কলকাতা পুলিশের কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষায় টুকলিকাণ্ডের তদন্তে নেমে প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িতদের সন্ধান পেল পুলিশ। পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশের একটি সূত্রে খবর, কাটোয়ায় ওই চক্রের হদিস পাওয়া গিয়েছে। আবার ওই সূত্র ধরে উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটা থানার পুলিশ মোট ১২ জনকে গ্রেফতার করেছে। সোমবার তাঁদের বনগাঁ আদালতে হাজির করানো হয়। ধৃতদের মধ্যে বর্ধমান ছাড়াও নদিয়ার বাসিন্দা আছেন।
গত রবিবার ছিল কলকাতা পুলিশের কনস্টেবল নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা। চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে ছিলেন পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটের কুলসোনা গ্রামের বাসিন্দা সুতপা হালদার। তাঁর পরীক্ষাকেন্দ্র ছিল কাটোয়ার দাঁইহাট গার্লস হাই স্কুলে। পরীক্ষা শুরুর আগে তল্লাশির সময় কর্তব্যরত মহিলা এএসআই এবং মহিলা কনস্টেবলের সন্দেহ হয়। তাঁরা সুতপার পায়ের মোজার ভিতর থেকে টুকলি উদ্ধার করেন। সেখানে প্রশ্ন এবং উত্তর লেখা ছিল। জানা যায়, ওই প্রশ্নগুলি পরীক্ষাতেও এসেছিল। পরীক্ষায় নকল করার চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার হন সুতপা।
সুতপাকে জেরা করে পুলিশ জানতে পারে, কাটোয়ার মুলটি গ্রামের বাসিন্দা জাকির মণ্ডলের কাছ থেকে তিনি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে চাকরির পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পেয়েছিলেন তিনি। জাকির নিজেও কলকাতা পুলিশের কনস্টেবল পদের জন্য পরীক্ষা দিয়েছেন। তাঁর পরীক্ষাকেন্দ্র পড়েছিল পূর্বস্থলী এলাকায়। সুতপার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার গভীর রাতে কাটোয়ার মুলটি গ্রাম থেকে জাকিরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশি জেরায় ধৃত জানিয়েছেন, কাটোয়া শহরের কাছারি রোড এলাকার একটি কোচিং সেন্টারে পড়াশোনার সময় কয়েক জনের সঙ্গে যোগাযোগ হয় তাঁর। ওই চক্রটি চাকরির পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও উত্তর বিক্রি করত। সেখান থেকেই কনস্টেবল নিয়োগের পরীক্ষার প্রশ্ন এবং উত্তপ পেয়েছিলেন। পুলিশ সূত্রে খবর, চক্রের মাথা কে বা কারা, তারা জানতে পেরেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই তাঁর নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না।
আরও পড়ুন:
সোমবার ধৃতদের কাটোয়া আদালতে হাজির করানো হলে বিচারক সুতপাকে জেল হেফাজত এবং জাকিরকে একদিনের জন্য পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
একই ভাবে উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্রে নকল করতে গিয়ে কয়েক জন পরীক্ষার্থী ধরা পড়েছে। যেমন চাঁদপাড়া বাণী বিদ্যাবীথি, গাইঘাটা উচ্চ বিদ্যালয়, গোয়ালবাথান উচ্চ বিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিতে যাওয়া কয়েক জন বিভিন্ন বৈদ্যুতিন যন্ত্র নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢুকেছিলেন। পরীক্ষকেরা ধরে ফেলেন। পরে পুলিশ গিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেছে।
তদন্তকারীদের অনুমান, এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা হলেও নেপথ্যে একটি বড় কোনও চক্র ছিল। তারা বিভিন্ন পরীক্ষার্থীকে উত্তরপত্র সরবরাহ করেছে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে।