকচা পঞ্চায়েতে তৃণমূল ১৫টি, বিজেপি ৩টি এবং নির্দল ৩টি আসনে জিতেছে। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও প্রধান পদ নিয়ে তৃণমূলের শুকলাল মণ্ডল এবং মিলন ভৌমিক গোষ্ঠীর বিরোধ বাধে। ২৪ সেপ্টেম্বর প্রধান নির্বাচনের দিন গোলমাল হয়। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে জখম হন নন্দকুমারের সার্কেল ইনস্পেক্টর তীর্থ ভট্টাচার্য এবং এক সিভিক ভলান্টিয়ার। শেষে শুকলাল ১১-১০ ব্যবধানে জিতে যান।

বারবার পুলিশ আক্রান্ত হচ্ছে কেন? তৃণমূলের জেলা সভাপতি শিশির অধিকারীর জবাব, ‘‘কিছু দুষ্কৃতি এই সব করছে। কারা জড়িত জানি না। তবে বিজেপির কোনও শক্তি নেই। বাকচার ৯০ শতাংশ মানুষ আমাদের সঙ্গে আছেন, আগামী ভোটে ফের তা প্রমাণ হয়ে যাবে।’’

TMC Police Moyna ময়না তৃণমূল
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy