E-Paper

কানাডার ধাঁচে উদ্বাস্তু নীতিতে বদল আনছে ব্রিটেন

গত কাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে এ কথা জানানো হয়েছে। আর কিছু দিনের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর গদি ছাড়ছেন কিয়র স্টার্মার। কিন্তু তার আগেই তাঁর প্রশাসনের তরফে উদ্বাস্ত তথা শরণার্থী নীতিতে বড় বদল আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬ ০৮:০৪
কিয়র স্টার্মার।

কিয়র স্টার্মার। — ফাইল চিত্র।

গত এক বছরে ব্রিটেনের উদ্বাস্তু নীতিকে সামনে রেখে বারবারই প্রশ্নের মুখে পড়েছে লেবার সরকার। সরকারের উদ্বাস্তু এবং শরণার্থী নীতির বিরোধিতায় পথে নেমেছিলেন ব্রিটিশ নাগরিকেরাও। কয়েক সপ্তাহ আগে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের আলোচনায় সামনে এসেছিল ব্রিটেনের কুখ্যাত গ্রুমিং গ্যাংয়ের প্রসঙ্গও। যে সূত্রে কিশোরী ও শিশুকন্যাদের অপহরণ-ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল পাকিস্তানি শরণার্থীদের বিরুদ্ধে। ঘরে-বাইরে চাপের মুখে পড়ে অবশেষে অভিবাসন এবং উদ্বাস্তু সংক্রান্ত নীতিতে বড় রকমের বদল আনতে চলেছে ব্রিটেনের সরকার।

গত কাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে এ কথা জানানো হয়েছে। আর কিছু দিনের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর গদি ছাড়ছেন কিয়র স্টার্মার। কিন্তু তার আগেই তাঁর প্রশাসনের তরফে উদ্বাস্ত তথা শরণার্থী নীতিতে বড় বদল আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত কাল ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ জানিয়েছেন, ‘প্রকৃত’ শরণার্থীরা যাতে এ দেশে বৈধ ভাবে এসে বসবাস করতে পারেন, সে জন্য ‘কমিউনিটি স্পনসরশিপ স্কিম’ চালু করতে চলেছে লেবার সরকার। বহু দশক ধরে কানাডার সরকার এই নীতি অনুসরণ করে আসছে। শাবানা জানাচ্ছেন, নতুন এই নীতি চালু হলে এক দিকে যেমন ব্রিটেন থেকে অবৈধ অভিবাসীদের তাঁদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সহজ হবে, তেমনই প্রকৃত শরণার্থীদের এ দেশে পাকাপাকি ভাবে বসবাসের প্রক্রিয়াও সরল হবে। সেই সঙ্গে মূলত আফ্রিকার দেশগুলি থেকে ছোট ছোট নৌকা করে সমুদ্র পেরিয়ে ব্রিটেনে পৌঁছনোর প্রবণতাও কমবে বলে মনে করছে ব্রিটিশ সরকার।

প্রাথমিক ভাবে গির্জা বা এই ধরনের আরও কিছু নাগরিক সংগঠনের উপরেই ‘কমিউনিটি স্পনসরশিপ স্কিম’-এর দায়িত্ব দেওয়া হবে। দেশের বেশ কিছু নামী বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাণিজ্যিক সংস্থাও একই সঙ্গে এই দায়িত্ব সামলাবে। আগামী বছরের শেষের দিকে এই নতুন প্রকল্পের আওতায় প্রথম দফার শরণার্থীরা এ দেশে এসে পৌঁছবেন বলে জানানো হয়েছে। তবে সেই সংখ্যাটা ঠিক কত হতে পারে, তা নিয়ে এখনই মুখ খোলেনি ব্রিটিশ সরকার। ‘প্রকৃত উদ্বাস্তু’ বলতে মূলত যুদ্ধ এবং রাজনৈতিক পীড়ন থেকে পালিয়ে আসা মানুষদের বুঝিয়েছেন শাবানা। তাঁর বক্তব্য, জালিয়াতি করে নিজেদের শরণার্থী বা উদ্বাস্তু হিসেবে দেখিয়ে ব্রিটেনে পাকাপাকি ভাবে থেকে যাওয়া মানুষের সংখ্যা নেহাত কম নয়। নতুন নীতি এলে এই ধরনের জালিয়াতি বা কারচুপি কমবে বলে দাবি মন্ত্রীর। কারণ ‘কমিউনিটি স্পনসরশিপ স্কিম’-এর দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলিই এর পর থেকে কঠোর যাচাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ‘প্রকৃত উদ্বাস্তু’-দের এ দেশে থাকার বন্দোবস্ত করবে বলে জানানো হয়েছে। শুধু থাকাই নয়, উদ্বাস্তু পরিবারগুলির কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করে দেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলিই। তবে এই প্রথা ব্রিটেনে একেবারে নতুন নয়। ‘ইউকে রিসেটলমেন্ট স্কিম’-এর আওতায় এ ভাবে শরণার্থীদের এ দেশে থাকার বন্দোবস্ত আগেও করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে হাউস অব কমন্সে এ বিষয়ে নতুন বিল আনতে চলেছে স্টার্মার প্রশাসন। তবে ব্রিটেনের অতি দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক দলগুলি এর বিরোধিতা করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Britain Keir Starmer

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy