মিড মিলের চাল পোকায় নষ্ট করে দেয়। সেই চালকে কী ভাবে রক্ষা করা যায় স্কুলের এক মাস্টারমশাইয়ের সহযোগিতায় পরীক্ষা চালিয়েছিল স্কুলের একদল পড়ুয়া। সাফল্যের মুখও দেখেছে তারা। তাদের সেই সাফল্যকে সারা দেশের সামনে তুলে ধরতে জাতীয় শিশু বিজ্ঞান কংগ্রেসে যোগ দিতে যাচ্ছে বছর বারোর অতনু বিশ্বাস। আজ শুক্রবার অতনু চণ্ডীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হবে। সেখানেই আগামী মঙ্গল-বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে ২৩ তম জাতীয় শিশু বিজ্ঞান কংগ্রেস।
হাজরাপুর হাইস্কুলের শিক্ষক ও অতনুর গাইড সনৎকুমার শাসমল জানান, মিড ডে মিলের অতিরিক্ত চাল পড়ুয়াদের দেওয়া হয়। মাঝে মাঝেই তারা এসে বলে চালে পোকা ধরেছে। কেন চালে পোকা ধরে তা জানতে চলতি বছরের মার্চ থেকে শুরু করে ছ’মাস ধরে এক পরীক্ষা চালানো হয়। বিভিন্ন তাপমাত্রা এবং আদ্রতায় পোকা ও তাদের গতিবিধি তথ্য সংগ্রহ করা হয়। দেখা যায়, আবহাওয়া এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মিড ডে মিলের চালে পোকা ধরে। পোকা চালের শাঁস খেয়ে নেয়। ফলে চাল সাদা হয়ে যায়। এ ভাবে দেশের প্রায় ৩৫-৪০ ভাগ চালের ক্ষতি হয়। সনৎবাবু জানান, পরীক্ষায় এও দেখা যায়, চালে নিমপাতা ও জিরে দিয়ে রাখলে পোকার হাত থেকে রেহাই মেলে। সেই পর্যবেক্ষণকে জাতীয় স্তরে তুলে ধরতে তুলে অতনুকে পাঠানো হচ্ছে। স্কুলের মাস্টারমশাইরা জানান, অতনু ভাল বলতে পারে। উপস্থাপন ক্ষমতাও খুব ভাল।
রানাঘাটের আড়ংঘাটার হাজরাপুর গ্রামে বাড়ি অতনুদের। বাবা বিমল বিশ্বাস পেশায় চাষি। মা শুভ্রাদেবী গৃহবধূ। বিমলবাবু বলেন, ‘‘আমি ভাবতেই পারিনি, ছেলে ওই জায়গায় পৌঁছবে। খুব ভাল লাগছে।’’ মা শুভ্রাদেবী বলেন, ‘‘চণ্ডীগড়ে ওর সঙ্গে বিদ্যালয়ের কেউ যাচ্ছে না। সেই কারণে চিন্তা হচ্ছে।’’ আর অতনুর নিজের কথায়, ‘আশা করছি এই ক্ষতির হাত থেকে দেশকে বাঁচাতে কী করতে হবে, সবাইকে তা বোঝাতে পারব।’’