Advertisement
E-Paper

অভ্যর্থনায় ভাসলেন মন্ত্রী

সিকিমের সম্মেলনে যাওয়ার পথে বিমানবন্দরে তৃণমূলের বাইক মিছিল দেখে ভিনরাজ্যের কৃষিমন্ত্রীরা কেউ চমকে গেলেন। কেউ থমকে গেলেন। অনেকে ভাবছিলেন তাঁদের নিয়ে যেতে হয়তো বাইক মিছিল হবে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৮ জানুয়ারি ২০১৬ ০৩:৩০
দলের কর্মী-সমর্থকেরা অভ্যর্থনা মন্ত্রীকে।

দলের কর্মী-সমর্থকেরা অভ্যর্থনা মন্ত্রীকে।

সিকিমের সম্মেলনে যাওয়ার পথে বিমানবন্দরে তৃণমূলের বাইক মিছিল দেখে ভিনরাজ্যের কৃষিমন্ত্রীরা কেউ চমকে গেলেন। কেউ থমকে গেলেন। অনেকে ভাবছিলেন তাঁদের নিয়ে যেতে হয়তো বাইক মিছিল হবে। সিআইএসএফ-এর আধিকারিকেরা খোঁজ নিয়ে তাঁদের জানালেন কৃষিমন্ত্রীদের নিয়ে যেতে মোটরবাইক র‌্যালি নয়, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী গৌতম দেব বাইপাস সার্জারি করিয়ে সুস্থ হয়ে শহরে ফিরছেন। তাঁকে অভ্যর্থনা এবং সংবর্ধনা জানাতে দলের কর্মী-সমর্থকেরা ওই মোটরবাইক র‌্যালির আয়োজন করেছে। যা শুনে কৃষিমন্ত্রীদের কেউ ভ্রূ কুঁচকেছেন, আধিকারিকদের কেউ বা মুখ টিপে হেসেছেন। তবে প্রকাশ্যে তা নিয়ে কোনও মন্তব্য কেউ করতে চাননি।

উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী আসার কয়েক ঘণ্টা আগে থেকেই বিমানবন্দরে ঢোকার মুখে যাতায়াতের রাস্তায় ১২০০ বাইক নিয়ে তৃণমূলের কর্মী সমর্থকেরা দাঁড়িয়ে ছিলেন। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী আসার আগেই কৃষিমন্ত্রীরা বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে তাঁদের দেখেছেন। এমনকী বিমানবন্দর থেকে বেরনোর সময় ওই রাস্তার বাইক বাহিনী আটকে রাখায় গাড়ি চলাচলেও সমস্যা হচ্ছিল। গৌতম দেব এসে নামেন আড়াইটের পরে। জেলা নেতৃত্বের অনেকে তাঁকে স্বাগত জানান। সাড়ে তিনটে নাগাদ গৌতম দেবকে নিয়ে র‌্যালি বেরোয় বিমান বন্দর থেকে। ফলে সেই শোভাযাত্রার পিছনে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক জুড়ে গাড়ির লাইন পড়ে যায়। বিমানবন্দর থেকে শিলিগুড়ি শহরে ঢোকা পর্যন্ত মন্ত্রীকে ছ’জায়গায় অভ্যর্থনা জানানো হয়।

তবে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে এই সংবর্ধনার আয়োজনে বিরোধীদের অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, চিকিৎসা করিয়ে ফেরার পর মন্ত্রীর অভ্যর্থনার এই আয়োজন কি যুক্তিযুক্ত। প্রশ্নে অস্বস্তির মুখে পড়েছে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বও। তাঁরাও প্রশ্ন করেছেন, ‘‘হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ফেরার সঙ্গে ঘটা করে সংবর্ধনার সম্পর্ক কী!’’

যদিও তা সত্ত্বেও বাগডোগরা স্টেশনের কাছে জাতীয় সড়কের ধারে মঞ্চ বেঁধে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছিল নকশালবাড়ি ব্লক যুব তৃণমূলের পক্ষে। পৌনে চারটে নাগাদ মন্ত্রী পৌঁছলে ফুলের তোড়া দিয়ে, মালা পড়িয়ে তাঁকে স্বাগত জানানো হয়। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী শুক্লা দেবও। প্রায় প্রতিটি মঞ্চেই দু’এক মিনিট করে বক্তব্য রাখেন উত্তরবঙ্গ উন্ননয় মন্ত্রী। সংবর্ধনা চলার সময় প্রতি ক্ষেত্রেই বাইক র‌্যালি রাস্তা জুড়ে দাঁড়িয়ে থাকে। তাতে জাতীয় সড়কে আটকে পড়ে যাতাযাতকারী গাড়িগুলি। শিবমন্দির, খাপরাইলমোড়, শিলিগুড়ি জংশন স্টেশন মোড়, মাল্লাগুড়ি, হাসমি চক মোড়েও সংবর্ধনা সভার আয়োজন করা হয়েছিল। মাটিগড়ার খাপরাইলে যুব তৃণমূলের তরফে মন্ত্রীকে দিয়ে বেলুন ওড়ানো, পায়রা ওড়ানো হয়।

মাস দুয়েক চিকিৎসার প্রয়োজনে গৌতমবাবুকে গুড়গাঁওয়ের মেদান্তে এবং কলকাতায় থাকতে হয়। তিনি এ দিন বলেন, ‘‘আগে কখনও একটানা এত দিন বাইরে থাকতে হয়নি। সুস্থ হয়ে ফিরে এত মানুষের অভ্যর্থনা পেয়ে ভাল লাগছে। উন্নয়নের কাজ তড়িৎ গতিতে শুরু হবে। মুখ্যমন্ত্রীও ২১ জানুয়ারি উত্তরবঙ্গে আসছেন, শিলিগুড়ি এবং সংলগ্ন এলাকায় অনেক বড় প্রকল্পের ঘোষণা হবে।’’

এ দিন হাসমিচকে সংবর্ধনা পর্ব সেরে সেখান থেকেই মন্ত্রী যান তরাই তারাপদ স্কুলের মাঠে সুব্রত কাপ ফাইনালের পুরস্কার বিলির অনুষ্ঠানে। সেখান থেকে বাড়িতে। দলের জেলা কমিটির তরফে এ দিনের আয়োজন করা হয়নি বলে শনিবার বিবৃতি দিয়েছিলেন তৃণমূলের দার্জিলিং জেলা সভাপতি রঞ্জন সরকার। এ দিন অবশ্য সুর বদলে তিনি বলেন, ‘‘যুব তৃণমূলকে দিয়েই মন্ত্রীকে অভ্যর্থনা, সংবর্ধনা জানানোর আয়োজন করা হয়েছে। রবিবার যান চলাচল কম থাকে বলেই বাইক র‌্যালি করা হয়েছে। তাতেও যদি যান চলাচলে এবং সাধারণ মানুষের কোনও সমস্যা হয়ে তাকে তার জন্য আমরা দুঃখিত।’’

ub sikkim programme minister
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy