Advertisement
E-Paper

৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭ মাত্রার জোড়া ভূমিকম্প ভেনেজ়ুয়েলায়, তছনছ রাজধানীর একাংশ, বহু মৃত্যুর আশঙ্কা

জোড়া ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ভেনেজ়ুয়েলার রাজধানী কারাকাসে। বহু ঘরবাড়ি ভেঙে পড়েছে ওই শহরে। রানওয়ে ভেঙে যাওয়ায় আপাতত কারাকাসের মূল বিমানবন্দরে বিমান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৫ জুন ২০২৬ ০৯:১৭
জোড়া ভূমিকম্পের পর ধ্বংসস্তূপে উদ্ধারকারী দল। ভেনেজ়ুয়েলার রাজধানী কারাকাসে।

জোড়া ভূমিকম্পের পর ধ্বংসস্তূপে উদ্ধারকারী দল। ভেনেজ়ুয়েলার রাজধানী কারাকাসে। ছবি: রয়টার্স।

প্রথম কম্পনের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ফের ভূমিকম্প! জোড়া কম্পনে কার্যত বেসামাল ভেনেজ়ুয়েলা। বুধবার সন্ধ্যায় (ভেনেজ়ুয়েলার স্থানীয় সময় অনুসারে) প্রথমে ৭.২ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে ভেনেজ়ুয়েলা। তার ৩৯ সেকেন্ডের মধ্যেই ফের কম্পন অনুভূত হয়। দুলে ওঠে ঘরবাড়ি। রিখটার স্টেলে ওই কম্পনের মাত্রা ছিল ৭.৫।

জোড়া ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ভেনেজ়ুয়েলার রাজধানী কারাকাস এবং বন্দরশহর লা গুয়াইরায়। বহু ঘরবাড়ি ভেঙে পড়েছে দুই শহরে। রানওয়ে ভেঙে ভিতরে ঢুকে যাওয়ায় আপাতত ভেনেজ়ুয়েলার মূল বিমানবন্দরে বিমান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। দুই ভূমিকম্পে কত জনের মৃত্যু হয়েছে, তা এখনও জানায়নি ভেনেজ়ুয়েলা প্রশাসন। তবে বহু প্রাণহানির আশঙ্কা করছে আমেরিকার ভূতত্ত্ব পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা (ইউএসজিএস)। তারা মনে করছে, জোড়া কম্পনে দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশে ১০ হাজার থেকে এক লক্ষ মানুষের মৃত্যু হতে পারে।

মার্কিন ভূতত্ত্ব পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাকে উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা এপি জানিয়েছে, প্রথম ভূমিকম্পটির উৎসস্থল ছিল ক্যারিবিয়ান সাগর তীরবর্তী মরন এলাকা। জায়গাটি রাজধানী কারাকাস থেকে ১৬৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির উৎসস্থল মরনের ১৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে। প্রথম কম্পনটির উৎস মাটির ২২ কিলোমিটার গভীরে, আর দ্বিতীয়টির ১০ কিলোমিটার গভীরে। দেশে ভয়াবহ এই বিপর্যয়ের পরেই জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন ভেনেজ়ুয়েলার অন্তর্বর্তিকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেজ়। দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি সকলকে শান্ত থাকার আর্জি জানিয়েছেন। ভূমিকম্পে যাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছেন ডেলসি। আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য দেশের সমস্ত স্বাস্থ্যকর্মীকে অনুরোধ করা হয়েছে। আপাতত ভেনেজ়ুয়েলার স্কুলগুলিতে পঠনপাঠন বন্ধ থাকছে।

ইতিমধ্যেই ভেনেজ়ুয়েলায় উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে আমেরিকা। দুর্দিনে দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভেনেজ়ুয়েলার পাশা থাকার বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। বৃহস্পতিবার সকালে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে তিনি লেখেন, “ভারতের জনগণের হয়ে আমি ভেনেজ়ুয়েলার সরকার, বিশেষত যাঁরা পরিজনেদের হারিয়েছেন, তাঁদের সমবেদনা জানাচ্ছি। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। এই দুঃসময়ে আমরা ভেনেজ়ুয়েলাবাসীর পাশে রয়েছে। ভারত যথাসম্ভব সাহায্য করতে প্রস্তুত।”

কারাকাস-সহ ভেনেজ়ুয়েলার বিভিন্ন শহরে ধ্বংসস্তূপের নীচে বহু মানুষ আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজে দেরি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে শিশু এবং বৃদ্ধদের নিরাপদে বাইরে বার করে আনা হোক। জনগণের ক্ষোভের কথা আঁচ করে ভেনেজ়ুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়েসদাদো ক্যাবেলো বলেন, “আমরা বুঝতে পারছি যে, বহু মানুষ ধৈর্য হারাচ্ছেন। তবে আমরা নিয়ম মেনেই উদ্ধারকাজ চালাচ্ছি। ত্রাণ বণ্টনের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম মেনে চলা হবে। যাদের সবচেয়ে বেশি সেটার প্রয়োজন, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।”

ভূতত্ত্ববিদেরা বলছেন, এমন জোরালো মাত্রার ভূমিকম্প গত ১০০ বছরে দেখেনি ভেনেজ়ুয়েলা। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে ভয়াবহ নানা ছবি। একটি ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে কম্পন শুরু হতেই কেঁপে উঠছে ভেনেজ়ুয়েলার সিমন বলিভার বিমানবন্দরের গোটা টার্মিনাল। আতঙ্কে দৌড়দৌড়ি করছেন যাত্রীরা। কেউ কেউ ভারসাম্য না-রাখতে পেরে পড়ে যান। কারাকাসের একটি ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, ভূমিকম্পের অভিঘাতে ভেঙে পড়ছে বহুতল। সাদা ধুলোর চাদরে ঢেকে যাচ্ছে গোটা এলাকা। (যদিও এই ভিডিয়োগুলির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)

venezuela Earthquake

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy