চোখের চিকিৎসার জন্য মঙ্গলবার রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেল থেকে ইসলামাবাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হল পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে। তাঁর শরীর নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পাকিস্তান সরকারকে চিঠি দিয়েছিলেন তাঁর প্রাক্তন সতীর্থ সুনীল গাওস্কর, কপিল দেবরা। সেই আবেদনের পরেই ইমরানকে মঙ্গলবার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। যদিও তাঁর পরিবার এবং দলের কর্মী-সমর্থকেরা ‘স্বচ্ছতা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর স্বাস্থ্যের খবর যথাযথ প্রকাশ করার দাবিও তুলেছেন তাঁরা।
২০২৩ সাল থেকে আদিয়ালা জেলে রয়েছেন ইমরান। গত মাসে তাঁর ডান দিকের চোখের রেটিনায় সমস্যা (সেন্ট্রাল রেটিনাল ভেন অক্লুশন) ধরা পড়ে। তিনি ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন অনেকটাই। সেই নিয়ে সরব হয় তাঁর পরিবার। এর পরে মঙ্গলবার তাঁকে ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (পিআইএমএস)-এ নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের এক চিকিৎসক জানিয়েছেন, ইমরানকে ভিইজিএফ (ভাসকুলার এন্ডোথেলিয়াল গ্রোথ ফ্যাক্টর)-রোধী ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়েছে। তার পরে আবার আদিয়ালা জেলে পাঠানো হয়েছে। এর আগে ২৪ জানুয়ারিও তাঁর চিকিৎসা করা হয়েছিল বলে জানান ওই চিকিৎসক। তিনি আরও জানান, ওই ইঞ্জেকশন দেওয়ার আগে তাঁর হৃদ্যন্ত্রের পরীক্ষা করেছেন বিশেষজ্ঞেরা। ইসিজি এবং ইকোকার্ডিয়োগ্রাফি করানো হয়েছে তাঁর। সেই রিপোর্ট স্বাভাবিক এসেছে বলে খবর।
ইসলামাবাদের হাসপাতালের ওই চিকিৎসক জানিয়েছেন, পর্যবেক্ষণের পরে প্রোটোকল মেনে অপারেশন থিয়েটারে তাঁকে ইঞ্জেকশনের দ্বিতীয় ডোজ় দেওয়া হয়েছে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ, পিআইএমএস এবং রাওয়ালপিন্ডির আল-শিফা হাসপাতালের রেটিনা বিশেষজ্ঞ। চিকিৎসক জানান, ‘ডে কেয়ার অস্ত্রোপচার’ হিসাবে ওই চিকিৎসা করানো হয়েছে। তার পরে তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ওই চিকিৎসা প্রক্রিয়ার সময় ইমরানের শারীরিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল ছিল বলে জানান চিকিৎসক।
ইমরানের পরিবার এবং তাঁর দল পিটিআই (পাকিস্তান তেহরিক-এ-ইনসাফ)-এর নেতা-কর্মীদের দাবি ছিল ছিল, আল-শিফার মতো বেসরকারি হাসপাতালে রেখে ইমরানের চিকিৎসা করানো হোক। তাঁদের অভিযোগ, ইমরানের চিকিৎসা নিয়ে অযথা লুকোছাপা করছে পাকিস্তান সরকার। পাকিস্তানের সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী তারিক ফজ়ল চৌধরি এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, রীতি মেনে সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেই ইমরানকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যথাযথ নিরাপত্তার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। চিকিৎসকের পরামর্শ মতো প্রথম বার চিকিৎসার পরেই অনেকটা উন্নত হয়েছে ইমরানের দৃষ্টিশক্তি। সুপারিশ মেনে দ্বিতীয় বারও চিকিৎসা করানো হয়েছে। চিকিৎসকেরা অনুমতি দিলে তাঁকে আবার আদিয়ালা জেলে পাঠানো হয়েছে। ২৪ মার্চ তাঁকে তৃতীয় ইঞ্জেকশন দেওয়া হবে।
পাকিস্তানের শাহবাজ় শরিফের সরকারকে ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে চিঠি লিখেছিলেন বিভিন্ন দেশের ক্রিকেটদলের ১৪ জন প্রাক্তন অধিনায়ক। গাওস্কর ও কপিল ছাড়া রয়েছেন গ্রেগ চ্যাপেল, মাইকেল আথারটন, অ্যালান বর্ডার, মাইক ব্রিয়ারলি, ইয়ান চ্যাপেল, বেলিন্ডা ক্লার্ক, ডেভিড গাওয়ার, কিম হিউজ, নাসের হুসেন, ক্লাইভ লয়েড, স্টিভ ওয় ও জন রাইট। তাঁদের মধ্যে অনেকেই ইমরানের বিরুদ্ধে খেলেছেন।
আরও পড়ুন:
-
জেলবন্দি ইমরানকে সাহায্য করার জন্য সবচেয়ে সক্রিয় ছিলেন গাওস্কর-কপিল, শুরুতে সঙ্কোচে ছিলেন মূল উদ্যোক্তা গ্রেগই
-
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি সার! ১৫ নয়, ১০ শতাংশ আমদানি শুল্কই ধার্য করল মার্কিন সরকারি এজেন্সি, মঙ্গলবার থেকেই হল কার্যকর
-
‘কূটনৈতিক সমাধান চান ট্রাম্প, তবে প্রয়োজনে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ হবে’! বৈঠকের আগে ইরানকে বার্তা আমেরিকার
চিঠিতে গাওস্করেরা লিখেছেন, ‘পাকিস্তানের প্রাক্তন অধিনায়ক, কিংবদন্তি ক্রিকেটার ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে আমরা গভীর ভাবে উদ্বিগ্ন। ক্রিকেট ওঁর অবদান অপরিসীম। অধিনায়ক হিসাবে উনি পাকিস্তানকে ১৯৯২ সালে বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন। আমাদের মধ্যে অনেকেই ইমরানের বিরুদ্ধে খেলেছি। কিন্তু ওঁর প্রতিভা, দক্ষতা ও প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা নিয়ে আমাদের কোনও সন্দেহ নেই। বিশ্বক্রিকেটের সেরা অলরাউন্ডারদের মধ্যে ইমরান একজন। ক্রিকেটের পাশাপাশি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বও উনি সামলেছেন। তাঁর রাজনৈতিক মনোভাব যা-ই হোক না কেন, পাকিস্তানের রাজনীতিতে উনি বড় নাম।’ চিঠিতে আরও লেখা হয়, ‘আমরা মনে করি, ইমরানের মতো এক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি রেখে আচরণ করা হোক।” মনে করা হচ্ছে, তার পরেই পাকিস্তান সরকার ইমরানের চিকিৎসার জন্য উদ্যোগী হয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।