Advertisement
E-Paper

জাতীয় বিজ্ঞান সভায় দুই পড়ুয়া

সারা ভারত জাতীয় শিশু বিজ্ঞান সভায় যোগ দিতে যাচ্ছে খড়্গপুরের দুই কিশোর। অয়ন মুখোপাধ্যায় ও সক্ষম মম্‌তানি নামে ওই দুই কিশোরই খড়্গপুর আইআইটি কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের ছাত্র। গত ২৬ থেকে ২৮ নভেম্বর মুম্বইয়ে আইআইটি কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয়স্তরের প্রতিযোগিতায় যোগ দিয়েছিল দশম শ্রেণির অয়ন ও অষ্টম শ্রেনির সক্ষম।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ ডিসেম্বর ২০১৫ ০১:৫১
সক্ষম মম্‌তানি ও অয়ন মুখোপাধ্যায়। —নিজস্ব চিত্র।

সক্ষম মম্‌তানি ও অয়ন মুখোপাধ্যায়। —নিজস্ব চিত্র।

সারা ভারত জাতীয় শিশু বিজ্ঞান সভায় যোগ দিতে যাচ্ছে খড়্গপুরের দুই কিশোর। অয়ন মুখোপাধ্যায় ও সক্ষম মম্‌তানি নামে ওই দুই কিশোরই খড়্গপুর আইআইটি কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের ছাত্র। গত ২৬ থেকে ২৮ নভেম্বর মুম্বইয়ে আইআইটি কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয়স্তরের প্রতিযোগিতায় যোগ দিয়েছিল দশম শ্রেণির অয়ন ও অষ্টম শ্রেনির সক্ষম। বিজ্ঞান ভিত্তিক গবেষণার প্রতিযোগিতায় যোগদানকারী ৪৩৫ জনের মধ্যে ৪২ জন জাতীয় শিশু বিজ্ঞান সভায় যোগ দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে রেলশহরের এই দুই খুদে বিজ্ঞানী-সহ পশ্চিমবঙ্গের চারজন। আগামী ২৭ থেকে ৩১ ডিসেম্বর চণ্ডীগড়ে সারা ভারত জাতীয় শিশু বিজ্ঞান সভা অনুষ্ঠিত হবে।

জানা গিয়েছে, আবহাওয়া, জলবায়ু, সমাজ ও স্বাস্থ্য বিষয়ে ছিল এই বিজ্ঞান ভিত্তিক গবেষণার প্রতিযোগিতা। প্রত্যেক ছাত্রকে একটি করে প্রকল্প তৈরি করে তা প্রদর্শন করতে হয়েছে। গত অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে কলকাতার সল্টলেক আইআইটিতে কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ে আঞ্চলিকস্তরের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে খড়্গপুর আইআইটি কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের আট পড়ুয়া যোগ দিয়েছিল। সেখান থেকে এই স্কুলের ৬ জনকে জাতীয়স্তরের প্রতিযোগিতার জন্য বাছাই করা হয়। গত ২৬ নভেম্বর থেকে মুম্বই আইআইটি কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় প্রতিযোগিতায় পশ্চিমবঙ্গ থেকে যে ১৯ জন পড়ুয়া যোগ দেয়। তাদের মধ্যে খড়্গপুরের অয়ন ও সক্ষম ছাড়াও বর্ধমানের একজন ও সল্টলেকের একজন ছাত্র জাতীয় শিশু বিজ্ঞান সভায় যোগদানের সুযোগ পেয়েছে।

সোমবার ভোরে মুম্বই থেকে খড়্গপুরে ফিরেছে অয়ন ও সক্ষম। প্রতিযোগিতার সিনিয়র বিভাগে যোগ দেওয়া অয়নের কাজ ছিল জৈব-জ্বালানি নিয়ে। বর্জ্য পদার্থের ব্যবহার করে কী ভাবে জৈব গ্যাস তৈরি করে গ্রাম্য পরিবেশকে স্বচ্ছ রাখা যায় সেটাই সে ফুটিয়ে তুলেছে নিজের প্রকল্পে। অয়নের কথায়, “আমি কিছু গ্রামে ঘুরে দেখেছি সেখানে আবর্জনা সঠিক ব্যবহারের অভাবে পরিবেশ দূষিত করছে। ওই বর্জ্য দিয়ে কী ভাবে জৈব-জ্বালানি তৈরি করা যায় সেটা নিয়ে আমি গবেষণা করেছিলাম। স্কুলের বন্ধুরা ও শিক্ষকেরা সাহায্য করেছেন।’’ জুনিয়র বিভাগে যোগ দেওয়া সক্ষমের ‘থিম’ ছিল আবহাওয়ার পরিবর্তনে কৃষকের স্বাস্থ্য সমস্যা। শালবনির একটি গ্রামে গিয়ে গবেষণা চালিয়ে এই ছাত্র দেখেছে গ্রীষ্মকালে কৃষকেরা ‘ডিসইলেক্ট্রোলাইটেমিয়া’ নামে এক অসুখের শিকার হয়। এর জেরে কাজ করতে গিয়ে মাথা ঘুরে পড়ে যায় কৃষক। এর থেকে বাঁচতে গেলে কী পরিমাণ জল, গ্লুকোজ কৃষকের প্রয়োজন তা প্রকল্পে তুলে ধরা হয়েছে। সক্ষম বলছিল, ‘‘সমস্ত ঋতুতেই কৃষকদের উপর এই রোগের প্রভাব থাকে। তবে গরমে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয়। প্রকল্প প্রশংসিত হওয়ায় ভাল লাগছে।’’

খড়্গপুরের দুই ছাত্রের এই সাফল্যে খুশি স্কুল থেকে পরিজন সকলেই। সক্ষমের বাবা মনীশ এ মমতানি খড়্গপুর আইআইটির অধ্যাপক। সোমবার ছেলে ফেরার পরে আপ্লুত মনীশবাবু বলছিলেন, “এই বয়সে ওর মধ্যে বিজ্ঞানের প্রতি যে আগ্রহ দেখি সেটা আমাকে ভাবায়। তাই আমার আশা ছিল সাফল্য আসবে। স্কুল কর্তৃপক্ষেরও এর পিছনে বড়
ভূমিকা রয়েছে।’’

অয়নের বাবা পেশায় রেলকর্মী অঞ্জন মুখোপাধ্যায়ও ছেলের সাফল্যে খুশি। তাঁর কথায়, ‘‘বরাবর চাইতাম ছেলে বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহী হোক। সেই বিজ্ঞানের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে যখন সমাজের জন্য আমার ছেলে কিছু ভাবছে তখন গর্ব হচ্ছে।’’ এই প্রতিযোগিতায় স্কুলের পক্ষ থেকে ছাত্রদের পরামর্শ দিয়েছিলেন বিজ্ঞানের শিক্ষিকা কল্পনা মজুমদার। তিনি বলেন, ‘‘ওঁরা আমাদের স্কুলের গর্ব। ভবিষ্যতে আরও সাফল্য পাবে বলে আশা রাখছি।’’ নিজস্ব চিত্র।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy