E-Paper

চিকিৎসা পর্যটনে উৎসাহী বেসরকারি সংস্থাগুলিও

এত দিন হাসপাতাল তৈরিতে বিনামূল্যে জমি মিললে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি হাসপাতালের মোট শয্যার ১০ শতাংশ সরকারকে ব্যবহার করতে দেওয়ার নিয়ম ছিল। যদিও তা মানা হয়নি কখনও।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ জুন ২০২৬ ০৭:২৯

—প্রতীকী চিত্র।

রাজ্যে বিদেশি রোগীর সংখ্যা বাড়লেও চিকিৎসা পর্যটন নিয়ে তেমন কোনও সরকারি পদক্ষেপ বা পরিকল্পনা ছিল না। যদিও বিষয়টি নিয়ে দাবি উঠছিল বিভিন্ন মহলেই। গত সোমবার নতুন সরকারের প্রথম বাজেটে রাজ্যে বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে চিকিৎসা পর্যটনের ঘোষণায় আশার আলো দেখছে বেসরকারি সংস্থাগুলি। তবে, বাজেটে উল্লিখিত মোট শয্যার প্রায় অর্ধেক সরকারকে দেওয়ার বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয় বলেই দাবি বিভিন্ন হাসপাতাল গোষ্ঠীর।

এত দিন হাসপাতাল তৈরিতে বিনামূল্যে জমি মিললে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি হাসপাতালের মোট শয্যার ১০ শতাংশ সরকারকে ব্যবহার করতে দেওয়ার নিয়ম ছিল। যদিও তা মানা হয়নি কখনও। এ বারের বাজেটে বলা হয়েছে, অন্তত ৫০ শতাংশ শয্যা বিনামূল্যে বা ভর্তুকিযুক্ত মূল্যে সরকারকে দেবে বেসরকারি সংস্থাগুলি। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার বলেন, ‘‘বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের জমি-সহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে শুধু ৫০ শতাংশ শয্যা চেয়েছে সরকার। সেটা মানুষের স্বার্থে। যাতে সরকারি শয্যা আরও বৃদ্ধি পায়।’’ আগামী দিনে বিষয়টি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলেই খবর।

‘অ্যাসোসিয়েশন অব হসপিটালস’-এর পূর্বাঞ্চলীয় সভাপতি রূপক বড়ুয়া বললেন, ‘‘এ রাজ্যে চিকিৎসা পর্যটনের প্রভূত সম্ভাবনা, চাহিদা রয়েছে। শেষ কয়েক বছরে বেঙ্গল গ্লোবাল বিজ়নেস সামিটে এবং ব্যক্তিগত ভাবেও বিগত সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছি। কিন্তু কিছু হয়নি।’’ উপযুক্ত নীতিগত সহায়তা, রোগী পরিষেবা ব্যবস্থার সরলীকরণ এবং স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় ক্রমাগত বিনিয়োগের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম পছন্দের ‘মেডিক্যাল ভ্যালু ট্র্যাভেল’ গন্তব্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে বলে মত ডিসান হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর সজল দত্তের।

অত্যাধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি, দক্ষ চিকিৎসক, তুলনামূলক কম খরচের কারণে প্রতি বছর বিশেষত, দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু ও কলকাতায় কয়েক হাজার বিদেশি রোগী চিকিৎসার জন্য আসছেন। ফলে, চিকিৎসা পর্যটন দেশের স্বাস্থ্য ও অর্থনীতির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যা ঘিরে ব্যবসার পরিমাণও প্রতি বছর গড়ে ৪০ শতাংশ করে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কেন্দ্রের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিদেশি রোগীদের ৮০-৮৫ শতাংশই বাংলাদেশি। নেপাল, ভুটান, মায়ানমার থেকেও রোগীরা আসছেন। খুব কম হলেও রোগীরা আসেন আফ্রিকা থেকেও। চিকিৎসা পর্যটনে বিনিয়োগ বাড়লে পরিষেবা-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান হবে। একই সঙ্গে রাজ্যের পর্যটনস্থলগুলিতেও বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে। তবে, রাজ্যে চিকিৎসা পর্যটনের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি করতে বিদেশ থেকে কলকাতায় সরাসরি বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার উপরেও জোর দিচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Medical Hospital

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy