মানবিকতা বড় না কি প্রশাসনিক ফাঁস, এ প্রশ্ন তুলে দিল করলা ছিটমহল।
৩১ জুলাই মধ্যরাতে স্বাধীনতার স্বাদ পাবেন ছিটমহলের বাসিন্দারা। তার জন্য এখন প্রহর গোনা চলছে। কিন্তু সেই সন্ধিক্ষণেই এত বছরের যন্ত্রণার রোজনামচা যেন আরও একবার ছুঁয়ে গেল বাংলাদেশি ছিটমহল করলার বাসিন্দাদের। কাঁটাতারের বেড়ায় প্রায় ২৪ ঘণ্টা কোনও চিকিৎসাই পেল না কুকুরের কামড়ে জখম একটি শিশু।
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত নির্ধারণে যে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া রয়েছে, তার ওই পাশে বেশ কিছু ভারতীয় গ্রাম রয়েছে। সেখানেই বাংলাদেশি ছিটমহল করলা। শনিবার বিকেলে ওই ছিটমহলের বাসিন্দা সাড়ে চার বছরের একটি মেয়ে আস্মিতা খাতুনকে। অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁর পরিবারের সদস্যরা তাঁকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরের দিনহাটা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার তোড়জোড় শুরু করে। ওই শিশুটির বাবা হাসানুর রহমান কাঁটাতারের ছ’নম্বর গেটে থাকা কর্তব্যরত বিএসএফ জওয়ানদের সব জানান। কোম্পানি কমান্ডারের কাছেও খবর যায়। কিন্তু এ বিষয়ে তারা অনুমতি দিতে পারবে না বলে জানিয়ে দেয় বিএসএফ। রাতেই ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির কাছে অভিযোগ জানায় শিশুটির পরিবার। তাদের হস্তক্ষেপে শেষ অবধি রবিবার বিকেলে চিকিৎসকদের একটি দল ওই ছিটমহলে গিয়ে তাকে প্রতিষেধক দেয়।
ছিটমহল বিনিময় যখন সময়ের অপেক্ষা, সেই সময় এমন ঘটনায় বিএসএফের বিরুদ্ধে অমানবিকতার অভিযোগ তুলেছে বিভিন্ন মহল। ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির প্রশ্ন, ১৬ জুলাই দুই দেশের ১৬২টি ছিটমহলে জনগণনার কাজ শেষ হয়েছে। ওই শিশুর পরিবার ভারতের বাসিন্দা হওয়ার জন্য মত দিয়েছেন। এর পরেও কেন তাঁদের হাসপাতালে যেতে বাধা দেওয়া হল? বিএসএফের তরফে দাবি করা হয়েছে, এ ব্যাপারে তাদের কিছু করণীয় নেই। তাদের যেমন নির্দেশ রয়েছে, সে হিসেবেই সীমান্তের জওয়ানেরা কাজ করছেন। ওই শিশুর পরিবার এখনও বাংলাদেশের নাগরিক। সে ক্ষেত্রে তাঁরা ভারতের ভিতরে কোনও হাসপাতালে যেতে অনুমতি দিতে পারেন না। বিএসএফের কোচবিহার রেঞ্জের এক আধিকারিক বলেন, “বিএসএফ ওই শিশুকে ওষুধ দিয়ে সহযোগিতা করেছে। অনুমতি ছাড়া এর থেকে বেশি কিছু করা সম্ভব ছিল না।” কোচবিহারের জেলাশাসক পি উল্গানাথনও এই সমস্যার কোনও নিদান দিতে পারেননি। তাঁর কথায়, “ঘটনার কথা শুনেছি। ৩১ জুলাই পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতেই হবে। তার পরে আর এমন সমস্যা হবে না।”
ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির সহকারি সম্পাদক দীপ্তিমান সেনগুপ্ত ওই বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসন সহ একাধিক জায়গায় চিঠি দিয়ে প্রতিবাদ জানানোর সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “সমস্যা যেখানে মিটে যাচ্ছে, সেখানে আমরা কি আরও একটু মানবিক হতে পারি না? আমরা মনে করি, এমন মুহূর্তে এ রকম ঘটনার ক্ষেত্রে দুই দেশের সরকারেরই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”