Advertisement
E-Paper

নতুন বন্দরের জন্য নদীপথ

বেশ কিছু ধরে তাজপুর ও সাগরের বন্দর নিয়ে টানাপড়েন চলেছিল। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাজপুর ও সাগরে দু’টি বন্দর করার প্রস্তাব দেওয়ার পরে প্রথমটির ক্ষেত্রে সায় দিলেও সাগরে আপত্তি তুলেছিল কেন্দ্র।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৯ অক্টোবর ২০১৭ ০৩:১১
—ফাইল চিত্র।

—ফাইল চিত্র।

নদী ও সমুদ্রের মেলবন্ধন ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের প্রস্তাবিত তাজপুর ও সাগর সমুদ্র বন্দরকে লাভজনক করে তুলতে চায় কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় জাহাজমন্ত্রী নিতিন গডকড়ী জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গ সংলগ্ন সমুদ্রকে কাজে লাগিয়ে পণ্য পরিবহণ ও রফতানির একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের।

বেশ কিছু ধরে তাজপুর ও সাগরের বন্দর নিয়ে টানাপড়েন চলেছিল। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাজপুর ও সাগরে দু’টি বন্দর করার প্রস্তাব দেওয়ার পরে প্রথমটির ক্ষেত্রে সায় দিলেও সাগরে আপত্তি তুলেছিল কেন্দ্র। যুক্তি ছিল, একেবারে পাশাপাশি দু’টি বন্দর লাভজনক হবে না। শেষে অবশ্য দু’টিতেই সায় দিয়েছে কেন্দ্র।

আনন্দবাজারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গডকড়ী বলেন, ‘‘আমরা কোনও প্রস্তাবই প্রত্যাখ্যান করিনি। প্রথম দফায় তাজপুর বন্দর হবে। সে’টি লাভজনক হয়ে উঠলে সাগর বন্দরের কাজে হাত দেওয়া হবে।’’

তাজপুরের বন্দরকে দ্রুত লাভজনক করে তুলতেই বারাণসী থেকে সাহেবগঞ্জ হয়ে হলদিয়া পর্যন্ত গঙ্গায় জলপথে পণ্য চলাচল দ্রুত চালু করতে চাইছেন নিতিন। তাঁর যুক্তি, ‘‘বারাণসী, সাহেবগঞ্জ, হলদিয়ায় পণ্য ওঠানামার জন্য বহুমুখী টার্মিনাল তৈরির কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। হলদিয়ার টার্মিনালের সঙ্গে সড়ক ও রেল পথে আমরা তাজপুরকেও জুড়ে দিতে চাই। তা হলে তাজপুরের লাভজনক হয়ে উঠতে দেরি হবে না।’’

পরে হবে বলে সরিয়ে রেখে সাগর বন্দর আসলে বানচাল করে দেওয়া হচ্ছে, এমন অভিযোগও মানতে নারাজ নিতিন। তাঁর বক্তব্য, দ্বিতীয় দফায় হলেও সাগর বন্দরের অনুমতি ইতিমধ্যেই দেওয়া রয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘সাগর বন্দরকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করতে মুড়িগঙ্গা নদীর উপরে সেতু তৈরি করতে হবে। তার খরচও আমরাই দেব।’’

সরকারি সূত্রের খবর— বারাণসী-হলদিয়া ১,৬২০ কিলোমিটার জলপথে টার্মিনাল, ফরাক্কায় পণ্য চলাচলের ব্যবস্থা বা ‘নেভিগেশন লক’ এবং রাতে পণ্য পরিবহণের পরিকাঠামো তৈরির জন্য প্রায় ৪,২০০ কোটি টাকা খরচ হবে। খোদ প্রধানমন্ত্রীর দফতর কাজের অগ্রগতিতে নজর রাখছে। এইসব কাজ ২০১৮-র মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। এর মধ্যে, তাজপুর বন্দরের ‘টেকনো ইকনমিক ফিজিবিলিটি রিপোর্ট’ তৈরি করে মন্ত্রিসভার অনুমোদনও মিলে যাবে বলে জাহাজ মন্ত্রকের আশা। সে ক্ষেত্রে ২০১৯-এই তাজপুর বন্দর তৈরির কাজ শুরু সম্ভব।

গজকড়ী জানান, এখন গঙ্গায় দেড় থেকে দু’হাজার টনের পণ্যবাহী বার্জ চলে। জার্মান সংস্থার নকশা করা ৪ হাজার টন পণ্যবাহী বার্জও চালু করতে চান তিনি। তার জন্য গঙ্গায় ড্রেজিং করা হবে। তাঁর যুক্তি, নদীপথে পণ্য পরিবহণে খরচ অনেকটাই কম হওয়ায় রফতানিকারীরা এই পথে পণ্য পাঠাতে আগ্রহী হবেন।

তাজপুর Tajpur Waterway Sagar Port Nitin Gadkari নিতিন গডকড়ী Mamata Banerjee
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy