E-Paper

বাংলাদেশে প্রলয়ের মৃত্যুতে প্রশ্নে হেফাজতে প্রাণহানি

কানাডাভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন গ্লোবাল সেন্টার ফর ডেমোক্র্যাটিক গভর্নেন্স একটি প্রতিবেদনে দাবি করেছে, বাংলাদেশের বর্তমান মানবাধিকার পরিস্থিতি গভীর সংকটে।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:৩৯

— প্রতীকী চিত্র।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হামলার অভিযোগে তিনি কারাবন্দি ছিলেন। বাংলাদেশের জনপ্রিয় গায়ক তথা আওয়ামী লীগ নেতা প্রলয় চাকী সেই হেফাজতে থাকাকালীনই অসুস্থ হয়ে মারা গেলেন। হেফাজতে থাকাকালীন প্রলয়ের মৃত্যু নিয়ে শোরগোল পড়েছে। সম্প্রতি কানাডার একটি সংস্থার রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, মুহাম্মদ ইউনূসের শাসনাধীন বাংলাদেশে ৮৫টি বিচার বহির্ভূত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

কানাডাভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন গ্লোবাল সেন্টার ফর ডেমোক্র্যাটিক গভর্নেন্স একটি প্রতিবেদনে দাবি করেছে, বাংলাদেশের বর্তমান মানবাধিকার পরিস্থিতি গভীর সংকটে। কারা হেফাজতে কমপক্ষে ৮৫টি বিচার বহির্ভূত মৃত্যুর ঘটনার বিষয়টি উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউনূসের আমলে এমন ‘বিচারহীন’ মৃত্যুর ঘটনা যেন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংস্থাটি বলছে, বর্তমান সরকার অনির্বাচিত। তাই তাদের জবাবদিহির দায়বদ্ধতা নেই। সেই সুযোগে রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলি এক ধরনের ছাড় পেয়ে যাচ্ছে।

পাবনার আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক প্রলয়ের মৃত্যুর ঘটনা এই প্রশ্নকে আরও একবার উস্কে দিচ্ছে। গত পরশু বাংলাদেশের রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান প্রলয়। পাবনা জেলা সংশোধনাগারে বন্দি ছিলেন তিনি। তিনি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হামলার মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন। সংশোধনাগারের সুপার ওমর ফারুকের দাবি, প্রলয় গুরুতর ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগ-সহ নানা রোগে ভুগছিলেন। প্রলয়ের ছেলে সানি চাকীর অভিযোগ, তাঁর বাবার হৃদরোগের সমস্যা ছিল। কিন্তু জেলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে অবস্থার অবনতি হয়। এমনকি, প্রলয়ের অসুস্থতার খবর পরিবারকে জানানো হয়নি বলে অভিযোগ সানির। তিনি স্পষ্ট ভাবেই জানিয়েছেন, তাঁর বাবা মৃত্যু হয়েছে জেল কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণেই।

অভিযোগ মানতে নারাজ জেল কর্তৃপক্ষ। ফারুক বলেছেন, “রবিবার রাত ৯টার পরে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রলয়ের মৃত্যু হয়েছে।” তিনি আরও জানান, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রলয় চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে ছিলেন। খবর, সংশোধনাগারের বাকি আধিকারিকেরাও জানিয়েছেন, স‌ংশোধনাগারে থাকাকালীন প্রলয়ের অবস্থার অবনতি হয়। সঙ্গে সঙ্গে সংশোধনাগারের চিকিৎসকেরা তাঁকে পাবনা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। সেখানে পরিস্থিতির অবনতি হলে শুক্রবার গভীর রাতে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয় শিল্পীকে।

এ দিকে, সোমবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ শামসুজ্জামান ওরফে ডব্লিউ নামে এক বিএনপি নেতাকে আটক করেছিল সেনাবাহিনীর একটি দল। তার পরেই হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। তবে সেনাবাহিনীর দাবি, চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বাহিনী অভিযান চালায়। একটি ওষুধের দোকান থেকে অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে শামসুজ্জামানকে আটক করা হয়। পরে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি মারা যান।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

custodial death Bangladesh

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy