সাত বছর আগে জমি বণ্টন হয়েছে। তবুও ফাঁকাই পড়ে রয়েছে টি পার্ক। এ কথা জেনে বিরক্ত কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব রজনীরঞ্জন রাশমি। টি পার্ক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে কেন্দ্রীয় সচিব দ্রুত রিপোর্ট পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন শিলিগুড়ি জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এসজেডিএ) সিইও-কে।
মঙ্গলবার সকালে শিলিগুড়ির ডাবগ্রামে টি পার্কের ভিতর চা গবেষণা কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাগিচা বিষয় দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব রাশমি। অনুষ্ঠানের মঞ্চে বসেই তিনি জানতে পারেন দীর্ঘদিন আগেই টি পার্কের সব জমি বিলি বণ্টন হয়ে গিয়েছে। অনুষ্ঠান শেষে মঞ্চ থেকে নেমে এসজেডিএর সচিব আর বিমলার কাছে কেন্দ্রীয় অতিরিক্ত সচিব রাশমি জানতে চান, ‘‘টি পার্ক খালি কেন? কী সমস্যা?’’ এসজেডিএ-এর সিইও জানান, কিছু টানাপড়েন থাকায় জমির সাব লিজ দেওয়া নিয়ে সমস্যা রয়েছে। এরপরেই কেন্দ্রীয় সচিব মাথা নেড়ে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘‘আমাকে দ্রুত রিপোর্ট পাঠান। কারা জমি পেয়েছে, তাঁরা আদৌও চা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কিনা খোঁজ নিন। সবকিছু ই-মেল করে আমাকে পাঠিয়ে দেবেন।’’
শিলিগুড়ির টি পার্ক নিয়ে অবশ্য টানাপড়েন নতুন কোনও ঘটনা নয়। বাম আমলে ৮৪ একর জমিতে টি পার্ক তৈরি হয়েছিল। দেড়শোটি প্লটে ভাগ করে জমি বিলি করা হয়েছিল চা শিল্প সংস্থাগুলিকে। বিভিন্ন প্লটে গুদাম, চা কারখানা, পাইকারি মজুত সহ নানা কিছু তৈরির প্রস্তাব ছিল। দু’হাজার আট সালের পরে সাত বছর কেটে গেলেও, টি পার্কের জমিতে একটি মাত্র গুদাম ছাড়া আর অন্য কোনও কিছুই শুরু হয়নি।
চা শিল্প সংস্থাগুলির দাবি, রেলের জমি লিজে নিয়ে এসজেডিএ টি পার্ক গড়ে তুলেছিল। যে সংস্থাগুলি জমি পেয়েছে, তাঁদের দাবি সংস্থার নামে সাব লিজ দেওয়া হোক। সাব লিজ পেলে সেই নথি ব্যাঙ্কে জমা রেখে ঋণ পেতে সুবিধে হবে। এসজেডিএ-এর কাছে সংস্থাগুলির তরফে একাধিকবার বিষয়টি জানানো হয়েছে। এসজেডিএ-এর পাল্টা দাবি, রেলের জমি সাব লিজে দেওয়ার এক্তিয়ার তাদের নেই। কিন্তু বিষয়টি জানানো হলেও রেলের তরফে কোনও সাড়া মেলেনি। চা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত একাংশের অভিযোগ, এই টানাপড়েনেই সাত বছর পেরিয়ে গিয়েছে। যার ফলশ্রুতি এখনও ধূ ধূ করছে টি পার্কের জন্য বরাদ্দ জমি।
এ দিন অনুষ্ঠানের মঞ্চে এসজেডিএর সিইও আর বিমলা বক্তব্য রাখার সময়ে টি পার্কের আয়তন, জমি বিলি-বণ্টনের কথা জানিয়েছিলেন। সে কথা শুনেই অতিরিক্ত সচিব পাশে টি বোর্ডের চেয়ারম্যান সন্তোষ সারঙ্গির সঙ্গে কিছু নিয়ে আলোচনা করতে থাকেন। পরে মঞ্চ থেকে নেমেই এসজেডিএর সিইওর কাছে জানতে চান, ‘‘জমি বিলি হলে, টি পার্ক ফাঁকা কেন ?’’ কাদের জমি বিলি করা হয়েছে, তাদের সম্পর্কে ফের খোঁজখবর করার পরামর্শও দিয়েছেন এসজেডিএকে। পরে সংবাদমাধ্যমের কাছে অবশ্য অতিরিক্ত সচিব এ নিয়ে কিছু বলতে চাননি। এসজেডিএ-এর সিইও বলেন, ‘‘কেন্দ্রীয় সচিব টি পার্কের সমস্যার কথা শুনতে চেয়েছিলেন। সবটা তাকে জানিয়েছি। তিনি দ্রুত ই-মেল করে রিপোর্ট পাঠাতে বলেছেন।’’
কেন্দ্রীয় সচিবের উদ্যোগে আশার আলো দেখছেন চা শিল্প সংস্থাগুলিও। তবে এতদিনের সমস্যা সহজে সমস্যা মিটবে কিনা তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন শিল্পোদ্যোগীরা। নর্থ বেঙ্গল টি প্রোডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা তথা সিআইআইয়ের প্রাক্তন চেয়ারম্যান প্রবীর শীল বলেন, ‘‘এই সমস্যা কেন্দ্রীয় সরকারের জানার কথা ছিল। একাধিকবার রাজ্য এবং কেন্দ্রের বিভিন্ন দফতরে সাব লিজ এবং ব্যাঙ্ক ঋণ পাওয়া সংক্রান্ত সমস্যার কথা আমরা জানিয়েছিলাম। যাই হোক এবার যদি পদক্ষেপ হয়, তবে অবশ্যই স্বাগত।’’