আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র হানা ইরানে। আকাশে বিস্ফোরণের ধোঁয়া। ছবি: রয়টার্স।
ইরানের পরমাণুকেন্দ্র নাতান্জ় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে! নিশ্চিত করল রাষ্ট্রপুঞ্জ নিয়ন্ত্রিত আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)। তারা জানিয়েছে, ইরানের নাতান্জ় শহরে থাকা পরমাণুকেন্দ্রের কিছু জায়গার ক্ষতি হয়েছে। তবে এ-ও জানায়, ক্ষতির পরিমাণ তেমন মারাত্মক নয়। নাতান্জ় পরমাণুকেন্দ্রের প্রবেশের মুখে যে ভবনগুলি রয়েছে, সেগুলি আঘাতপ্রাপ্ত। অক্ষত রয়েছে মাটির নীচে থাকা পরমাণু স্থাপনা। কোনও তেজস্ক্রিয় বিকিরণ হয়নি।
ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়েই জানিয়েছেন, তারা যুদ্ধ শুরু করেননি। তাই যুদ্ধ থামাতে হবে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলকে। আন্তর্জাতিক সংগঠনকে তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল যে আগুন জ্বালিয়েছে, তা পুরো বিশ্বকে গিলে খাবে।
দক্ষিণ লেবাননে প্রায় ৫৯টি গ্রাম খালি করে বাসিন্দাদের চলে যেতে বলল ইজ়রায়েল। তারা জানাল, ওই এলাকায় হিজ়বুল্লা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য়দের নির্মূল করতে অভিযান শুরু করা হবে।
কাতারের বিদেশ মন্ত্রক দাবি করেছে, তাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার চেষ্টা করেছিল ইরান। যদিও তা ব্যর্থ হয়েছে।
কাতারে ট্রানজ়িটে আটকে অন্তত আট হাজার জন। তাঁদের থাকার জন্য হোটেলের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানাল সে দেশের বিদেশ মন্ত্রক।
ইজ়রায়েল দাবি করেছে, ইরানে প্রেসিডেন্টের দফতরে হামলা চালিয়েছে তাদের বায়ুসেনা। সোমবার রাতে (ইরানের সময়ে) এই হামলা চালানো হয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের উপর নজরদারি চালাতে ইজ়রায়েলের ট্রাফিক ক্যামেরা এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক হ্যাক করেছিল ইজ়রায়েল! একাধিক সূত্রকে উদ্ধৃত করে এমনটাই দাবি করা হয়েছে ব্রিটিশ সংবাদপত্র ‘ফিনানসিয়াল টাইম্স’-এর একটি প্রতিবেদনে।
পাকিস্তানে আমেরিকার উপদূতাবাসের সামনে তাণ্ডবের সময়ে বিক্ষোভকারীদের উপর গুলি চালিয়েছিল মার্কিন মেরিন বাহিনী। সূত্র মারফত এমনটাই জানাচ্ছে রয়টার্স। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই মার্কিন আধিকারিকের সঙ্গে কথা বলে এই দাবি করছে তারা। যদিও মার্কিন বাহিনীর গুলিতেই বিক্ষোভকারীদের মৃত্যু হয়েছে কি না, তা নিয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। অন্য দেশে অবস্থিত কোনও কূটনৈতিক দফতরে মার্কিন বাহিনীর এমন পদক্ষেপ সচরাচর দেখা যায় না। কারণ, এমন পদক্ষেপের ফলে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা থাকে।
কুয়েতের পরে এ বার সৌদি আরব। ফের মার্কিন দূতাবাসে চলল হামলা। সোমবার বেশি রাতের দিকে সৌদির রাজধানী রিয়াধে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলা চলে। হামলার জেরে আগুন ধরে যায় দূতাবাসে। কে বা কারা এই হামলা চালিয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কারণ, পশ্চিম এশিয়ায় বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীও সক্রিয় রয়েছে। যদিও আমেরিকার সন্দেহ ইরানই হামলা চালিয়েছে।
ইরানের হুমকির জেরে কার্যত অবরুদ্ধ হরমুজ় প্রণালী। পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী এই সরু প্রণালীর দুই পারে দাঁড়িয়ে রয়েছে প্রায় ৭০০টি ট্যাঙ্কার। এগুলির মধ্যে ৩৩৪টি ট্যাঙ্কারে অশোধিত তেল রয়েছে। কিন্তু ট্যাঙ্কারগুলি ইরানের পতাকাবাহী না-হওয়ায় হামলার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ তেহরান হুঁশিয়ারির সুরে জানিয়ে দিয়েছে, হরমুজ় প্রণালী ধরে অন্য দেশের ট্যাঙ্কার বা জাহাজ গেলে তারা সেগুলিতে আগুন লাগিয়ে দেবে। এই পরিস্থিতিতে হরমুজ ধরে এগোনোর চেষ্টা করছেন না নাবিকেরা।
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা দ্রুত বেছে নিতে চাইছে তেহরান। সে দেশে সর্বোচ্চ নেতাকে বেছে নেওয়ার দায়িত্বে রয়েছে অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্ট্স। ওই গোষ্ঠী জানিয়েছে, খামেনেইয়ের উত্তরসূরি বাছাই করতে বেশি সময় লাগবে না।
বিস্ফোরণ হল ইরানের ইস্পাহানে। রয়টার্স জানাচ্ছে, মঙ্গলবার দুপুরে ইস্পাহান জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। যদি কী বিস্ফোরণ হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এই শহরে ইরানের অন্যতম পরমাণুকেন্দ্র রয়েছে। গত বছর এখানেই হামলা চালিয়েছিল আমেরিকা।
ইরানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৭৩৭। রেড ক্রিসেন্টকে উদ্ধৃত করে এ কথা জানিয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার দফতর।
চার দিন ধরে চলতে থাকা এই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে ইরানের রাজধানী তেহরানে। সবচেয়ে বেশি ক্ষেপণাস্ত্র পড়েছে তেহরান এবং তার সংলগ্ন এলাকাতেই। ইরানের দক্ষিণ প্রান্তে মিনাব শহরে একটি স্কুলেও হামলা হয়েছে। তাতে ১৫০-র বেশি ছাত্রী নিহত হয়। এ ছাড়া ইরানের আরও অন্তত ১৮টি জায়গায় হামলা চালিয়েছে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের বাহিনী। ইরানও সব মিলিয়ে পশ্চিম এশিয়ার অন্তত ১৯টি জায়গায় প্রত্যাঘাত করেছে।
গত শনিবার আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল যৌথ ভাবে হামলা চালায় ইরানে। হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। হামলার প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে উঠেই প্রত্যাঘাত শুরু করে ইরান। শুধু ইজ়রায়েলে নয়, পশ্চিম এশিয়ায় যে দেশগুলিতে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে— প্রায় সব দেশেই হামলা করেছে তেহরান। সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ওমান, বাহরিন, কুয়েত, ইরাক, সিরিয়া, জর্ডনে হামলা চালায় তেহরান। এর মধ্যে বহু হামলা প্রতিহতও করেছে আমেরিকার ‘বন্ধু’ দেশগুলি।
Or
By continuing, you agree to our terms of use
and acknowledge our privacy policy
We will send you a One Time Password on this mobile number or email id
Or
By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy