Advertisement
E-Paper

লক্ষ্মীর আরাধনা করতে গিয়ে হাত পুড়ছে গৃহস্থের

বেগুন, পটল, মুলো, মায় বাঁধাকপি, ফুলকপি, স্কোয়াশ সবের দাম-ই একলাফে চড়ে গিয়েছে লক্ষ্মীপুজোর দু’দিন আগেই। দেবী লক্ষ্মীকে খিচুড়ি এবং লাবড়া ভোগ দেওয়ার রীতি রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০১৫ ০২:২১
ফলের পসরা নিয়ে কোচবিহারে।—নিজস্ব চিত্র।

ফলের পসরা নিয়ে কোচবিহারে।—নিজস্ব চিত্র।

বেগুন, পটল, মুলো, মায় বাঁধাকপি, ফুলকপি, স্কোয়াশ সবের দাম-ই একলাফে চড়ে গিয়েছে লক্ষ্মীপুজোর দু’দিন আগেই। দেবী লক্ষ্মীকে খিচুড়ি এবং লাবড়া ভোগ দেওয়ার রীতি রয়েছে। জলপাইগুড়ি থেকে শিলিগুড়ি সব্জি বাজারের চড়া দামে, গৃহস্থদের অনেকেরই চিন্তা, দেবীর ভোগ না হয় হবে, কিন্তু পুজোর পরে পাতপেড়ে খিচুড়ি লাবড়া খাওয়া যাবে তো! দামের উর্দ্ধগতিতে শুধু সব্জি নয়, পাল্লা দিচ্ছে ফলও। মালদহ, উত্তর দিনাজপুর বা কোচবিহার গুণগতমান যাই হোক না কেন আপেল, তরমুজ, আখের দর আকাশমুখী ছিল।

মালদহের ইংরেজবাজারে পুজোর কেনাকাটায় মহিলাদের ভিড় বেশি চোখে পড়েছে শনিবার। ইংরেজবাজারের বাসিন্দা রাখি রায় সরকার বললেন, ‘‘লক্ষ্মীপুজো তো ঘরে ঘরে হয়। পুজোর আগের দিন দাম বেশি হবে বলেই দু’দিন আগেই বাজার করতে এসেছিলাম। সামান্য তালশাঁস থেকে ছোট ডাব। সব কিছুর দাম শুনেই চমকে উঠেছি। যা দাম তাতে সপ্তাহিক পুজোর মতোই আয়োজন করতে হবে মনে হচ্ছে।’’ ইংরেজবাজারে ছোট লক্ষ্মীপ্রতিমা বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা দরে। পদ্মফুল ১৫ টাকা প্রতি পিস, পদ্মের চাকা ১০টাকা প্রতি বিক্রি হয়েছে। তালশাঁস আট থেকে দশ টাকা, যে সমস্ত ডাবে জলই হয়নি সেগুলি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা দরে। শসা ৫০ টাকা কেজি, আনারস ৪৫ টাকা প্রতি পিস, আপেল ১০০ টাকা কেজি, মৌসুমী ৬৫ টাকা কেজি, তরমুজ ৮০ টাকা কেজি, নারকেল ৪০ টাকা প্রতি পিস। জোগান কমের জন্য বাজারে দাম বেড়েছে বলে দাবি করেছেন ফল বিক্রেতা নব সাহা। চাঁচল দৈনিক বাজারে ছোট আধফোটা পদ্মফুল ১০ টাকা প্রতিটি, তালশাঁসও তাই। দুর্গাপুজোয় নারকেলের দাম ছিল ৩০ টাকা। এখন তার দাম পাঁচ টাকা বেড়ে ৩৫ টাকা হয়েছে।

লক্ষ্মীপুজোর প্রস্তুতি। (উপরে) ফালাকাটার জয়চাঁদপুরে ও (নীচে) শিলিগুড়িতে।
ছবি: রাজকুমার মোদক ও সন্দীপ পাল।

Advertisement

রায়গঞ্জের মোহনবাটি বাজারে আপেল প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ৮০ টাকায়। যেন পাল্লা দিয়ে বেড়েছে আনারস, বেদানার দরও। পূজার অন্যতম প্রধান ফল নারকেলের দাম বেড়ে দাড়িয়েছে ৩০ টাকা। রায়গঞ্জ মোহনবাটি বাজারের ফল বিক্রেতা সুজয় দাস জানিয়েছেন ফলের উর্দ্ধমুখী দামের কারণে ব্যবসায় কিছুটা হলেও ভাঁটা পড়েছে। ইসলামপুর বাজারে আপেলের মতো নাসপাতিও ৮০ টাকা কেজি প্রতি দরে বিক্রি হয়েছে। লক্ষ্মীপুজোর সময়ে ফল-সব্জির দাম বাড়াকে যেন ভবিতব্য ধরে নিয়েছেন অনেক গৃহিনী। কোচবিহার শহরের বাসিন্দা গৃহবধূ কৃষ্ণা সাহা বলেন, “প্রতি বছরই লক্ষ্মীপুজোর সময় ফল, সব্জি, পদ্মফুলের দাম আকাশ ছোঁয়া হয়। এ বারেও দাম বাড়তে শুরু করেছে। একটি পদ্ম ফুল ১০ টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে। ৫০ টাকার আপেল ৮০ টাকায় কিনতে হচ্ছে।”

এ দিন বালুরঘাটে ফলের বাজারে কেজি প্রতি শশার দাম ছিল ২০ টাকা। তবে কেশুর, শাঁকালু, নাসপাতি কেজি প্রতি দাম উঠেছে ৮০ টাকা। আপেল প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকা। আঙুর ২০০ টাকা কেজি। লক্ষীপুজোয় খিচুড়ি ভোগ হয়। এ বারে দুর্গাপুজোর আগে থেকেই মুগ ডালের দাম বেড়েছে। প্রতি কেজি মুগ ডালের দাম ১০০ টাকা থেকে ১২০ টাকা উঠে গিয়েছে। দক্ষিণ দিনাজপুরে খিচুড়ি রান্না হয় এখানকার সুপরিচিত চিনি আতপ চালে (সরু ও সুগন্ধি চাল)। তার দামও আকাশছোঁয়া। চিনি, আতপ চাল প্রতি কেজির দাম হয়েছে ৮০ টাকা। আরেক রকম মানের দাম প্রতি কেজি ৭০ টাকা। মালবাজারের গৃহবধূ বিউটি চৌধুরী বলেন, ‘‘লক্ষীপুজোতে বাড়িতে খিচুড়ির ভোগ হয়। ভেবেছিলাম দু’দিন আগেই বাজার সেরে রাখব। তবে এ দিন বাজারে গিয়ে দেখলাম, সেই ভাবনায় খুব একটা লাভ হল না।’’

জলপাইগুড়ির দিনবাজার, স্টেশন বাজার, বৌবাজার সর্বত্রই একই ভাবে দাম বেড়েছে। দেবীর আসনের পাশে গোছা ধরা ধানের শিষ রাখার কথা ভুলতে হচ্ছে অনেককে। শনিবার একটি ধানের শিষ বিক্রি হয়েছে পাঁচ টাকা দামে। পাঁচ গ্রাম ওজনের পঞ্চশস্যের প্যাকেটের দাম দশ টাকা। সরু রঙিন কাগজের মালার দাম দাঁড়িয়েছে দশ টাকা। একই দামে বিক্রি হচ্ছে চাঁদ মালা। সমাজপাড়ার বাসিন্দা বিমল সরকার বলেন, “বাজারে সস্তা বলতে একমাত্র আলু। তার বাইরে কিছু কিনতে গেলেই পকেতে টান পড়ছে। ভেবেছিলাম অন্য বছরের মতো খিচুড়ির ব্যবস্থা করব। বুঝতে পারছি না শেষ পর্যন্ত কী দাঁড়াবে।”

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy