E-Paper

মাদক চক্রে সাঁড়াশি হানা এসটিএফ-এর

পাকড়াও করা হয় তাদের এক সঙ্গীকেও। ঘটনার তদন্তে নেমে এসটিএফের অফিসারেরা মাদক তৈরির একটি কারখানার সন্ধানও পান।

শিবাজী দে সরকার

শেষ আপডেট: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:৫০
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ।

পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। ফাইল চিত্র।

এক দিকে মাদক আইনে মামলা দায়ের, গ্রেফতারি এবং দ্রুত বিচার। অন্য দিকে মাদকচক্রের মাথাদের সম্পত্তি নিয়েও তদন্ত। রাজ্যে মাদক পাচারচক্রের বিরুদ্ধে এমনই সাঁড়াশি আক্রমণ করেছিল রাজ্য পুলিশের এসটিএফ। সূত্রের খবর, মাদক পাচারের জন্য ধরপাকড় তো হয়েইছে। উপরন্তু, আর্থিক তদন্তে মাদক কারবারে যুক্ত এক দম্পতির প্রায় ৩১ কোটি টাকার সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করার সুপারিশ করেছিলেন এসটিএফের গোয়েন্দারা। যার ভিত্তিতে আয়কর দফতর ওই সম্পত্তি ‘ফ্রিজ়’ করেছে বলেও সূত্রের দাবি।

পুলিশ সূত্রের খবর, চার বছর আগে মুর্শিদাবাদের নবগ্রাম থেকে মর্জিনা খাতুন এবং মহম্মদ আশরফ আলি নামে এক দম্পতিকে এক কিলো সাতশো গ্রাম হেরোইন-সহ গ্রেফতার করা হয়েছিল। পাকড়াও করা হয় তাদের এক সঙ্গীকেও। ঘটনার তদন্তে নেমে এসটিএফের অফিসারেরা মাদক তৈরির একটি কারখানার সন্ধানও পান। ধৃতদের কাছ থেকে নগদ পাঁচ লক্ষ টাকাও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। সেই প্রথম মাদক কারবারিদের সম্পত্তি নিয়ে আর্থিক তদন্ত শুরু হয়।

গোয়েন্দারা জানান, মাদক দমন আইনের ৬৮ নম্বর ধারা অনুযায়ী রাজ্যের মাদকের কারবারিদের বিরুদ্ধে ওই আর্থিক তদন্ত শুরু করা হয়েছিল। এই আইন অনুযায়ী, আর্থিক তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ডিএসপি পদের এক অফিসারকে। মর্জিনা এবং আশরফের আয়ের উৎস, সম্পত্তি— সব কিছু নিয়েই তদন্ত হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সম্পত্তির গ্রহণযোগ্য নথি মর্জিনা ও আশরফ দেখাতে পারেননি। সব মিলিয়ে প্রায় ৩১ কোটি টাকার সম্পত্তির হদিস পান গোয়েন্দারা। তার মধ্যে দু’টি হোটেল আছে। সন্ধান পাওয়া যায় ন’টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের। পুলিশ সূত্রের দাবি, মর্জিনা এবং আশরফ দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসায় জড়িত। মাদক বেচার টাকা দিয়েই এই সম্পত্তি করা হয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্রের খবর, শুধু মর্জিনা, আশরফের সম্পত্তি নয়, বড় মাপের যে কোনও মাদক কারবারিকে ধরা হলেই সম্পত্তি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। নদিয়া-মুর্শিদাবাদের যে তিন মাদক কারবারিকে এসটিএফ গ্রেফতার করেছে তাঁদের সম্পত্তি নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে।

‘‘সাধারণ পাচারকারীদের নিয়ে মাথা ব্যথা নেই। আমাদের লক্ষ্য রাঘব বোয়ালদের কাবু করা,’’ বক্তব্য এক পুলিশকর্তার। তাঁর বক্তব্য, মাদক কারবারিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে পারলেই এই চক্রের মূলে আঘাত করা যাবে। তার ফলে কোনও ভাবে জামিনে ছাড়া পেলেও ওই কারবার ফের শুরু করতে পারবে না। এ ছাড়া, মাদক আইনে দ্রুত তদন্ত ও বিচারের কাজ যেমন চলছে, তা-ও চলবে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

STF

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy