ইরানের পরমাণুকেন্দ্র নাতান্জ় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে! নিশ্চিত করল রাষ্ট্রপুঞ্জ নিয়ন্ত্রিত আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)। তারা জানিয়েছে, ইরানের নাতান্জ় শহরে থাকা পরমাণুকেন্দ্রের কিছু জায়গার ক্ষতি হয়েছে। তবে এ-ও জানায়, ক্ষতির পরিমাণ তেমন মারাত্মক নয়। নাতান্জ় পরমাণুকেন্দ্রের প্রবেশের মুখে যে ভবনগুলি রয়েছে, সেগুলি আঘাতপ্রাপ্ত। অক্ষত রয়েছে মাটির নীচে থাকা পরমাণু স্থাপনা। কোনও তেজস্ক্রিয় বিকিরণ হয়নি।
সোমবারই রাষ্ট্রপুঞ্জে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজ়া নাজাফি আইএইএ-কে জানান, ইজ়রায়েল এবং আমেরিকার যৌথ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নাতান্জ় পরমাণুকেন্দ্র। রবিবারের হামলায় এই ঘটনা ঘটে। তবে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আইএইএ জানিয়েছিল, নাতান্জ় বা ইরানের অন্য কোনও পরমাণুকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার প্রমাণ মেলেনি। আইএইএ-র প্রধান রাফায়েল গ্রোসি সংস্থার ৩৫ জন সদস্যের বোর্ড অফ গভর্নরকে বিষয়টি অবগত করেন।
প্রথম অবস্থায় নাতান্জ় ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলে দাবি করলেও গ্রোসি জানিয়েছিলেন, বিষয়টি তাঁরা হালকা ভাবে নিচ্ছেন না। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। এ বিষয়ে ইরানের পারমাণবিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে। তাঁরা ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন। তবে ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই আইএইএ নাতান্জ় পরমাণুকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করল।
আরও পড়ুন:
তেহরান থেকে ২২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে ইরানের কেন্দ্রীয় মালভূমিতে রয়েছে নাতান্জ় পরমাণুকেন্দ্র। এই ঘাঁটির একটি বড় অংশ মাটির নীচে রয়েছে। বাকি অংশ রয়েছে মাটির উপরে। নাতান্জ় পরমাণুকেন্দ্রকে ইরানের ‘ইউরেনিয়াম বিশুদ্ধকরণের মুকুট’ বলা হয়। এই কেন্দ্রেও ইউরেনিয়াম ৬০ শতাংশ পরিশুদ্ধ করা যায়। এতে সামান্য তেজষ্ক্রিয় স্তরে পৌঁছোয় ইউরেনিয়াম, কিন্তু পরমাণু বোমা তৈরির জন্য তা যথেষ্ট নয়। গত বছর জুনে ইজ়রায়েল এবং আমেরিকার হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল নাতান্জ়। সেই নাতান্জ আবার ক্ষতিগ্রস্ত।
অন্য দিকে, সোমবার রাতে এবং মঙ্গলবার দুপুরে (ভারতীয় সময়) ইরানের ইস্পাহান শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছিল। এই শহরে রয়েছে ইরানের আরও পরমাণুকেন্দ্র। তবে বিস্ফোরণে ওই পরমাণুকেন্দ্রের কোনও ক্ষতি হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।