×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

১৯ এপ্রিল ২০২১ ই-পেপার

আমেরিকাকে টপকে ২০২৮-এই বৃহত্তম অর্থনীতি চিন!

সংবাদ সংস্থা
লন্ডন ২৬ ডিসেম্বর ২০২০ ১১:০৮
গ্রাফিক: শৌভিক দেবনাথ।

গ্রাফিক: শৌভিক দেবনাথ।

সারা বিশ্বের অর্থনীতির বড় ক্ষতি করলেও চিনের অর্থনীতির উপর খুব বেশি প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি কোভিড। তা ফের প্রমাণিত হল। অতিমারির অতীত পিছনে ফেলে ২০২৮ সালেই আমেরিকাকে ছাপিয়ে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে উঠে আসবে চিন। নিজেদের বার্ষিক রিপোর্টে এমনটাই দাবি করল ব্রিটেনের অন্যতম শীর্ষ অর্থনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা ‘সেন্টার ফর ইকনমিকস অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চ’। এর আগে, ডিসেম্বরের শুরুতে একই ইঙ্গিত দিয়েছিল জাপানের সেন্টার ফর ইকনমিক রিসার্চ। তারা জানিয়েছিল, ২০২৮ অথবা ’২৯ সালের মধ্যেই আমেরিকাকে ছাপিয়ে যাবে চিন।

আর্থিক শক্তিবৃদ্ধির নিরিখে বিশ্বের অন্যতম দুই ক্ষমতাশালী রাষ্ট্রের অবস্থান পাল্টালেও, বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে জাপানের অবস্থান পাল্টানোর তেমন সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে ব্রিটেনের ওই সংস্থা। তবে ২০৩০ সালের শুরুর দিকে তাদের টপকে তৃতীয় স্থানে উঠে আসতে পারে ভারত। সে ক্ষেত্রে জার্মানি চতুর্থ থেকে পঞ্চম স্থানে চলে আসতে পারে। এই মুহূর্তে বিশ্বতালিকায় ব্রিটেন পঞ্চম স্থানে রয়েছে। ২০২৪ সাল নাগাদ তারা ষষ্ঠ স্থানে নেমে যেতে পারে।

ওই রিপোর্টের দাবি, কোভিড অতিমারি চলা সত্ত্বেও ছন্দেই রয়েছে চিনের অর্থনীতি। অন্যদিকে, আমেরিকার অর্থনীতি এখনও বিশ বাঁও জলে। এই ফারাকের জন্যই দীর্ঘ মেয়াদে লাভবান হবে চিন। কারণ চিনের বর্তমান মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনে তেমন হেরফের হয়নি কোভিডের ফলে। ওই রিপোর্ট দাবি করেছে, ২০২০ সালে বিশ্বের সব দেশের অর্থনীতি যখন ঝিমোচ্ছে, তখন চিনের আর্থিক বৃদ্ধি ২ শতাংশ বাড়বে। অন্য দিকে, আমেরিকার অর্থনীতি সঙ্কুচিত হবে প্রায় ৫ শতাংশ। এই ফারাকই এগিয়ে দেবে চিনকে।

Advertisement

আরও পড়ুন: বাড়ির সামনে গুলি করে খুন আফগান সমাজকর্মীকে​

শনিবার প্রকাশিত ওই রিপোর্টে বলা হয়, ‘বেশ কিছু বছর ধরেই চিন এবং আমেরিকার মধ্যে অর্থনৈতিক এবং ক্ষমতার লড়াই চলে আসছে। কিন্তু নোভেল করোনাভাইরাসের জেরে উদ্ভুত অতিমারি পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক দিক থেকে চিন অনেকটা সুবিধাজনক জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে।’

কী ভাবে?

সময়মতো লকডাউন ঘোষণা করে দক্ষ হাতে কোভিড পরিস্থিতি সামাল দিতে পেরেছে বলেই অন্য দেশের তুলনায় চিন তাড়াতাড়ি অতিমারির প্রকোপ কাটিয়ে উঠতে পেরেছে বলে দাবি করেছে ওই সংস্থা। যার ফলে চিনের অর্থনীতিতে তেমন প্রভাব পড়েনি। মূলত উহান বাদে চিনের অন্য প্রদেশেও তেমনভাবে ছড়ায়নি কোভিড। ফলে দেশের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের পরিমাণও তেমন ভাবে সঙ্কুচিত হয়নি।

ওই সংস্থা জানিয়েছে, ২০২১ থেকে ’২৫ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর গড়ে ৫.৭ শতাংশ আর্থিক বৃদ্ধি ঘটবে চিনের অর্থনীতির। ২০২৬ থেকে ’৩০ পর্যন্ত বৃদ্ধির গতি কিছুটা কমলেও, ওই ৪ বছরে অন্তত ৪.৫ শতাংশ করে বৃদ্ধি ঘটবে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ব্রিটেনের নতুন করোনা স্ট্রেনের খোঁজ ফ্রান্সে, সাময়িক বন্ধ ইংল্যান্ড সীমান্ত​

অন্যদিকে, কোভিড সঙ্কট কাটিয়ে ২০২১ সালে আমেরিকার অর্থনীতি ছন্দে ফিরবে বলে এত দিন মনে করছিলেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু এই মুহূর্তে সে দেশের যা পরিস্থিতি, তাতে ২০২২ সাল থেকে ’২৪ পর্যন্ত প্রতিবছর আমেরিকার বৃদ্ধি ১.৯ শতাংশ করে কমবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Advertisement