Advertisement
E-Paper

হাসিনার ভারতে থাকা বৃহত্তর পরিসরে দিল্লি-ঢাকার সম্পর্কে কোনও বাধা হবে না! জানাল বাংলাদেশের নতুন শাসকদল

শেখ হাসিনার সরকারের পতনের প্রায় দেড় বছর পরে বাংলাদেশে তৈরি হচ্ছে নতুন নির্বাচিত সরকার। নবনির্বাচিত সরকারের কেমন সম্পর্ক হবে ভারতের সঙ্গে, এ বার তার আভাস দিল বাংলাদেশের নতুন শাসক দল।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:০৩
বিএনপি চেয়ারপার্সন তথা বাংলাদেশের হবু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বিএনপি চেয়ারপার্সন তথা বাংলাদেশের হবু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। —ফাইল চিত্র।

ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক কোনও একটি বিষয়ের মধ্যে আটকে থাকবে না। শেখ হাসিনার প্রসঙ্গে এমনটাই জানাল বাংলাদেশের নতুন শাসকদল বিএনপি। হাসিনার ভারতে সাময়িক আশ্রয় নেওয়ার বিষয়টি বৃহত্তর পরিসরে দিল্লি-ঢাকার সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনও বাধা হয়ে উঠবে না। দ্য হিন্দু-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল। তাঁর দাবি, ভারতের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কথা বলা লোকেরা আসলে পাগলের প্রলাপ বকছেন।

ভারতের সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে যে সমস্যা রয়েছে বাংলাদেশের, তা মানছেন বিএনপি মহাসচিব। তবে দিল্লির সঙ্গে আলোচনা করে ওই সমস্যার সমাধান করতে চাইবে বাংলাদেশের নতুন সরকার, তা স্পষ্ট করে দেন তিনি। ফখরুল জানান, আগামী এক বছরের মধ্যেই গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তিতে ফরাক্কা বাঁধের প্রসঙ্গ নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চায় বাংলাদেশ। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকার সমস্যা নিয়েও ভারতের সঙ্গে আলোচনা করতে চায় সে দেশের নতুন সরকার। তাঁর কথায়, “আমরা ভারতের সঙ্গে লড়াই করতে পারব না। আমাদের কথা বলতে হবে। যাঁরা ভারতের সঙ্গে লড়াই করার কথা বলেন, তাঁরা পাগলের মতো কথা বলছেন।”

বাংলাদেশের নতুন শাসকদলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ ফখরুল। খালেদা জিয়া অসুস্থতার সময়ে সংগঠনকে বিদেশ থেকে দীর্ঘ সময় নেতৃত্ব দিয়েছেন তারেক রহমান। আর দেশের ভিতর থেকে সংগঠনকে চালিয়ে নিয়ে গিয়েছেন ফখরুল‌। মঙ্গলবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেবেন তারেক। সে দেশের নতুন সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কেমন হবে, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে কৌতূহল বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বার সেই শপথগ্রহণ পর্বের আগে ঢাকার গুলশানে দলীয় সদর দফতর থেকে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করলেন ফখরুল।

বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্য, বাংলাদেশের স্বার্থের জন্য যে সব প্রকল্প রয়েছে, সেগুলিকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ভারতের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্কও বৃদ্ধি করতে চান তাঁরা। হাসিনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা মনে করি হাসিনা সত্যিই গুরুতর ভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছেন। তাঁকে শাস্তি দেওয়ার দাবি তুলেছে জনতা‌। এবং, আমাদের মতে, তাঁকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়া উচিত ভারতের। কিন্তু শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর না-করার বিষয়টি বাণিজ্য-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৃহত্তর সম্পর্ক গড়ে তোলার পথে কোনও বাধা হবে না। আমরা আরও ভাল সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই।”

দুই দেশের সম্পর্ক যে কোনও একটি বিষয়ে আবদ্ধ থাকা কাম্য নয়, তা-ও স্পষ্ট করে দেন বিএনপি মহাসচিব। ‘দ্য হিন্দু’-কে তিনি জানান, দু’দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছু জটিল সমস্যা রয়েছে। সেগুলির সমাধান হওয়া দরকার। তবে যে ক্ষেত্রগুলিতে সহযোগিতার পথ খোলা রয়েছে, সেগুলিকে এর মধ্যে জড়ানো উচিত নয় বলেই মত বিএনপি মহাসচিবের। এ প্রসঙ্গে আমেরিকা এবং চিনের উদাহরণও তুলে ধরেন তিনি। ফখরুল বলেন, “আমেরিকা এবং চিনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। তবু তারা একে অপরের সঙ্গে কাজ করছে। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কও আমাদের শুধু একটি বিষয়ের মধ্যে আটকে রাখা উচিত নয়।”

India Bangladesh Ties bnp Mirza Fakhrul Islam Alamgir Tarique Rahman
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy