বিহারে দলের বিপর্যয়ের জেরে আগামী ৩০ নভেম্বর বিজেপি-র সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের কলকাতার শহিদ মিনার ময়দানের সভা অনিশ্চিত হয়ে পড়ল। দলের রাজ্য নেতৃত্ব অবশ্য প্রকাশ্যে এ কথা এখনই ভাঙছেন না। তাঁরা বরং বলছেন, এখনই এমন ভাবার কারণ নেই। প্রসঙ্গত, রাহুল সিংহ দলের রাজ্য সভাপতি হওয়ার পর থেকেই প্রতি বছর ৩০ নভেম্বর ‘উত্থান দিবস’ হিসাবে পালন করে বিজেপি।
অমিতের ৩০ তারিখের কর্মসূচি বাতিল হয়েছে কি না, জানতে চাওয়া হলে রাহুলবাবু বুধবার বলেন, ‘‘এখনও এ রকম কিছু ঠিক নেই।’’ কিন্তু দলের অন্দরের খবর, ৩০ নভেম্বর কলকাতার সভায় অমিত অনিশ্চিত। রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, জয় বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ বিশিষ্টদের আগে বলা হয়েছিল, ২০ থেকে ২৫ নভেম্বর ব্লকে ব্লকে আন্দোলন হবে। তখনই ৩০ তারিখের সভায় আসার কথা কর্মীদের বলে আসতে হবে। রূপাদের সঙ্গে রাজ্য নেতৃত্বের এ দিনের বৈঠকে কিন্তু আর ৩০ তারিখের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়নি।
দলের একাংশের ব্যাখ্যা, বিহারের ফলের পর কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মধ্যে অমিত যথেষ্ট চাপে আছেন। ফলে তাঁর পক্ষে এখন এ রাজ্যে আসা মুশকিল। কিন্তু দলীয় কর্মীরা নিশ্চিত ছিলেন, বিহারে বিজেপি জিতবে এবং তার পরেই সেই জয়রথ প্রবেশ করবে বঙ্গে। সেই পরিকল্পনা মুখ থুব়ড়ে পড়ায় তাঁদের মনোবলে আঘাত লেগেছে। তার উপর ৩০ তারিখ অমিত আসছেন না জানলে তাঁরা আরও ভেঙে পড়তে পারেন। এই আশঙ্কা থেকেই আপাতত অমিতের সফরের অনিশ্চয়তা গোপন রাখতে চাইছেন রাজ্য নেতৃত্ব। অমিতের সভা শহিদ মিনার ময়দানে করার জন্য সেনা কর্তৃপক্ষের অনুমতিও জোগাড় করে ফেলেছিল রাজ্য বিজেপি। কিন্তু তিনি না এলে অত বড় ময়দান ভরানো তাঁদের পক্ষে কঠিন। তাই অন্য ভাবে ‘উত্থান দিবস’ পালনের কথাও ভাবছেন নেতারা।
বিহারের ফলের পর বিজেপি-র যা অবস্থা, সে দিকে ইঙ্গিত করে সিপিএমের পলিটব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিমের মন্তব্য, ‘‘দিদিভাই আর মোদীভাইয়ের মধ্যে আসলে কোনও যুদ্ধ নেই। মাঝে মধ্যে লোক দেখানোর জন্য লড়াই করেন। অমিত শাহ বলেছিলেন, বিহারের ভোটের পর পশ্চিমবঙ্গে রথ নিয়ে বেরোবেন। বিহারের ফলের পর রথ কেন, পথেও বেরোতে পারবেন না। এ রাজ্যে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে লড়বে বামপন্থীরাই।’’