পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) পর নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়নি। তবে জেলায় জেলায় তালিকাপ্রকাশ শুরু হয়ে গিয়েছে। বিভিন্ন জেলার জেলাশাসকের দফতরে তালিকা পৌঁছে গিয়েছে। আর কিছু ক্ষণের মধ্যেই অনলাইনেও তা দেখতে পাওয়া যাবে। সূত্রের খবর, দক্ষিণ কলকাতায় খসড়া তালিকা থেকে আপাতত ৩২০৭ জনের নাম বাদ পড়েছে। রাজ্যের সিইও দফতর থেকে বিকেল ৪টে নাগাদ সাংবাদিক বৈঠক করা হবে।
দক্ষিণ কলকাতায় ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত খসড়া তালিকায় নাম ছিল ৬ লক্ষ ৯১ হাজার, ৩০৬ জনের। এখন চূড়ান্ত তালিকায় নাম রয়েছে ৬ লক্ষ ৮৮ হাজার ৯৯ জনের। বিচারাধীন রয়েছেন ৭৮ হাজার ৬৫৭ জন।
শনিবার এসআইআরের প্রথম দফার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করছে কমিশন। ইতিমধ্যে পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসকের দফতরে তালিকা পৌঁছে গিয়েছে। বাঁকুড়ার বঙ্গ বিদ্যালয় বুথে তালিকা টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোচবিহারের এসডিও অফিস এবং এক ও দু’নম্বর ব্লকের বিডিও অফিসে টাঙানো হয়েছে তালিকা। হুগলিতেও তালিকা পৌঁছেছে। জেলাশাসকদের দফতর থেকে তালিকা তুলে দেওয়া হবে রাজনৈতিক দলগুলির হাতে। কমিশন সূত্রে খবর, প্রাথমিক ভাবে বিডিও অফিস এবং মহকুমাশাসকের দফতরে ওই তালিকা টাঙানো হচ্ছে। কলকাতার চূড়ান্ত তালিকা পাওয়া যাবে জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে। তবে এখনই বুথে বুথে ওই তালিকা মিলবে না। কমিশন জানিয়েছে, রবিবার থেকে বুথেও তালিকা দেখতে পাওয়া যাবে। বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও)-দের কাছে গিয়ে নাম দেখতে পারবেন ভোটারেরা।
প্রকাশিত তালিকায় নিজের নাম রয়েছে কি না, অনলাইন মাধ্যমেও দেখা যাবে। কমিশন সূত্রে খবর, খসড়া তালিকায় থাকা সব ভোটারের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। তবে সবাই ভোটার হিসাবে ‘যোগ্য’ নন। তালিকায় প্রত্যেক ভোটারের অবস্থা জানানো হয়েছে। যাঁদের নাম যাচাই করা হয়ে গিয়েছে, তাঁরা আপাতত যোগ্য ভোটার। যাঁদের নাম যাচাই হয়নি, তাঁদের নামের সঙ্গে ‘বিচারাধীন’ লেখা থাকছে। এ ছাড়া, খসড়া তালিকা প্রকাশের পর অভিযোগের ভিত্তিতে কিছু নাম মুছে ফেলা হয়েছে। সেই নামের পাশে লেখা আছে ‘ডিলিটেড’।
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ যতটা এগোবে, তার ভিত্তিতেই তালিকা প্রকাশ করে দিতে হবে। একেই চূড়ান্ত হিসাবে ধরা যাবে না। পরে ধাপে ধাপে আরও তালিকা প্রকাশ করা হবে। এসআইআর-এর তথ্যগত অসঙ্গতির বিচারের ভার কলকাতা হাই কোর্ট নিযুক্ত বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের হাতে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল জানিয়েছিলেন, আপাতত ৬০ লক্ষ নাম ‘বিচারাধীন’ হিসাবে রয়েছে।