তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে তৎপর রাজ্যের নতুন সরকার। সেই লক্ষ্যে এ বার ৫১টি আইটিআই-কে বেসরকারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দিতে চাইছে রাজ্য সরকার। শনিবার কলকাতায় বণিকসভার এক সম্মেলনে এমনটাই জানালেন রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষা তথা প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়।
আইটিআই এবং বৃত্তিমূলক কোর্সের পড়ুয়াদের উন্নতমানের প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে গত বছর থেকে চালু হয়েছে ‘পিএম সেতু’ (প্রধানমন্ত্রী স্কিল এনহ্যান্সমেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিং আপলিফ্টমেন্ট) প্রকল্প। ‘বেঙ্গল চেম্বার অফ কর্মাস’-এর আলোচনাসভায় সেই প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষামন্ত্রী। এর আওতায় বেসরকারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় আইটিআই পড়ুয়াদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও প্রশিক্ষণে গতি আসবে বলে মনে করছেন তিনি।
জগন্নাথ বলেন, “দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রশিক্ষণের কাজ যেমন সরকার নিজেরা করাচ্ছে, একই ভাবে ‘পিএমসেতু’ বলে একটি নতুন প্রকল্প এসেছে। গত বাজেটে নির্মলাজি (কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী) ঘোষণা করেছেন, এক হাজারটি আইটিআই আমরা ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে কোলাবরেশনে স্কিলড ম্যানপাওয়ার তৈরি করার (লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে)। তাতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ৫১টি আইটিআই-কে আমরা ইন্ডাস্ট্রিকে দিয়ে দিতে চাইছি।” এর মাধ্যমে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার মিলে ৫১টি আইটিআই-এর জন্য প্রায় ১০০০-১২০০ কোটি টাকার পুঁজি টানতে চায় বলে মনে করছেন রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী।
রাজ্যের নতুন সরকার যে কারিগরি শিক্ষাক্ষেত্রে ভোলবদলে আগ্রহী, সেই আভাস আগেই দিয়েছেন জগন্নাথ। সম্প্রতি কলকাতার মিলনমেলায় ‘পিএমসেতু’-র প্রথম কর্মশালা আয়োজিত হয়। সেখানে জগন্নাথ জানান, বিগত সরকারের আমলেই বিভিন্ন সরকারি আইটিআই-এর জমি-বাড়ি বেসরকারি সংস্থাকে দিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেখানেও বালি সিমেন্টের সিন্ডিকেট চলেছে। নতুন সরকারের আমলে চিত্রের বদল হবে। রাজ্যের ৫১টি আইটিআই-এর মানোন্নয়নে বেসরকারি সহযোগিতা নেওয়া হবে বলেও সে দিনই জানিয়েছিলেন তিনি। শনিবার বণিকসভার বক্তৃতায় তা আরও এক বার স্পষ্ট করলেন জগন্নাথ।
আরও পড়ুন:
বাণিজ্যিক সংস্থাগুলির উদ্দেশে উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “আমি উদাত্ত কণ্ঠে আপনাদের আহ্বান করছি, পিএম সেতু প্রকল্পে আমাদের যে ৫১টি আইটিআইগুলির সঙ্গে কোলাবরেট করুন।” কথা প্রসঙ্গে তিনি এ-ও বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ, কতগুলো বেচতে পারি। দাদা, চেষ্টা করছি বেচার।” বেসরকারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলি যাতে অন্তত পাঁচ বছরের জন্য এই প্রকল্পে যুক্ত হয়, সেই অনুরোধও করেন তিনি। তার মধ্যে আইটিআইগুলির কিছুটা হলেও উন্নয়ন হয়ে যাবে বলে মনে করছেন তিনি।
জগন্নাথ বলেন, “ইন্ডাস্ট্রি এসে কারিকুলাম ঠিক করবে। তারা বলবে কী দরকার আছে।” এ প্রসঙ্গে আসানসোল খনি অঞ্চলের উদাহরণও টেনে আনেন তিনি। জগন্নাথ জানান, খনি অঞ্চলে কয়লা কাটার গাড়ির জন্য দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে চালক আনতে হয়। তাঁদের লক্ষ লক্ষ টাকা বেতন। সে কথা উল্লেখ করে জগন্নাথ বলেন, “আমরা কি আমাদের এখানকার ড্রাইভারদের প্রশিক্ষণ দিতে পারি না? অনেক সুযোগ আছে। টাটা আইটিআই নিয়ে উত্তরপ্রদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করছে। মিত্তলেরা অন্ধ্রের সরকারের সঙ্গে কাজ করছে।”