কলকাতা পুরসভার আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে দুই তৃণমূল শিবিরে। সেই প্রেক্ষাপটে শনিবার ইস্টার্ন মেট্রোপলিটন বাইপাসের ধারের একটি হোটেলে বৈঠকে বসলেন তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ তথা বিদ্রোহী গোষ্ঠীর কাউন্সিলরেরা। ছিলেন বিদ্রোহী শিবিরের কয়েক জন বিধায়কও। তৃণমূল স্তরে সংগঠনকে আরও মজবুত করা এবং নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করাই ছিল এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য। বৈঠকে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান মুখ তথা এন্টালির তৃণমূল বিধায়ক সন্দীপন সাহা জানিয়ে দেন, তাঁরাই আসল তৃণমূল। কংগ্রেস ভেঙে যে ভাবে তৃণমূল তৈরি হয়ে রাজ্যে বিকল্প শক্তি হিসাবে উঠে এসেছিল, এ ক্ষেত্রেও রাজ্যে প্রকৃত বিরোধী হিসাবে তাঁরাই আমজনতার কাছে গ্রহণযোগ্য হবেন বলেও দাবি করেন ওই বিধায়ক।
বৈঠকে কলকাতা পুরসভার মোট ৫১ জন কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক কাউন্সিলরের উপস্থিতি পুরভোটের প্রাক্কালে কালীঘাট তৃণমূল শিবিরকে ধাক্কা দিতে পারবে বলেই মনে করছেন বিদ্রোহীরা। বৈঠকে উপস্থিত উল্লেখযোগ্য নামগুলির মধ্যে ছিলেন দেবলীনা বিশ্বাস, জাভেদ খান, অমিত সিংহ, অরূপ চক্রবর্তী, সৌরভ বসু, সুমন সিংহ, পাপিয়া সিংহ, তারক সিংহ, সুদর্শনা, অমল চক্রবর্তী, গোলাম রব্বানী, সন্দীপন সাহা ও আক্রুজ্জামান। তাঁরা যে আগামী দিনে তৃণমূলের প্রতীকের জন্যও লড়াইয়ে নামবেন, বৈঠকে উপস্থিত নেতারা তা বুঝিয়েও দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে তাঁরা যে রাজনীতির ময়দানে কালীঘাট তৃণমূলকে ময়দান ছেড়ে দেবেন না, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন নেতারা। রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক আখরুজ্জমান বলেন, ‘‘আমরাই যে আসল তৃণমূল তা ইতিমধ্যে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।’’
আরও পড়ুন:
বিদ্রোহী বিধায়ক তথা কাউন্সিলরদের বৈঠককে কটাক্ষ করে কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র বলেন, ‘‘বিদ্রোহী বিধায়কেরা রাজনৈতিক লড়াইয়ের বদলে আইনি ও সাংগঠনিক জটিলতা নিয়েই বেশি ব্যস্ত। তৃণমূলের প্রতীক তৈরি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে। মানুষ কোনও ব্যক্তি নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বকে সমর্থন করে ভোট দিয়েছে। তাই তিনি যে প্রতীকেই লড়ুন না কেন, মানুষ সেই প্রতীককেই ভোট দেবেন। আর আজ কাউন্সিলরদের নিয়ে যে বৈঠক হচ্ছে, মেয়রের পদত্যাগ এবং নির্বাচিত বোর্ড ভেঙে যাওয়ার পর বর্তমান আইনি কাঠামো অনুযায়ী কোনও কাউন্সিলরই এখন আর পদে নেই।’’