দেশের অন্য অনেক রাজ্যের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে বিদ্যুৎ পরিষেবা উন্নত এবং তা পেতেই একটু বেশি দাম দিতে হয় বলে মনে করেন রাজ্য বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ সেন।
শনিবার কলকাতায় একটি বেসরকারি সংস্থার অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রবীন্দ্রনাথবাবু। অনুষ্ঠানের শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে তিনি স্বীকার করেন এ রাজ্যে বিদ্যুতের দাম বেশ কিছু রাজ্যের তুলনায় বেশি। তাঁর বক্তব্য, ‘‘ওই রাজ্যগুলির তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে বিদ্যুৎ পরিষেবা অনেক ভাল। নিরবচ্ছিন্ন ও উন্নত বিদ্যুৎ পরিষেবা পেতে গেলে এটুকু বেশি দাম দিতেই হবে।’’ বিদ্যুৎ উৎপাদন সংস্থাগুলি অস্বাভাবিক মুনাফা করছে বলে সম্প্রতি বাম শিবির যে অভিযোগ করছে, তার জবাবে রাজ্য বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, ‘‘যে সংস্থাগুলি বিনিয়োগ করেছে, তাদেরও মুনাফার প্রয়োজন। তা না হলে বিদ্যুৎ শিল্পটাই মুখ থুবড়ে পড়বে।’’
কলকাতা-সহ রাজ্যে বিদ্যুতের দাম কমানোর দাবিতে আন্দোলনরত বাম নেতারা অবশ্য রবীন্দ্রনাথবাবুর যুক্তি মানতে নারাজ। তাঁদের দাবি, ২০১১ সালে বামফ্রন্ট সরকার চলে যাওয়ার
সময় সিইএসসি-র বিদ্যুৎ মাসুল ছিল ইউনিট প্রতি ৪ টাকা ৭৩ পয়সা। এখন তা দাঁড়িয়েছে ৬ টাকা ৪৫ পয়সায়। রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার ক্ষেত্রেও একই অভিযোগ। ভারতের কোনও রাজ্যেই এই হারে বিদ্যুতের মাসুল বাড়েনি বলে দাবি করছেন তাঁরা।
সিইএসসি-র এক কর্তার পাল্টা দাবি, দিল্লি বা মুম্বইয়ের চেয়ে তাঁদের গড় বিদ্যুৎ মাসুল কম। তাঁর বক্তব্য, ‘‘বিভিন্ন রাজ্যের সরকারি বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থাগুলি আর্থিক ক্ষতি মেনে নিয়েও পরিষেবা দিয়ে যেতে পারে। কারণ, তাদের পাশে সংশ্লিষ্ট সরকার থাকে। কিন্তু কোনও বেসরকারি সংস্থা আর্থিক ক্ষতি করে বিদ্যুৎ পরিষেবা দিয়ে যেতে পারে না।’’ বাম নেতারা আবার পাল্টা পরিসংখ্যান দিয়ে দাবি করেছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ বৃদ্ধিকে কারণ হিসেবে দেখিয়ে মাসুল বাড়ানো হচ্ছে। অথচ দেখা যাচ্ছে, সংস্থার লাভের অঙ্ক বেড়েই চলেছে।
রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে বিশেষ মুখ খুলতে চাননি। তাঁদের দাবি, গত কয়েক বছরে মাসুল যা বেড়েছে, তা রাজ্য বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের নির্দেশেই বেড়েছে। বিপিএল গ্রাহক, বিদ্যালয়ের মতো কিছু ক্ষেত্রে মাসুল কমানোও হয়েছে।
এ দিন খরচের হিসেব নিয়ে অন্য একটি ব্যাখ্যাও দিয়েছেন বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না মিললে ইনভার্টার, জেনারেটরের জন্য খরচ করতে হয়। এ রাজ্যে ইনভার্টার, জেনারেটরের জন্য যে খরচ বাঁচে, সে হিসেব করলে দেখা যাবে বিদ্যুতের মাসুল এমন কিছু বেশি নয়।
এ দিন রবীন্দ্রনাথবাবু বার বার রাজ্যে নিরবচ্ছিন্ন ও উন্নত বিদ্যুৎ পরিষেবার কথা বলেছেন। কিন্তু সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা বলছে, সিইএসসি এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা ভাল হলেও রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার এলাকায় উপযুক্ত পরিষেবা নিয়ে প্রশ্নের অবকাশ রয়েছে। বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার এক গ্রাহকের কথায়, ‘‘লাগাতার কয়েক ঘণ্টার লোডশেডিং কিছুটা কমেছে। কিন্তু অল্প সময়ের খুচরো লোডশেডিং লেগেই থাকে।’’