এক দিকে আর্থিক উৎসাহের ভরসা। অন্য দিকে জমি সংস্থানের পরিকল্পনা। পশ্চিমবঙ্গে শিল্পমহলকে ভরসা জোগাতে শুক্রবার এই দু’টি বিষয় নিয়ে একসঙ্গে বার্তা দিল রাজ্য ও কেন্দ্রের বিজেপি সরকার।
বেঙ্গল চেম্বারের ‘বিকশিত বাংলা’ অনুষ্ঠানে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত জানান, তিন-চার সপ্তাহের মধ্যেই শিল্পে উৎসাহদান নীতি (ইনসেনটিভ পলিসি) প্রকাশ করতে পারেন তাঁরা। ১০০ কোটি টাকার বেশি লগ্নির প্রস্তাবগুলিকে দ্রুত এক জানালা ছাড়পত্র-সহ একাধিক আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হবে। নতুন জমি নীতি, জিসিসি নীতি-সহ বাকিগুলি আগামী তিন মাসের মধ্যে আসবে বলে খবর। স্বপনের আশ্বাস, শিল্পের স্বার্থেই জমি অধিগ্রহণের ঊর্ধ্বসীমা রাখবে না সরকার।
একই মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক উপদেষ্টা সঞ্জীব সান্যাল কলকাতা শহরাঞ্চলে নতুন শিল্প তৈরির লক্ষ্যে অব্যবহৃত জমি পুনর্বব্যবহারের পরিকল্পনায় জোর দিয়েছেন। তাঁর বার্তা, বাংলার শিল্পায়নের চাকা গড়িয়েছে মূলত কলকাতা শহরকে কেন্দ্র করে। সেই মডেলই থাকা প্রয়োজন। তার জন্য শহরের কাছে জমি দরকার। যা অপ্রতুল। সঞ্জীবের বক্তব্য, তাই শহর বা তার আশেপাশে সেই সব জমি খুঁজে বার করতে হবে, যা অব্যবহৃত অবস্থায় শিল্প সংস্থার কাছে পড়ে। আইনি জটিলতায় পড়ে থাকা জায়গাগুলিকেও শিল্পের জন্য ব্যবহার করা যায়। উদাহরণ হিসেবে তিনি হিন্দুস্তান মোটরস, ডানলপ, এনটিপিসি-র কথা উল্লেখ করেন। এই নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আগামী সপ্তাহে রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়কে রিপোর্ট দেবেন। শিল্পের জন্য যে বহুফসলি জমি নেওয়া হয় না, তা উল্লেখ করেছেন সঞ্জীব। বলেছেন, “আমাদের দেশে পূর্ব ও পশ্চিম দিকের মধ্যে ফারাক অনেকটাই। যা দূর করতে উদ্যোগী হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তার ফল বাংলাও পাবে।”
বিজেপি সরকার লগ্নি টানতে শিল্প সম্মেলনের মতো অনুষ্ঠান করবে বলে জানিয়েছেন স্বপন। সূত্রের খবর, চলতি বছরে পুজোর আগে হতে পারে এই সম্মেলন। থাকতে পারেন দেশ-বিদেশের প্রথম সারির শিল্পকর্তারা। অর্থমন্ত্রী বলেন, “পূর্বতন সরকারের আমলে রাজ্যে সর্বস্তরের মানুষের সামাজিক জীবনের যে অপরাধীকরণ হয়েছে, তা বদল করবে এই সরকার। এখন সরকারের সিদ্ধান্ত আপনার পছন্দ না হলে বলতে পারেন। সরকার খোলা মনে গ্রহণ করবে।” টাটাদের বিদায়ের পরে রাজ্যের ছবিতে যে কালো দাগ পড়েছে, তা মুছতে তাঁরা বদ্ধপরিকর বলেও জানান তিনি। তাপস বণিকমহলকে আহ্বান করেছেন রাজ্যের সঙ্গে হাত মিলিয়ে শিল্পায়নের পথে এগিয়ে যেতে। কারণ, সরকারের একার পক্ষে শিল্পবান্ধব পরিবেশ গঠন সম্ভব নয়।
অনুষ্ঠানে একাধিক প্রথম সারির সংস্থা বাংলায় তাদের বর্তমান লগ্নির কথা জানিয়েছে। যেমন বার্জার পেন্টস ৩৫০-৬০০ কোটি টাকায় পানাগড়ে পঞ্চম কারখানা গড়ছে। পিয়ারলেস গোষ্ঠী হাসপাতাল, আবাসন, হোটেল ক্ষেত্র মিলিয়ে ১০০০ কোটি টাকা ঢালার কথা বলেছে আগামী ২০৩০-এর মধ্যে। হলদিয়া পেট্রোকেম ৬০০০ কোটিতে দেশের বৃহত্তম ফেনল এবং অ্যাসিটোন কারখানা চালু করছে হলদিয়ায়। এ ছাড়াও, এলঅ্যান্ডটি তথ্যপ্রযুক্তি তালুক, ডেটা সেন্টার তৈরির কথা জানিয়েছে। লগ্নি হতে পারে প্রায় ৪৫০০ কোটি টাকা। এই নিয়ে আগামী মাসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করতে আসবেন সংস্থার এমডি।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)