বছরদুয়েক আগের কথা। কানাডার টরন্টো বিমানবন্দর থেকে খোয়া গিয়েছিল ১৮ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের সোনা এবং নগদ আড়াই মিলিয়ন মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় দু’কোটি টাকা)! কানাডার ইতিহাসে এত বড় চুরির ঘটনা অতীতে কখনও ঘটেনি। ওই ঘটনায় আগেই সাত জনকে গ্রেফতার করেছিল সে দেশের পুলিশ। এ বার ধরা পড়লেন অষ্টম অভিযুক্ত। পুলিশ জানাল, চুরির ঘটনায় আরও এক অভিযুক্ত ভারতে পালিয়েছেন। তাঁর খোঁজ চলছে।
সোমবার টরন্টো বিমানবন্দর থেকে এক জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতের নাম আরসালান চৌধুরী। ৪৩ বছর বয়সি ওই ব্যক্তি দুবাই থেকে রওনা দিয়েছিলেন টরন্টো বিমানবন্দরের উদ্দেশে। বিমানবন্দরে নামামাত্রই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, চুরি, অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তি দখল এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মতো নানা অভিযোগ রয়েছে ধৃতের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি, পুলিশ জানিয়েছে, সোনা ও টাকা চুরির ঘটনায় আর এক অভিযুক্ত সম্ভবত ভারতে পালিয়েছেন। তাঁর নাম সিমরনপ্রীত পানেসর। ব্র্যাম্পটনের বাসিন্দা ৩৩ বছর বয়সি ওই যুবক নিজেও একটি বিমান সংস্থায় কাজ করতেন। তিনিই বিমানবন্দরের সিস্টেমে হেরফের করে সোনা ও নগদবোঝাই শিপমেন্টটি সরিয়ে ফেলেছিলেন বলে অভিযোগ। ভারতে শেষ বার সিমরনপ্রীতকে দেখা গিয়েছিল ২০২৫ সালে, চণ্ডীগড়ের একটি ভাড়াবাড়িতে। আপাতত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে কানাডা জুড়ে।
আরও পড়ুন:
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৩ সালের ১৭ এপ্রিল। ওই দিন সুইৎজ়ারল্যান্ডের জুরিখ থেকে টরন্টোর পিয়ারসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি উড়ান পৌঁছোয়, যেখানে প্রায় ৪০০ কেজি সোনা ছিল। ওই সোনার সমস্তটাই ছিল ০.৯৯৯৯-বিশুদ্ধ, যার বাজারদর ১৮ কোটি টাকারও বেশি। এর পাশাপাশি, বৈদেশিক মুদ্রায় নগদ প্রায় ২ কোটি টাকা ছিল ওই শিপমেন্টে। উড়ান অবতরণের পর শিপমেন্টটি সাবধানে বিমানবন্দরের একটি নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পর দেখা যায়, সোনা ও নগদবোঝাই শিপমেন্টটি উধাও হয়ে গিয়েছে! এর পরেই তদন্তে নামে পুলিশ। অভিযানের নাম দেওয়া হয় ‘প্রজেক্ট ২৪কে’। প্রথমেই চুরির সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দশ জনকে চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এর পর একে একে ধরা পড়েন অর্চিত গ্রোভার, পরমপাল সিধু, অমিত জালোটা, প্রসাথ পরমালিঙ্গম, আলি রাজা, আম্মাদ চৌধুরী এবং ডুরান্টে কিং-ম্যাকলিন।