Advertisement
E-Paper

নয়া বাস-পারমিট সংগ্রহে ভাটার টান

নতুন রুটে পাঁচশো বাসের পারমিট বিলির জন্য রাজ্য পরিবহণ দফতর বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল ২৪ ফেব্রুয়ারি। তার পরে দশ দিন কেটে গিয়েছে। বাস চালাতে চেয়ে আবেদন জমা পড়েছে মাত্র ১৬২। পাঁচশোর মধ্যে ১২০টি বাস ছিল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। তার জন্য একটি আবেদনও জমা পড়েনি।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১০ মার্চ ২০১৪ ০৪:২০

নতুন রুটে পাঁচশো বাসের পারমিট বিলির জন্য রাজ্য পরিবহণ দফতর বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল ২৪ ফেব্রুয়ারি। তার পরে দশ দিন কেটে গিয়েছে। বাস চালাতে চেয়ে আবেদন জমা পড়েছে মাত্র ১৬২। পাঁচশোর মধ্যে ১২০টি বাস ছিল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। তার জন্য একটি আবেদনও জমা পড়েনি। এ রাজ্যে বাস চালিয়ে যে আদৌ লাভ হচ্ছে না, এই ঘটনায় তা আরও এক বার স্পষ্ট হল বলে মনে করছেন পরিবহণ কর্তাদের একাংশ।

অর্থনীতির সহজ নিয়ম মেনে বাসের ভাড়া বাড়াতে নারাজ রাজ্য সরকার। বাসমালিকেরা বারবার ভাড়াবৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন করলেও রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতার মাথায় রেখে তাতে রাজি নন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত দেড় বছরে লিটারপিছু ডিজেলের দাম বেড়েছে প্রায় আট টাকা। তার সঙ্গে বেড়েছে বাসের যন্ত্রাংশ, বিমা-সহ অন্যান্য খরচের বহরও। অথচ, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাসের ভাড়া বাড়েনি। এর জেরে ক্রমশ রাস্তায় বাসের সংখ্যা কমেছে। অফিসের ব্যস্ত সময় বাদে সকালে বা রাতে বাস না পেয়ে হয়রান হতে হচ্ছে যাত্রীদের। স্বভাবতই বাসমালিকদের সংগঠনগুলির বক্তব্য ছিল, এই ভাড়ায় নতুন বাস নিতে কেউই রাজি হবেন না।

যদিও পারমিট বিলির সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরে পরিবহণমন্ত্রী মদন মিত্র জানিয়েছিলেন, মালিকদের মধ্যে নতুন বাসের পারমিট নেওয়ার জন্য দারুণ উৎসাহ। এক সপ্তাহের মধ্যে সব পারমিট বিলি হয়ে যাবে। কিন্তু পরিবহণ দফতর সূত্রের খবর, নতুন পাঁচশো বাসের মধ্যে এসি বাসের পারমিট দেওয়ার কথা ১২০টি। কিন্তু প্রথম দশ দিন কেটে যাওয়ার পরে একটি আবেদনও পরিবহণ দফতরে জমা পড়েনি। সাধারণ বাসের ক্ষেত্রে ৩৮০টির মধ্যে ১৬২টি আবেদন জমা পড়েছে। পরিবহণ দফতরের কর্তারা বলছেন, “যাঁরা আবেদন করেছেন, তাঁরা সবাই বাস বার করবেন, এমনটা নয়। অনেকের আবেদনই বাতিল হতে পারে। আবার অনেকে অফার লেটার পাওয়ার পরেও বাস না-ও বার করতে পারেন।” ওই কর্তারা জানাচ্ছেন, গত বছর পুরনো রুটে বাসের পারমিট বিলির ক্ষেত্রেও মালিকদের মধ্যে একই রকম অনীহা ছিল। অনেক মালিক আবার অফার লেটার পাওয়ার পরেও নির্দিষ্ট রুটে বাস বার করেননি।

সরকার নতুন রুটে পারমিট বিলির কথা ঘোষণা করার পরেই বেসরকারি বাসমালিকেরা এ নিয়ে অনীহার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। সেই আশঙ্কাই সত্যি প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করছেন তাঁরা। জয়েন্ট কাউন্সিল অব বাস সিন্ডিকেটসের নেতা তপন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বাস নিতে যাঁরা আসবেন, তাঁরা তো আমাদের দেখছেন। বুঝতে পারছেন, আমাদের কত অসহায় অবস্থা। জেনেশুনে তাঁরা আর কেন নতুন বাসের ঋণের বোঝা নিতে আসবেন!” একই বক্তব্য মিনিবাস অপারেটর্স কো-অর্ডিনেশন কমিটির নেতা অবশেষ দাঁ-র। তাঁর কথায়, “বাস চালানো তো রোজগারের জন্য। সেই রাস্তাই যদি সরকার বন্ধ করে দেয়, তা হলে আর কেনই বা বাস চালাবে লোকে?”

বাসমালিকেরা জানাচ্ছেন, সাধারণ বেসরকারি বাস কিনতে খরচ প্রায় ১৭ লক্ষ টাকা। যার জন্য ব্যাঙ্কের মাসিক কিস্তি দাঁড়াবে হাজার পঁচিশেক টাকা। এসি বাসের দাম প্রায় ৬৫ লক্ষ টাকা। যার মাসিক কিস্তির হার হাজার পঞ্চাশের কাছাকাছি। বাসমালিকেরা বলছেন, “সরকার বাসের ভাড়া বাড়াচ্ছে না। এই অবস্থায় বাস নিয়ে ব্যাঙ্কের কিস্তি কী ভাবে শোধ করা যাবে? তা ছাড়া, ব্যাঙ্কগুলিও এখন বাসমালিকদের অবস্থা জেনে গিয়েছে। তারাও এখন আর মালিকদের ঋণ দিতে চাইছে না।” এসি বাসের ক্ষেত্রে এই আশঙ্কা আরও বেশি বলে দাবি বাসমালিকদের। তপনবাবু বলেন, “এসি বাসের খরচ, ব্যাঙ্কের কিস্তি আরও বেশি। সরকার সেইমতো এসি বাসের ভাড়া না বাড়ালে ওই সব মালিকেরা পথে বসবেন। সেই কারণেই কেউ সাহস করে এসি বাস নামাতে চাইছেন না।”

পরিবহণ দফতরের কর্তাদের অবশ্য দাবি, লোকসভা নির্বাচন এসে পড়ায় সে ভাবে পারমিট নেওয়ার আবেদন জমা পড়েনি। ভোট মিটলেই আবেদন জমা পড়বে। পরিবহণ দফতরের এক কর্তার কথায়, “ভোট মিটলে সরকারও বাসের ভাড়া বাড়াবে বলে খবর। তা হলে তো মালিকেরা আবার বাস বার করার আবেদন জানিয়ে ভিড় জমাবেন।”

সেই আশাতেই আপাতত কোমর বাঁধছেন পরিবহণ দফতরের কর্তারা।

bus permit transport department
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy