প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম ভাষণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছিলেন, ধর্ম যার-যার, দেশ সবার। যদিও সাম্প্রদায়িক অশান্তির অভিযোগ ওঠা বন্ধ হয়নি বাংলাদেশে। গত কাল বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের প্রতিবাদ মিছিল নেমে এল রাস্তায়। সম্প্রতি ইসলামি কট্টরপন্থীদের বাধায় এ দেশের গাইবান্ধা জেলায় রামের একটি সুবিশাল মূর্তি নির্মাণ বন্ধ হওয়া এবং রামের প্রতিকৃতির অবমাননার অভিযোগ ওঠে। তারই প্রতিবাদে গত কাল ঢাকায় হিন্দু সংগঠনগুলির আয়োজিত প্রতিবাদ মিছিলে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান উঠল। মশাল মিছিলে কয়েক হাজার প্রতিবাদী ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি তুললেন।
গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়িতে একটি মন্দির কমপ্লেক্সের অংশ হিসেবেই রামের ৮১ ফুট উঁচু একটি মূর্তি তৈরি করা হচ্ছিল। কৃষ্ণ এবং শিবের মূর্তিও তৈরি হচ্ছে এই প্রকল্পে। প্রায় ৮০ শতাংশ সম্পূর্ণ হয়ে যাওয়ার পরেও রামের মূর্তি তৈরির কাজ হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়। শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ মন্দির কমিটির সভাপতি হরিদাস চন্দ্র দাসের অভিযোগ, কট্টরপন্থী ইসলামি গোষ্ঠীগুলির হুমকির জেরেই ওই কাজ বন্ধ হয়েছে। মূর্তিটি ভাঙার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। এর উপরে চলতি মাসের গোড়ায় গাইবান্ধায় একটি বিক্ষোভে রামের ছবির অবমাননার অভিযোগ ওঠে। একটি মামলা দায়ের হলেও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।
গত কাল প্রতিবাদের ডাক দেয় হিন্দু মহাজোট। বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠন এবং পড়ুয়াদের একাংশ বিরাট মশাল মিছিল বার করেন ঢাকায়। শাহবাগ থেকে মিছিল করে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে মানববন্ধন করা হয়। ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) ভবনের কাছেও বিক্ষোভ হয়। রংপুরের একটি বিক্ষোভে পুলিশ বাধা দিলে ধস্তাধস্তি হয়। বিক্ষোভকারীদের দাবি, রামের অবমাননায় জড়িতদের ৭২ ঘণ্টায় গ্রেফতার করতে হবে। হিন্দু মহাজোটের হুঁশিয়ারি, রামের মূর্তি নির্মাণের কাজ আবার শুরু করতে দেওয়া না হলে বাংলাদেশের ৬৪টি জেলাতেই তারা একটি করে রাম মন্দির তৈরি করবে। আজও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় মিছিল বেরোয়। বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের আহ্বানে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা সদরে প্রতিবাদ সভা হয়েছে। কাল ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হবে বলে ছাত্র নেতারা জানান।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)