হরমুজ় প্রণালীতে ফের আক্রান্ত হল পণ্যবাহী জাহাজ। শনিবার দুপুরের ওই হামলায় জাহাজের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কে বা কারা হামলা চালিয়েছে, তা প্রাথমিক ভাবে স্পষ্ট নয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার হরমুজ়ে একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলার অভিযোগ ওঠে ইরানের বিরুদ্ধে। তার জেরে ফের আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের উপর নজরদারির ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ ‘ইউকেএমটিও’ জানিয়েছে, হরমুজ় প্রণালীতে একটি ট্যাঙ্কারে হামলা হয়েছে। কোথা থেকে ওই ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে, তা জানা যায়নি। হামলায় জাহাজটির কিছু অংশে ক্ষতি হলেও নাবিকেরা সকলে নিরাপদ রয়েছে। তবে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠা পরিস্থিতির মাঝে এই হামলা ফের উদ্বেগ বৃদ্ধি করেছে অবাধ জাহাজ চলাচল নিয়ে।
শান্তিসমঝোতার লক্ষ্যে আমেরিকা-ইরান মউ স্বাক্ষরের পর গত কয়েক দিনে হরমুজ় দিয়ে জাহাজ চলাচলের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছিল। তবে বৃহস্পতিবার ইরান হরমুজ়ে একটি জাহাজে হামলা করেছে বলে অভিযোগ তোলে আমেরিকা। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, মউ-এর শর্ত ভেঙে ওই হামলা চালিয়েছে তেহরান। তার জবাবে শুক্রবার ইরানের উপকূল অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের গুদামগুলিকে নিশানা করে মার্কিন বাহিনী। তাতে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। প্রত্যাঘাত করে ইরানও। পশ্চিম এশিয়ার কিছু জায়গায় সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইরানি বাহিনী। যদিও আমেরিকার দাবি ইরান হামলা করলেও তা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারেনি। মার্কিন আধিকারিক সূত্রে সিএনএন জানাচ্ছে, দু’টি ড্রোন শনাক্ত করেছে আমেরিকা। তবে ওই ড্রোনগুলি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারেনি।
আরও পড়ুন:
শুক্রবারের হামলা নিয়ে ইতিমধ্যে আমেরিকাকে সতর্ক করে দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজ়িজ়ি। তিনি বলেন, ‘‘সমঝোতার আলোচনার মাঝে ফের আমেরিকা আক্রমণ করেছে ইরানকে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ব্যর্থ। তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন, সংঘর্ষবিরতির প্রতি তাঁর কোনও দায়বদ্ধতা নেই। সংঘর্ষবিরতির এই বেপরোয়া লঙ্ঘন প্রতি বারের মতো এ বারও আমেরিকাকে পিছু হটতে এবং পস্তাতে বাধ্য করবে। দোষারোপের খেলা আর কাজ করবে না।’’
অন্য দিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সও বুঝিয়ে দিয়েছেন, ইরান হামলা হলে তার প্রত্যাঘাত করবে আমেরিকা। তাঁর কথায়, ‘‘ইরান একটা সংঘর্ষবিরতি সমঝোতায় স্বাক্ষর করেছিল। আমরা তাকে সম্মান জানিয়েছি। মউ-এর শর্তাবলি কী ভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে, সেই পদ্ধতি নিয়ে ইরানের যদি কোনও আপত্তি থাকে, তারা ফোন হাতে তুলে নিতে পারে। তবে হিংসার জবাব হিংসাই।’’