বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে আন্দামান সাগরে উল্টে যায় একটি নৌকা। তার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ২৫০ জন রোহিঙ্গা এবং বাংলাদেশি। গত সপ্তাহে এই দুর্ঘটনাটি ঘটলেও মঙ্গলবার রাষ্ট্রপুঞ্জের সংস্থা ইউনাইটেড নেশনস রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেশন এজেন্সিস’ এই খবর প্রকাশ্যে এনেছে।
বাংলাদেশের উপকূলরক্ষী বাহিনী সংবাদসংস্থা এএফপি-কে জানিয়েছে, গত ৯ এপ্রিল তারা ওই নৌকায় থাকা ন’জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করেছে। তবে দুর্ঘটনাটি ঠিক কবে এবং কখন ঘটেছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, নৌকাটি বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় যাচ্ছিল। রাষ্ট্রপুঞ্জের ওই সংস্থা জানিয়েছে, ঝোড়ো হাওয়া এবং সমুদ্রের এলোপাথাড়ি ঢেউয়ে ভারসাম্য হারিয়ে নৌকাটি উল্টে যায়। দুর্ঘটনার সময় নৌকাটিতে অনেক বেশি যাত্রী ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
প্রসঙ্গত, রোহিঙ্গারা মায়ানমারের অন্যতম সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ এই দেশে নাগরিকত্ব না-পেয়ে বহু রোহিঙ্গা বাংলাদেশে চট্টগ্রাম উপকূলের অস্থায়ী শিবিরে থাকতে শুরু করেন। কিন্তু সেখানেও তাঁদের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকতে হয় বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জলপথে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়ার মতো তুলনায় উন্নত দেশে পাড়ি দিচ্ছেন।
উল্টে যাওয়া নৌকায় থাকা রফিকুল ইসলাম সংবাদসংস্থা এএফপি-কে জানিয়েছেন, তিনি প্রায় ৩৬ ঘণ্টা সাঁতার কাটছিলেন। তার পর তাঁকে উদ্ধার করে বাংলাদেশের উপকূলরক্ষী বাহিনী। তিনি এ-ও জানান যে, মালয়েশিয়ায় কাজের সন্ধানে যাচ্ছিলেন তিনি। একই উদ্দেশ্যে এশিয়ার ওই মুসলিমপ্রধান দেশে যাচ্ছিলেন বহু রোহিঙ্গা এবং বাংলাদেশি।