ইরানের বিরুদ্ধে এখনই সামরিক অভিযান বন্ধ করতে নারাজ আমেরিকা, তা আরও এক বার বুঝিয়ে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ইরানকে ‘সম্পূর্ণ ভাবে’ ধ্বংস করছে আমেরিকা। আগামী দিনে ইরানে হামলার তেজ আরও বাড়াবে মার্কিন বাহিনী।
‘ফক্স নিউজ় রেডিয়ো’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘‘আমরা আগামী সপ্তাহে ইরানে আরও তীব্রতর আঘাত করতে চলেছি।’’ একই সঙ্গে ট্রাম্প এ-ও জানান, ইরানের বর্তমান শাসকদের সম্পূর্ণ উৎখাত করা এই মুহূর্তে কঠিন হবে! তবে সেই লক্ষ্যেই থাকবে আমেরিকা। একই সঙ্গে রাশিয়া নিয়েও আবার মুখ খুলেছেন ট্রাম্প।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট মনে করেন, অতীতের মতো না-হলেও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এখনও ইরানকে ‘সামান্য’ সাহায্য করছেন। ট্রাম্পের কথায়, ‘‘ওরা (রাশিয়া) হয়তো ভাবছে আমরা ইউক্রেনকে সাহায্য করছি। তাই না?’’ তার পরেই ট্রাম্প বলেন, ‘‘হ্যাঁ, আমরা তাদেরও (ইউক্রেন) সাহায্য করছি।’’ উল্লেখ্য, পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে আমেরিকা সাহায্য করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কি। যদি ট্রাম্প জানান, তাঁর দেশের কারও সাহায্যের দরকার নেই।
আরও পড়ুন:
ইরানে যুদ্ধের জন্য আমেরিকার অর্থনীতি প্রভাবিত হচ্ছে। কোটি কোটি ডলার খরচ হচ্ছে যুদ্ধে! এমন দাবি অনেকাংশেই মেনে নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। পাশাপাশি এ-ও জানান, ‘‘আমি সকলকে আশ্বস্ত করতে চাই, ইরানের উপর হামলার আগে আমেরিকার অর্থনীতি যে জায়গায় দাঁড়িয়ে ছিল, সেই জায়গায় ফিরে যাবে।’’ তাঁর মতে, ইরান যুদ্ধ শেষ হলেই ঘুরে দাঁড়াবে আমেরিকা। ট্রাম্পের কথায়, ‘‘আমি মনে করি না, এটা দীর্ঘস্থায়ী হবে।’’
হরমুজ় প্রণালীতে জাহাজ আটকে থাকা প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘‘পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের সংযোগরক্ষাকারী নৌপথটি দিয়ে জাহাজ চলাচলে সমস্যা তৈরি হয়েছে।’’ সেই সঙ্গে তাঁর মন্তব্য, “তাদের (ইরানের হুমকির জেরে আটকে পড়া জাহাজগুলি) হরমুজ় প্রণালী পার হতে হবে এবং কিছুটা সাহস দেখাতে হবে। ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তাদের (ইরান) আর কোনও নৌবাহিনী নেই। আমরা তাদের সব জাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছি।’’ একই সঙ্গে আটকে থাকা জাহাজগুলিকে মার্কিন নৌবাহিনী পাহারা দিয়ে হরমুজ় প্রণালী পার করার বিকল্প যে এখনও খোলা আছে তা আবার ব্যক্ত করেন ট্রাম্প।