Advertisement
E-Paper

বিধ্বংসী জবাব দেব! মার্কিন সেনাকে হুঁশিয়ারি ইরানের, পর পর গোলাবর্ষণ বাহরিন ও কুয়েতের ঘাঁটিতে, ট্রাম্পকে বার্তা

ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, একটা সময়ের পর তাঁর দেশ আর সংযত থাকতে পারবে না। ইরান দেশটির আর কোনও অস্তিত্বই থাকবে না। এর পর পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে বোমা ফেলে ইরান।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬ ০৯:৫৯
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

আমেরিকার সেনাবাহিনীকে চূড়়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়ে দিল ইরান। বলা হল, শত্রুপক্ষের যে কোনও আগ্রাসনের পরিপ্রেক্ষিতে এ বার থেকে ‘বিধ্বংসী জবাব’ দেওয়া হবে। কোনও অজুহাতেই আর রেয়াত করা হবে না। শনিবার দক্ষিণ ইরানে আমেরিকার হামলার পর রবিবার ভোরে পশ্চিম এশিয়ার মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ করেছে তেহরান। রেভলিউশনারি গার্ড বাহিনী রাত ২টো থেকে ৩টের মধ্যে বোমা ফেলেছে কুয়েত এবং বাহরিনে। ওই দুই দেশে ক্ষয়ক্ষতি কতটা হয়েছে, এখনও স্পষ্ট নয়।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবারই হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, একটা সময়ের পর তাঁর দেশ আর সংযত থাকতে পারবে না। ইরানে যে কাজ তাঁরা শুরু করেছিলেন, তা সামরিক ভাবে শেষ করতে হবে। তা যদি হয়, ইরান দেশটির আর কোনও অস্তিত্বই থাকবে না। এর পরেই ইরানের গার্ড বাহিনী বিবৃতি দিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ‘‘প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, চুক্তি ভঙ্গ করা এই আগ্রাসী শত্রুর সহজাত বৈশিষ্ট্য। ওরা রেভলিউশনারি গার্ডের কিছু পদক্ষেপের অজুহাত দিয়ে ইরানের পাঁচটি উপকূলীয় ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। এ বার থেকে নিয়ম ভাঙলে যে কোনও জাহাজের বিরুদ্ধে আগের চেয়ে আগের চেয়েও কঠোর পদক্ষেপ করা হবে। ভবিষ্যতে শত্রুর যে কোনও আগ্রাসনের বিধ্বংসী জবাব দেওয়া হবে। গত দু’দিনের মতো কম গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিতেও নিশানা করা হলেও কেউ ছাড় পাবে না।’’

দু’সপ্তাহ আগেই আমেরিকা এবং ইরান ১৪ দফা শর্তের মউ স্বাক্ষর করেছে। তাতে ৬০ দিনের সংঘর্ষবিরতির কথা বলা হয়েছিল। উভয়পক্ষই চুক্তির শর্ত ভাঙার অভিযোগ তুলছে পরস্পরের বিরুদ্ধে। আমেরিকাকে সেই চুক্তি আরও এক বার মনে করিয়ে দিয়েছে ইরান। তাদের সেনার বক্তব্য, ‘‘শত্রু পক্ষকে বুঝতে হবে, সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘনের অর্থ স্বাক্ষরিত মউ-এর প্রথম ধাপকেই লঙ্ঘন করা। এটা চলতে থাকলে সমঝোতার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াই বাতিল হয়ে যাবে।’’

ইরান ও আমেরিকার মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় পশ্চিম এশিয়ায় ফের শান্তি বিঘ্নিত হচ্ছে। ইরানের নৌ এবং বায়ুসেনা যৌথ ভাবে হামলা চালিয়েছে কুয়েত, বাহরিনে। কুয়েতের সেনাবাহিনী সেই হামলার কথা নিশ্চিত করেছে। তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়। ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হচ্ছে তার মাধ্যমে।

গত বৃহস্পতিবার ওমান উপকূলে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী একটি জাহাজে হামলা হয়। সেখান থেকেই নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায় পশ্চিম এশিয়ায়। আমেরিকার দাবি, জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরান। আবার ইরান সেই অভিযোগ অস্বীকার করে দায় ঠেলেছে মার্কিন সেনার দিকেই। এর মধ্যে শনিবার ফের হরমুজ়ে পানামার একটি ট্যাঙ্কার আক্রান্ত হয়। তার প্রেক্ষিতে হামলা-পাল্টা হামলা চলছে। ক্রমশ জটিল হচ্ছে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি।

সংক্ষেপে
  • ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
  • আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
  • শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
সর্বশেষ
২ ঘণ্টা আগে
US Iran Peace Deal Tehran Donald Trump Masoud Pezeshkian

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy