Advertisement
E-Paper

পুনর্বাসন পেলে জমি দেবে না কেন: মুখ্যমন্ত্রী

বাঁকুড়ার জেলাশাসক মৌমিতা গোদারা বসু অবশ্য মুখ্যমন্ত্রীকে জানান, জেলায় ওই প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। বেশ কিছু জটিলতা ইতিমধ্যেই মেটানো গিয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৮ মার্চ ২০১৮ ০৪:২৭

উন্নয়নের স্বার্থে জমি অধিগ্রহণ যে জরুরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই এখন তা মানছেন। সিঙ্গুরে জমি আন্দোলন করে সাফল্যের শিখরে পৌঁছেছেন তিনি। নন্দীগ্রামেও জমিজটে পৌঁছয়নি রেল। সেই মমতা এখন মুখ্যমন্ত্রী। এবং রেলমন্ত্রী থাকাকালীন তাঁরই নেওয়া বিষ্ণুপুর-তারকেশ্বর প্রকল্প থমকে রয়েছে জমি না মেলায়।

বুধবার বাঁকুড়ার প্রশাসনিক বৈঠকে সে কথা তুলে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, ‘‘কেন একটা জায়গায় কয়েকটা মানুষ এটা করতে দিচ্ছে না? পুনর্বাসন পাচ্ছে। টাকা পাচ্ছে। আর কী দরকার?’’ মুখ্যসচিবকে তিনি জেলা প্রশাসনগুলির সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার নির্দেশ দেন। এ দিন বাঁকুড়ার পুলিশ লাইনে ওই বৈঠক হয়। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘রেল প্রোজেক্টটা না হলে জয়রামবাটি, কামারপুকুর, তারকেশ্বর কোনও দিনই যুক্ত হবে না। বাঁকুড়ার মানুষ কি চান না রেল প্রোজেক্টটা হোক?’’ বাঁকুড়ার জেলাশাসক মৌমিতা গোদারা বসু অবশ্য মুখ্যমন্ত্রীকে জানান, জেলায় ওই প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। বেশ কিছু জটিলতা ইতিমধ্যেই মেটানো গিয়েছে।

হাওড়া থেকে বিষ্ণুপুর পর্যন্ত ১২৪ কিলোমিটার রেলপথ তৈরি হওয়ার কথা। সে জন্য হুগলির গোঘাটে ভাবাদিঘির উত্তর দিকের একাংশ বুজিয়ে লাইন পাততে চায় রেল। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, দিঘি বুজিয়ে নয়, দিঘির উত্তর দিকের জমি দিয়েই রেললাইন পাতা হোক। সেই দাবিতে আন্দোলনও শুরু হয়। টানাপড়েনে থমকে যায় কাজ। এ দিনের বৈঠকে সেই প্রসঙ্গেই জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

এই প্রকল্পে বাঁকুড়ার অংশে বিশেষ জটিলতা নেই বলে দাবি জেলার প্রশাসনের। তবে ভাবাদিঘির ব্যাপারে হুগলির জেলাশাসক সঞ্জয় বনশল বলেন, ‘‘ওখানে কাজ করার ব্যাপারে আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।’’ প্রশাসন সূত্রের খবর, ভাবাদিঘিতে রেলের কাজ হলে ১.৮ একর জমিতে সমস্যা হতে পারে। গ্রামবাসীদের ইতিমধ্যেই বলা হয়েছে, যে অংশ রেলের কাজের জন্য প্রভাবিত হবে, তার উল্টো দিকে জমি কিনে আরও অনেক বড় দিঘি খনন করা হবে। দেখা হবে, মৎস্যজীবী বা দিঘির উপরে নির্ভরশীল কেউ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন।

বাঁকুড়ার অংশে কাজ কতদূর? জয়পুর থেকে জয়রামবাটির হলদি পর্যন্ত রেলপথ হবে মোট ৪৬ কিলোমিটার। প্রথম পর্যায়ে ২৬ কিলোমিটারের জন্য অধিগ্রহণ হয়ে গিয়েছে। কয়েক মাস আগে দ্বিতীয় দফায় আরও ১০ কিলোমিটারের জন্য রেল প্রস্তাব পাঠিয়েছে। প্রশাসনের এক কর্তা জানান, এই দফায় যাঁদের জমি অধিগ্রহণ করা হবে, তাঁদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তাঁরা রেলকে জমি দিতে সম্মত। অধিগ্রহণের কাজ জলদিই মিটবে। এর পরেও বাকি থাকবে ১০ কিলোমিটার পথ। রেলের তরফে পরের দফার অধিগ্রহণের প্রস্তাব এলে সেই কাজ শুরু হবে।

CM Mamata Banerjee মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy