Advertisement
E-Paper

আফগানিস্তান সীমান্তে আবার আক্রান্ত পাক বাহিনী! নিহত চার পুলিশকর্মী, ‘কাঠগড়ায়’ তেহরিক-ই-তালিবান

পাক সেনার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ দফতর (আইএসপিআর) এবং পুলিশ সূত্র উদ্ধৃত করে প্রকাশিত খবরে জানানো হয়েছে, খাইবার-পাখতুনখোয়া প্রদেশের ডেরা ইসমাইল খান জেলার পিনিয়ালা থানার ওয়ান্ডা বুধ এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৩:২১

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

আফগানিস্তান সীমান্তে আবার হামলা চালিয়ে নিজেদের শক্তি জানান দিল পাক তালিবান। বুধবার উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানের খাইবার-পাখতুনখোয়ায় বিদ্রোহী তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) বিদ্রোহীদের হামলায় চার পাক পুলিশকর্মী নিহত হয়েছেন। পাক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, পুলিশের টহলদারি দলে টিটিপির হামলায় দু’জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

পাক সেনার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ দফতর (আইএসপিআর) এবং পুলিশ সূত্র উদ্ধৃত করে প্রকাশিত খবরে জানানো হয়েছে, খাইবার-পাখতুনখোয়া প্রদেশের ডেরা ইসমাইল খান জেলার পিনিয়ালা থানার ওয়ান্ডা বুধ এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে। টহল দেওয়ার সময় একটি পুলিশ দলকে লক্ষ্য করে টিটিপি বিদ্রোহীরা হামলা চালান। ঘটনার পরে এলাকা ঘিরে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে পাক সেনা, রেঞ্জার্স এবং পুলিশের যৌথবাহিনী।

পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে দীর্ঘ দিন ধরে সক্রিয় তালিব বিদ্রোহীরা। টিটিপি (পাক সরকার এবং সেনা যাদের ‘ফিতনা আল খোয়ারিজ়’ বলে চিহ্নিত করে) নামে পরিচিত ওই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে প্রায়শই সংঘর্ষ লেগে থাকে পাকিস্তানের সেনা এবং আধাসেনা বাহিনীর। পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগানিস্তানই ওই বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে মদত দিচ্ছে। কাবুলে তালিবান সরকার পুনরায় ক্ষমতায় আসার পরে পাকিস্তানের তালিবান বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরও সক্রিয় হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। গত অক্টোবর থেকে বেশ কয়েক দফায় আফগানিস্তানের মাটিতে টিটিপির ডেরায় বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। ঘটনার জেরে দু’দেশের সীমান্ত সংঘর্ষও হয়েছে। গত ৯ অক্টোবর আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে বিমানহানা চালিয়েছিল পাকিস্তান বায়ুসেনা। ১০ অক্টোবর সীমান্ত লাগোয়া পকতিকা প্রদেশের মারঘি এলাকায় একটি বাজারে বিমানহানা চালানো হয়। ঘটনাচক্রে, আফগান সরকারের বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির ভারত সফর শুরুর দিনেই হামলা হয়েছিল কাবুলে।

পাক সেনার দাবি, কাবুল এবং পকতিকায় টিটিপির ঘাঁটি ছিল বিমানহানার নিশানা। এর পর সীমান্ত সংঘর্ষের মধ্যেই দক্ষিণ আফগানিস্তানের শহর কন্দহর ও আশাপাশের এলাকায় বিমান ও ড্রোন হামলা চালানো হয়। শেষ পর্যন্ত পশ্চিম এশিয়ার ইসলামি রাষ্ট্রগুলির মধ্যস্থতায় সংঘর্ষবিরতি চুক্তি করেছিল দু’পক্ষ। প্রসঙ্গত, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তান জেলা টিটিপি-র সবচেয়ে শক্তিশালী গোষ্ঠী মেহসুদদের নিয়ন্ত্রণে। বালোচিস্তান প্রদেশের উত্তরাংশেও তাদের প্রভাব রয়েছে। আমেরিকায় ড্রোন হামলায় নিহত জঙ্গিনেতা বায়তুল্লা মেহসুদ প্রতিষ্ঠিত এই গোষ্ঠী বরাবরই পাক সরকারের বিরোধী। ২০১৪ সালে পেশোয়ারের একটি স্কুলে হামলা চালিয়ে শতাধিক পড়ুয়াকে খুন করেছিল টিটিপি জঙ্গিরা। সোয়াট উপত্যকায় সক্রিয় পাক তালিবানের আর এক গোষ্ঠী ‘তেহরিক-ই নিফাজ-ই শরিয়তি মহম্মদি’ (টিএনএসএম)। এর আগে ২০০৯ সালে টিটিপি-র বিরুদ্ধে ‘অপারেশন রাহ-ই-নিজত’ করেছিল পাক সেনা। পাকিস্তানের ইতিহাসে এখনও পর্যন্ত সেটিই সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসবিরোধী সেনা অভিযান। কিন্তু এখনও পর্যন্ত টিটিপি দমনে উল্লেখ্যযোগ্য সাফল্য পায়নি ইসলামাবাদ।

Pakistan Army TTP
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy