আপাতত উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের মর্গেই থাকছে মার্কিন যুবক রুবেন লামেন ফক্সের দেহ। দার্জিলিং জেলা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, মার্কিন দূতাবাসকে পুরো ঘটনা জানানো হয়েছে। রুবেনের পরিবারের সদস্যকে খবর পাঠাতে বলা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা এলে পুলিশ তাঁদের হাতে রবেনের দেহ তুলে দেবে।
গত বুধবার দুপুরে এক বন্ধুকে নিয়ে রুবেন সেবক করোনেশন সেতু লাগোয়া একটি ঝরনা বেয়ে পাহাড়ে উঠতে শুরু করেছিলেন। পরে নামার সময়ে প্রায় ২৫০ ফুট উচ্চতা থেকে পা হড়কে রুবেন পড়ে যায় বলে পুলিশকে তাঁর সঙ্গী এথান ফেল্পস জানিয়েছেন। এথান-ও আমেরিকার বাসিন্দা। পরদিন বৃহস্পতিবার রুবেনের দেহ উদ্ধার হয়। সেদিনই উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে রুবেনের ময়নাতদন্তও হয়েছে। এথান এবং রুবেনের আরেক মার্কিনসঙ্গী মাইকেল লিন ময়নাতদন্তের সময়ে মেডিক্যাল কলেজে উপস্থিত ছিলেন। রুবেন নিখোঁজ হওয়ার পরে তাঁরাই পুলিশে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। পুলিশ দু’জনের বয়ান নথিবদ্ধও করেছে। তবে পরিবারের সদস্যদের হাতেই দেহ তুলে দেওয়া হবে বলে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে।
দার্জিলিঙের পুলিশ সুপার অমিত জাভালগি বলেন, ‘‘উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের মর্গেই মার্কিন যুবকের দেহ রাখা হয়েছে। আমেরিকার দূতাবাসে যুবকের মৃত্যু সংক্রান্ত বিশদ তথ্য জানানো হয়েছে। দূতাবাস থেকে মৃত যুবকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। যোগাযোগের ক্ষেত্রে কিছু সময় তো লাগবেই।’’
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর দুয়েক ধরে মাইকেল লেন নামে এক যুবক পরিবার নিয়ে শিলিগুড়ি লাগোয়া চম্পাসারির বাবুবাসা এলাকায় থাকতেন। মাইকেল আমেরিকার ওকলাহামের বাসিন্দা। মাইকেলের স্ত্রী মেলিসা ওবং দুই ছেলে মেয়েও বাবুবাসা এলাকায় একটি দোতলা বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। বছরখানেক আগে এথেন সেই বাড়িতে এসে থাকতে শুরু করেন।
তাঁরা জানিয়েছেন, গত জুলাই মাসে আমেরিকার পেনসালভিয়ার বাসিন্দা রুবেনও শিলিগুড়িতে চলে আসেন। পুলিশকে মাইকেল জানিয়েছে, রুবেন মূলত ভ্রমণের উদ্দেশ্যেই এ দেশে এসেছিলেন। এ দিন শুক্রবার অবশ্য বাবুবাসার বাড়িতে মাইকেল, মেলিসা বা এথেন কাউকেই পাওয়া যায়নি। এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এ দিন সকালে সকলে দু’টি গাড়ি নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছেন। বিকেল পর্যন্ত বাড়িতে ঢোকার গেট বাইরে থেকে তালাবন্দি ছিল। মাইকেলদের ঘনিষ্ঠ এলাকার এক বাসিন্দার কথায়, ‘‘ওঁরা সম্ভবত কলকাতার আমেরিকার দূতাবাসে গিয়েছে। গতকাল-ই মাইকেল কলকাতার দূতাবাসে যোগাযোগ করতে চেয়েছিল।’’
বাবুবাসা এলাকায় মার্কিন নাগরিকদের পড়শিরা জানিয়েছেন, রুবেন স্বভাবে হাসিখুশি ছিল। তবে ভাষা না বোঝার কারণে তাঁদের সঙ্গে কথাবার্তা না বললেও, গালে খোঁচা সোনালি রঙের দাড়িওয়ালা যুবক রুবেন এলাকার কচিকাচাদের সঙ্গে বিকেলে মাঝেমধ্যে ফুটবল খেলতেন। এলাকার বাসিন্দা লালুমায়া দেবী বলেন, ‘‘আমরা ইংরেজি জানি না, আর ওঁরাও বাংলা বোঝেন না। তাই কথাবার্তা হতো না। তবে রুবেন বা অনান্যরা মাঝেমধ্যে রাস্তায় দেখা হলে হেসে ভাঙা বাংলায় জিজ্ঞেস করতেন ভাল আছেন।’’ আরেক বাসিন্দা শঙ্কর দাসের কথায়, ‘‘ওরা সকলেই বোধ হয় ভাল আছেন এই শব্দদুটি শিখেছিল। তাই মাঝেমধ্যে আমাদের বলত। এর বেশি যোগাযোগ ছিল না।’’
বাবুবাসার বাসিন্দারা জানান, মার্কিন নাগরিকরা একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিল। যদিও পুলিশকে দেওয়া বয়ানে মাইকেল এবং এথান দাবি করেছেন, কোনও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ নেই। গত এপ্রিল মাসে নেপালে ভূমিকম্পের পরে ত্রাণ কাজের জন্য মাইকেল সেখানে গিয়েছিলেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন।