শুক্রবার রাতে বিএনপি-র নতুন সভাপতি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করার পরে শনিবার ঢাকার বনানীতে একটি হোটেলে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন তারেক রহমান। সেই অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, হিংসা-প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে বিএনপি দেশকে সঠিক পথে নিয়ে যেতে চায়।
এ দিনই বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় বর্মা তারেকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বিএনপির ফেসবুক পেজে জানানো হয়েছে, শনিবার বিকেলে ঢাকার গুলশনে দলের সভাপতির কার্যালয়ে এই বৈঠক হয়। বিএনপি-র যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির পরে সাংবাদিকদের এ বিষয়ে বিস্তারে জানান। ভারতের সঙ্গে চলতি টানাপড়েন নিয়ে কোনও আলোচনা হয়েছে কি না, এ প্রশ্নের উত্তরে বিএনপি নেতা বলেন, ‘‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী বিএনপি-র নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি প্রত্যাশা জানিয়েছেন, তারেকের নেতৃত্বেই আগামীর বাংলাদেশ নির্মিত হবে। প্রণয় বর্মাও স্বাগত জানিয়েছেন তারেককে। স্থিতিশীলতার জন্যদুই দেশ কী ভাবে এগিয়েযেতে পারে সে বিষয়ে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।’’
সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে তারেক স্পষ্ট বলেন, ৫ অগস্টের আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার প্রশ্ন নেই। তাঁর কথায়, ‘‘আমাদের সমস্যা ছিল, আমাদের সমস্যা আছে। অবশ্যই আমরা ৫ অগস্টের আগে ফিরে যেতে চাই না। আমার এক পাশে ১৯৮১ সালের একটি জানাজা (পিতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যু), আরেক পাশে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের জানাজা (মা খালেদা জিয়ার মৃত্যু) এবং তৃতীয় পাশে ২০২৪ সালের ৫ অগস্ট। এ সব ঘটনা সামনে রাখলে বোঝা যায় আগের অবস্থায় ফেরার কোনও প্রয়োজন নেই।’’ প্রসঙ্গত জুলাই আন্দোলনের পরে ২০২৪-এর ৫ অগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হন শেখ হাসিনা। তারেকের মতে, দেশ যে মূল্য দিয়েছে, বিশেষ করে ৫ অগস্টের ঘটনা রাজনীতিকে নতুন ভাবে ভাবতে বাধ্য করেছে। প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার কথা এই প্রসঙ্গেই বলেছেন তিনি। সব রাজনৈতিক পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি-র চেয়ারম্যান বলেন, ‘মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু সেটি যেন কোনও ভাবেই মতবিভেদ বা জাতিকে বিভক্ত করার পর্যায়ে না যায়। ৫ অগস্টে আমরা দেখেছি তার পরিণতি কী হতে পারে।’
প্রতিহিংসার রাজনীতি অবশ্য থামার কোনও লক্ষণ এখনও দেখা যাচ্ছে না বাংলাদেশে। শনিবার দুপুরেই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার দায়িত্ব পালন করতে আসা এক শিক্ষককে শারীরিক হেনস্থার পর টেনেহিঁচড়ে প্রোক্টর কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। চাকসু বা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের চার নেতার নেতৃত্বে ওই শিক্ষককে পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে তাড়া করে নিয়ে যাওয়া হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। শিক্ষকের মুঠোফোনেও তল্লাশি চালানো হয় বলে অভিযোগ।
এ দিনই বগুড়ায় জাতীয় পার্টির জেলা কার্যালয়ের দখল নিয়ে ব্যানার ঝুলিয়ে দিয়েছেন ‘জুলাই যোদ্ধারা’। জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধ করার দাবিতে স্লোগান তুলে শনিবার বেলার দিকে শহরের কবি নজরুল ইসলাম সড়কে অবস্থিত কার্যালয়ের সামনে খালেদা জিয়ার শোক সম্বলিত এবং গণভোট নিয়ে দু’টি ব্যানার ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। নিজেকে এনসিপি সদস্য বলে পরিচয় দিয়ে বিক্ষোভের নেতা নুর মোহাম্মদ জুবায়ের বলেন, ‘‘জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের দোসর। যদিও দলটি নিষিদ্ধ হয়নি। তার পরও এই দল বাংলাদেশের নির্বাচনে অংশ নিতে পারে না।’’
সংবাদ সংস্থা
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)