E-Paper

ভোটের আগে জেলায় ফের শুরু বদল, প্রশ্ন বিজেপিতে

নতুন রাজ্য সভাপতি আসার পরে মাসছয়েক পেরিয়ে গেলেও এখনও রাজ্য কমিটি তৈরি হয়নি। বরং, ফের জেলা সভাপতি বদলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

বিপ্রর্ষি চট্টোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:৩৬

— প্রতীকী চিত্র।

বিধানসভা নির্বাচনের আর কয়েক মাস বাকি। রাজ্যে ‘বদলে’র ডাক দিয়ে সেই ভোটের আগে সংগঠনে পরিবর্তন করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে রাজ্য বিজেপি!

নতুন রাজ্য সভাপতি আসার পরে মাসছয়েক পেরিয়ে গেলেও এখনও রাজ্য কমিটি তৈরি হয়নি। বরং, ফের জেলা সভাপতি বদলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিজেপির অন্দরে একাংশের আশঙ্কা, নির্বাচনের দোরগোড়ায় এমন মত বদলের ফলে দলের তৃণমূল স্তরে দলের প্রস্তুতিতে প্রভাব পড়তে পারে।

বিজেপি সূত্রের খবর, অন্তত এক ডজন জেলায় ফের সভাপতি বদল হতে পারে। প্রাথমিক ভাবে বীরভূম এবং বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বদল হয়েছে। এই প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপির অন্যতম সাধারণ সম্পাদক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ‘‘বিজেপি সভাপতি-কেন্দ্রিক দল। নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফল করতে রাজ্য সভাপতি যেটা ভাল হয়, সেই সব পদক্ষেপ করবেন!’’

রাজ্য সভাপতি নির্বাচনের আগেই ৩৯টি সাংগঠনিক জেলায় সভাপতি নির্বাচনের কাজ সেরে ফেলেছিল বিজেপি। রাজ্য সভাপতি পদে শমীক ভট্টাচার্য আসার পরে ব্যারাকপুর, বনগাঁ, দার্জিলিং এবং ঘাটাল— এই চার সাংগঠনিক জেলার সভাপতি নির্বাচন হয়েছিল। রাজ্য সভাপতি নির্বাচনের আগেই সিংহভাগ জেলা সভাপতি বেছে ফেলায় প্রশ্ন উঠেছিল, নতুন সেনাপতি তাঁর নিজের ‘বাহিনী’র স্বাধীনতা ছাড়া মসৃণ ভাবে কাজ করবেন কী ভাবে? এই প্রশ্ন সত্ত্বেও জেলা জেলা সভাপতি নির্বাচনে এগিয়েছিল বিজেপি। এখন আবার আরও এক দফা জেলা সভাপতি বদলের তালিকা তৈরি হচ্ছে!

সূত্রের খবর, দক্ষিণের ডায়মন্ড হারবার, মথুরাপুর থেকে উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলার সভাপতি বদল কার্যত সময়ের অপেক্ষা। সভাপতি বদল হতে পারে মধ্যবঙ্গের জেলাতেও। কলকাতা এবং সংলগ্ন এলাকাতেও সভাপতি বদল নিয়ে চর্চা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে কয়েক জনকে হয়তো ভোটে প্রার্থী করে পুনর্বাসন দেওয়া হতে পারে। তবে বিজেপিরই একটি অংশের দাবি, বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী হবেন বলেই বীরভূম ও বিষ্ণুপুরে জেলা সভাপতি পরিবর্তন হয়েছে। এর সঙ্গে সার্বিক পরিবর্তনের সম্পর্ক নেই। বিজেপির এক শীর্ষ নেতার দাবি, নির্বাচন লড়া এবং নির্বাচন লড়ানো, এ বার এই দু’টো কাজ আলাদা ভাবে হবে। জেলা সভাপতিদের কাজ নির্বাচন লড়ানো। তাইকোনও বিধায়ক বা প্রার্থী হতে পারেন, এমন কাউকে জেলা সভাপতি রাখা হচ্ছে না। এমনকি, রাজ্য স্তরে যাঁরা প্রার্থী হবেন, তাঁদেরকেও নির্বাচন নিয়ন্ত্রক কোনও পদে রাখা হবে না। রাজ্য বিজেপির দায়িত্বপ্রাপ্ত সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সুনীল বনসল জেলা সভাপতিদের বৈঠকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, কারা নির্বাচনে লড়তে চান। ওই দুই জেলা সভাপতি তাঁদের আগ্রহের কথা জানান। তখনই বনসল রাজ্য সভাপতিকে নির্দেশ দেন, তাঁদের ওই পদ থেকে সরিয়ে দিতে।

জেলা সভাপতি বদল এবং তার সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে যে একাধিক মত ঘুরছে, তা নিয়ে মন্তব্যে না গিয়ে রাজ্য সভাপতি শমীক অবশ্য বলেছেন, ‘‘বিজেপি সংগঠিত দল। সেখানে যোগদানের অথবা সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির কোনও পূর্ব শর্ত থাকে না। এটা বহমান সাংগঠনিক প্রক্রিয়া। এর বেশি কিছু বলার নেই।’’

সদ্য প্রাক্তন জেলা সভাপতিদের ঘনিষ্ঠ শিবিরের দাবি, ভোটে লড়বেন বলেই তাঁরা নিয়ম মেনে সরে গিয়েছেন। কিন্তু অন্য গোষ্ঠীর দাবি, এক জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে দল পরিচালনা এবং ব্যক্তিগত স্তরে অনিয়ম, স্বজনপোষণ-সহ একাধিক অভিযোগ থাকার কারণেই এই শীর্ষ নেতৃত্ব এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বীরভূমের সদ্যপ্রাক্তন জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহার দাবি, ‘‘নতুন জেলা সভাপতির নেতৃত্বে আমরা বীরভূমের ৭টি আসনেই জয় লাভ করব।’’

দলের এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য, ‘‘আমি দলের অনুগত সৈনিক। দল কেন আমায় সরিয়েছে বা আমাকে প্রার্থী করবে কি না, সেটা দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

BJP West Bengal Assembly Election 2026 West Bengal BJP Bengal BJP

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy