Advertisement
E-Paper

‘১৮ ঘণ্টা বিমানযাত্রা করে সময় নষ্ট করতে যাওয়ার দরকার নেই’! মার্কিন দূতদের পাকিস্তান সফর বাতিল করলেন ট্রাম্প

অচলাবস্থা কাটিয়ে ইরান এবং আমেরিকা আবার ইসলামাবাদে মুখোমুখি বৈঠকে বসবে কি? তা নিয়ে জটিলতা ছিল। তবে তার পরেও আশার আলো দেখা গিয়েছিল।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ২২:০৬
ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ডোনাল্ড ট্রাম্প। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার শান্তিবৈঠক নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ল। মার্কিন সংবাদমাধ্যমে দাবি, শান্তি আলোচনার জন্য আমেরিকার প্রতিনিধিদলকে পাকিস্তানে পাঠানো হচ্ছে না। দুই মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারকে এমনই বার্তা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

অচলাবস্থা কাটিয়ে ইরান এবং আমেরিকা আবার ইসলামাবাদে মুখোমুখি বৈঠকে বসবে কি? তা নিয়ে জটিলতা ছিল। তবে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি পাকিস্তানে পৌঁছোনোর পর অচলাবস্থা কাটিয়ে বৈঠক হওয়ার পথে আশার আলো দেখা গিয়েছিল। ঠিক ছিল, উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা কুশনারের নেতৃত্বে শান্তিবৈঠকে যাবে মার্কিন প্রতিনিধিদল। কিন্তু তাদের আমেরিকা থেকে ইসলামাবাদের বিমানে ওঠার আগেই ট্রাম্প জানিয়ে দেন, উইটকফ এবং কুশনার যাচ্ছেন না পাকিস্তানে।

ফক্স নিউজ়-এর হোয়াইট হাউসের সাংবাদিককে ট্রাম্প বলেন, ‘‘আমার লোকজন পাকিস্তানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু আমি তাঁদের বলেছি, যেতে হবে না। ১৮ ঘণ্টার বিমানযাত্রা করে ইসলামাবাদে গিয়ে শুধুমাত্র সময় নষ্ট করার কোনও দরকার নেই।’’ তার পরেই ট্রাম্প জানান, তাঁদের হাতেই সব ক্ষমতা রয়েছে। প্রয়োজন পড়লে ওরা (ইরান) যখন খুশি ফোন করতে পারে।

Advertisement

পরে নিজের ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করেও উইটকফদের ইসলামাবাদ-যাত্রা বাতিলের কথা জানান ট্রাম্প। সেই পোস্টে তিনি লেখেন, ‘‘যাতায়াতে অনেক সময় নষ্ট হয়। আমাদের অনেক বেশি কাজ রয়েছে।’’ অর্থাৎ, ট্রাম্প বুঝিয়ে দিয়েছেন, এই মুহূর্তে ইরানিদের সঙ্গে আলোচনা করার কোনও অর্থ নেই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট মনে করেন, ইরানের নেতৃত্বের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব রয়েছে। তারা নিজেরাও জানেন না কে দায়িত্বে আছেন। ট্রাম্প লেখেন, ‘আমাদের হাতেই সব ক্ষমতা আছে, ওদের হাতে কিছু নেই। ওরা যদি আলোচনা চায়, তবে একটা ফোন করলেই হবে!’

উল্লেখ্য, ইসলামাবাদে আয়োজিত প্রথম দফার আলোচনাতেও আমেরিকার প্রতিনিধিদলে উইটকফ এবং কুশনার ছিলেন। তবে ওই দলের নেতৃত্বে ছিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। কিন্তু সেই আলোচনা ব্যর্থ হয়। টানা ২১ ঘণ্টা কথাবার্তার পরেও সমঝোতায় আসতে পারেনি ইরান বা আমেরিকা। খালি হাতে ফিরতে হয় ভান্সকে। দ্বিতীয় দফার বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিদলেও প্রথমে ভান্সকে রাখা হয়েছিল। তবে পরে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়। ঠিক হয়, উইটকফ এবং কুশনারের নেতৃত্বে মার্কিন প্রতিনিধিদল ইরানের সঙ্গে আলোচনা করতে ইসলামাবাদ যাবেন। কিন্তু সেই যাত্রা শুরু আগে ট্রাম্প তাঁদের নিষেধ করে দিলেন। ফলে আপাতত দ্বিতীয় দফার বৈঠকের কোনও সম্ভাবনা নেই।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ইতিমধ্যে বৃদ্ধি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ১ মে ওই বর্ধিত মেয়াদও শেষ হচ্ছে। তবে হরমুজ় প্রণালীকে ঘিরে দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা এখনও কাটেনি। হুঁশিয়ারি এবং পাল্টা হুঁশিয়ারি চলছেই। তার মধ্যেই পাকিস্তানে দ্বিতীয় দফার বৈঠকও বিশ বাঁও জলে।

Donald Trump US-Iran Conflict
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy