Advertisement
E-Paper

ভোটের মুখে পাড়ুই শুনানি

সুপ্রিম কোর্টে পাড়ুই-মামলার শুনানি শুরু হবে আগামী সোমবার। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ সিঙ্গল বেঞ্চে চলা এই মামলার উপরে তিন সপ্তাহের জন্য স্থগিতাদেশ জারি করেছিল। সেই নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে পাড়ুই-কাণ্ডে নিহত সাগরচন্দ্র ঘোষের ছেলে হৃদয় ঘোষের তরফে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা হয়। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি পি সদাশিবমের বেঞ্চ ওই মামলাটি গ্রহণ করেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ২৬ এপ্রিল ২০১৪ ০৩:৩৬

সুপ্রিম কোর্টে পাড়ুই-মামলার শুনানি শুরু হবে আগামী সোমবার। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ সিঙ্গল বেঞ্চে চলা এই মামলার উপরে তিন সপ্তাহের জন্য স্থগিতাদেশ জারি করেছিল। সেই নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে পাড়ুই-কাণ্ডে নিহত সাগরচন্দ্র ঘোষের ছেলে হৃদয় ঘোষের তরফে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা হয়। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি পি সদাশিবমের বেঞ্চ ওই মামলাটি গ্রহণ করেছে।

বীরভূমের দু’টি কেন্দ্রে ভোট ৩০ এপ্রিল। হৃদয় ঘোষের আইনজীবীরা চাইছিলেন, তার আগেই সর্বোচ্চ আদালত মামলাটি শুনুক। যদিও হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ তিন সপ্তাহের যে স্থগিতাদেশ দিয়েছিল, তাতে ওই মামলার শুনানি ৩০ এপ্রিলের আগে আর হওয়ার সম্ভবনা ছিল না। মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সেটাও অন্যতম কারণ। হৃদয়বাবুর আইনজীবী শীর্ষেন্দু সিংহরায় শুক্রবার বলেন, “প্রথমে সুপ্রিম কোর্ট আমাদের মামলাটি ২ মে শুনতে চেয়েছিল। কিন্তু, আমরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মামলাটি শোনার আর্জি জানিয়েছিলাম। আমাদের বক্তব্য ছিল, ওই মামলার মূল অভিুক্তেরা অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আবেদনকারীর পরিবারের নিরাপত্তা সংশয়ে। তাই সুপ্রিম কোর্ট প্রয়োজনে শুক্রবারই মামলাটি শোনার ব্যবস্থা করুক।” আবেদনকারীর আইনজীবীর আর্জি শুনে সুপ্রিম কোর্ট আগামী সোমবার শুনানির দিন ধার্য করেছে। অর্থাৎ, বীরভূমে ভোটের আগেই শুনানি হচ্ছে পাড়ুই-মামলার।

এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার সিউড়ি আদালতে পাড়ুই-কাণ্ডের অন্যতম মূল অভিযুক্ত, দীর্ঘদিন ফেরার ভগীরথ ঘোষ হঠাৎ আত্মসমর্পণ করায় নানা প্রশ্ন উঠেছে। প্রথমত, সাগর ঘোষকে গুলি চালানোর ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত ভগীরথকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার জন্য ওই দিন আদালতে বিশেষ তদন্তকারী দল বা এসআইটি (সিট)-এর কোনও সদস্যই উপস্থিত ছিলেন না। ফলে, ভগীরথকে জেল হাজতে রাখার নির্দেশ দেন বিচারক। দ্বিতীয়ত, এত দিন যে অভিযুক্তকে নাকি ধরাই যাচ্ছিল না, তিনি হঠাৎ জেলা পুলিশ বা সিট-এর নজর এড়িয়ে কী করে আত্মসমর্পণ করলেন, প্রশ্ন উঠছে তা নিয়েও।

তাই ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পরেই, শুক্রবার ভগীরথকে নিজেদের হেফাজতে চেয়ে সিউড়ির মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের (সিজেএম) কাছে আবেদন জানিয়েছে সিট। সরকারি আইনজীবী কুন্তল চট্টোপাধ্যায় জানান, আজ, শনিবার ভগীরথকে ফের আদালতে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। তখনই সিট-এর আর্জি নিয়ে শুনানি হবে।

পাড়ুই থানার কসবা পঞ্চায়েতের বাঁধনবগ্রামের বাসিন্দা, ওই পঞ্চায়তের নির্দল প্রার্থী (বিক্ষুব্ধ তৃণমূল) হৃদয় ঘোষের বাবা সাগর ঘোষকে গত বছর জুলাইয়ে পঞ্চায়েত ভোটের আগের রাতে গুলি করে খুন করা হয়। ওই ঘটনায় তৃণমূলের বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল, জেলা পরিষদের সভাধিপতি বিকাশ রায়চৌধুরী-সহ মোট ৪১ জনের নামে অভিযোগ দায়ের করেন নিহতের পুত্রবধূ শিবানী ঘোষ। অভিযোগের তালিকায় ভগীরথের নাম রয়েছে পাঁচ নম্বরে। শিবানীদেবী যে চার জনের বিরুদ্ধে গুলি চালানোর অভিযোগ করেছিলেন, ভগীরথ তাঁদের অন্যতম। কিন্তু, ঘটনার পর থেকেই তিনি অধরা ছিলেন। সিট পরে ভগীরথের ছবি দিয়ে হুলিয়া জারি করে। তাঁর সম্পত্তি ক্রোক করার নোটিসও পড়েছিল। বাকি তিন জনের মধ্যে আগেই ধরা পড়েছেন আর এক অভিযুক্ত, স্থানীয় সাত্তোর এলাকার বাসিন্দা শেখ ইউনিস। কিন্তু, গুলি চালানোয় অন্য দুই অভিযুক্ত, বাঁধনবগ্রামের সুব্রত রায় ও কসবার বাসিন্দা শেখ আজগর অবশ্য এখনও ফেরার।

এ হেন ভগীরথ আত্মসমর্পণ করার পরেও কেন সিট তাঁকে নিজেদের হেফাজতে চায়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল নিহতের পরিবারও। বস্তুত, পাড়ুই-কাণ্ডে প্রথম থেকেই পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। একাধিকবার হাইকোর্টে ভর্ৎসনা করা হয়েছে পুলিশ এবং সিআইডি-কে। পুলিশি তদন্তে অসন্তুষ্ট বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত রাজ্য পুলিশের ডিজি-র নেতৃত্বে সিট গড়ে দিলেও তাদের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন হৃদয়বাবুরা। সুপ্রিম কোর্টে মামলাটি যাওয়ায় তাঁরা আশার আলো দেখছেন। হৃদয়বাবুর প্রতিক্রিয়া, “এর ফলে অল্প হলেও মামলা গতি পেল।” তিনি এখন বাঁধনবগ্রামে, নিজের বাড়িতে রয়েছেন। সোমবার সুপ্রিম কোর্টে যেতে পারবেন কি না, এখনও জানেন না। তবে গ্রামে পরিবারকে একলা ফেলে রেখে যেতে মন চায় না তাঁর। হৃদয়বাবুর অভিযোগ, “বাড়িতে পুলিশ আছে। কিন্তু, বাড়ির বাইরে বেরোলেই হুমকি দেওয়া হচ্ছে। হুমকি দেওয়া হচ্ছে আমার মেয়েকেও। নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেই বাস করছি আমরা।” তবে, ভগীরথ আত্মসমর্পণ করায় তাঁদের পরিবারের অনেকটাই স্বস্তি এসেছে। “বিচার ব্যবস্থার উপরে আমাদের আস্থা আছে। বাকি অভিযুক্তরাও ধরা পড়বে আর উপযুক্ত সাজা পাবে, এই আশা রাখি।”বলছেন নিহতের ছেলে।

parui case supreme court
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy