উলুখাগড়া নন তিনি। ব্যারাকপুর মোহনপুরের এক শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের প্রধান শিক্ষিকা। বৃহস্পতিবার স্কুলে দুই তৃণমূল নেতার বিতণ্ডার মধ্যে পড়ে অসুস্থ হয়ে পড়লেন তিনি। এখন ভর্তি আছেন ব্যারাকপুর হাসপাতালে।
ওই স্কুলে সরকারি অনুদানের টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার তা নিয়ে স্কুলেই কাজিয়া বেধে যায় উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের সদস্যা তাপসী চট্টোপাধ্যায়ের স্বামী মিঠু চট্টোপাধ্যায় এবং মোহনপুর পঞ্চায়েতের উপপ্রধান নির্মল করের মধ্যে। প্রধান শিক্ষিকা অঞ্জলি রায়চৌধুরীকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মিঠুবাবুর বিরুদ্ধে। ব্যারাকপুর বি এন বসু হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানান, ওই শিক্ষিকার স্নায়ুর রোগ আছে। মানসিক চাপ নিতে না-পেরেই এ দিন অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞেরা তাঁকে দেখছেন। অঞ্জলিদেবী বলেন, ‘‘স্কুল উন্নয়নে অনুমোদিত ছ’লক্ষ ২১ হাজার টাকা খরচের দায়িত্ব নিতে চান মিঠুবাবু। আমরা বলেছিলাম, প্রশাসনিক কর্তাদের হাত দিয়ে খরচ করতে হবে। তার পরেই উনি আমাদের উপরে চড়াও হন।’’ মিঠুবাবুর বক্তব্য, টাকাটা জেলা পরিষদের মাধ্যমে এসেছিল। ‘‘আমি জানতে চেয়েছিলাম, কেন ওই টাকা ফেলে রাখা হয়েছে। আমাকে গালিগালাজ করা হয়। নির্মলবাবুও আমার উপরে চড়াও হন,’’ পাল্টা অভিযোগ মিঠুবাবুর।
মিঠুবাবু স্থানীয় বিধায়ক মঞ্জু বসুর ঘনিষ্ঠ এবং তৃণমূল সেবাদলের নেতা। আর নির্মলবাবু এলাকায় তৃণমূলের সংগঠন সামলান। দু’জনের সম্পর্ক আদায়-কাঁচকলায়। নোয়াপাড়ার বিধায়ক মঞ্জুদেবী বলেন, ‘‘এ দিন ঠিক কী হয়েছে, খোঁজ নিয়ে নিশ্চয়ই ব্যবস্থা নেব। কিছু হয়ে থাকলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে প্রশাসনও।’’