আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বার্তা উপেক্ষা করে আবার লেবাননে হামলা চালাল ইজ়রায়েলি সেনা। বিবিসি প্রকাশিত খবরে দাবি, বুধবার ইজ়রায়েলি যুদ্ধবিমানগুলি নাবাতিয়ে আল-ফাওকা এলাকা এবং পার্শ্ববর্তী কফর তেবনিতের উপকণ্ঠে হামলা চালায়। লেবাননের ‘ন্যাশনাল নিউজ় এজেন্সি’ (এনএনএ) জানিয়েছে, অসামরিক জনবসতিতে হামলা চালিয়েছে ইজ়রায়েলি যুদ্ধবিমান। যদিও তেল আভিভের দাবি, হামলা হয়েছে শিয়া জঙ্গিগোষ্ঠী হিজ়বুল্লার ডেরায়। প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার ফ্রান্সে জি৭ শীর্ষবৈঠকে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘‘ইজ়রায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে লেবানন প্রসঙ্গে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।’’ সেই সঙ্গে অভিযোগ করেন, হিজ়বুল্লার বিরুদ্ধে নেতানিয়াহুর অভিযানের কারণে ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা প্রায় ভেস্তে যেতে বসেছিল।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের মাটিতে ইজ়রায়েলি সেনার হামলার পরেই প্রত্যাঘাত করেছিল তেহরানের মদতপুষ্ট সশস্ত্র শিয়া গোষ্ঠী হিজ়বুল্লা। জবাবে রাজধানী বেইরুট-সহ লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা শুরু করেছে তেল আভিভ। এর জেরে এখনও পর্যন্ত অন্তত ৮ লক্ষ মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন। সেখানে মোতায়েন রাষ্ট্রপুঞ্জের শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল ভারত-সহ ৩০টি দেশ। ওই পরিস্থিতিতে গত ১৬ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইজ়রায়েল এবং লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের সংঘর্ষবিরতির কথা ঘোষণা করেছিলেন। ইজ়রায়েল-হিজ়বুল্লা সংঘাত পশ্চিম এশিয়ায় শান্তির পথে অন্যতম ‘কাঁটা’। ইরানের সঙ্গে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের সমঝোতার ক্ষেত্রেও এই সংঘর্ষবিরতি প্রয়োজন। কিন্তু তার পরেও হিজ়বুল্লা দমনে দক্ষিণ লেবাননকে ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ বলে ঘোষণা করেছে ইজ়রায়েল, যা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক।
আরও পড়ুন:
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজ়ায় প্যালেস্টাইনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের বিরুদ্ধে ইজ়রায়েলি সেনার অভিযান শুরুর পরেই দক্ষিণ লেবাননে সক্রিয় শিয়া জঙ্গিগোষ্ঠী হিজ়বুল্লা তেল আভিভের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছিল। তেহরানের মদতপুষ্ট ‘অ্যাক্সিস অফ রেজ়িস্ট্যান্স’-এ লেবাননের হিজ়বুল্লা, ইরাকের ‘পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস’ (পিএমএফ) এবং আশাব আল-কাহ্ফ, ইয়েমেনের হুথির মতো সশস্ত্র শিয়া গোষ্ঠী রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে ইজ়রায়েলি সেনাও। কিন্তু লেবানন সরকার বা সেনা কখনও হিজ়বুল্লার বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করেনি। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, ইরানের মদতপুষ্ট ওই শিয়া সশস্ত্র বাহিনী লেবাননের গণতান্ত্রিক রাজনীতিরও অন্যতম অংশীদার। হিজ়বুল্লার রাজনৈতিক শাখা ‘লয়ালিটি টু দ্য রেজ়িস্ট্যান্স’-এর পার্লামেন্ট সদস্যদের সমর্থনের উপর লেবাননের জোট সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নির্ভর করে। এই পরিস্থিতিতে লেবাননের পক্ষে হিজ়বুল্লা বিরোধী পদক্ষেপ করা কঠিন।