মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে এক বন্ধনীতে ফেলে আবার আক্রমণ শানাল ইরান। সে দেশে চলমান বিক্ষোভ নিয়ে ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্যের পর ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহুকে ইরানিদের ‘প্রধান খুনি’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
বিক্ষোভের আগুনে পুড়ছে ইরান। মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া আন্দোলনের অভিমুখ এখন ঘুরে গিয়েছে সে দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের দিকে। ইরানের রাজপথ জুড়ে বিক্ষোভ চলছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিরোধী স্লোগানে মুখর। এমন পরিস্থিতিতে বার বার বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়িয়ে ইরানের প্রশাসনকে আক্রমণ শানাচ্ছেন ট্রাম্প। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ইরান প্রশাসনের কঠোর দমননীতির সমালোচনা করছেন তিনি। হুঁশিয়ারিও দিচ্ছেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, আপাতত ইরান প্রশাসনের সঙ্গে কোনও আলোচনায় বসতে রাজি নয় তাঁর সরকার। পাশাপাশি, বিক্ষোভকারীদের পিছু না-হটে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বার্তাও দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্প এ-ও জানান, সব রকম সাহায্য করা হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ ধরনের বার্তা ভাল ভাবে নেয়নি খামেনেইয়ের প্রশাসন। ইরানের প্রাক্তন পার্লামেন্ট স্পিকার তথা দেশের নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা সর্বময় কর্তা লারিজানি এক্স পোস্টে বলেন, ‘‘আমরা ইরানের জনগণের প্রধান হত্যাকারীর নাম ঘোষণা করছি।’’ তালিকা করে তিনি জানান, প্রথমে আছে ট্রাম্পের নাম, তার পরে নেতানিয়াহু!
ইরানে চলমান বিক্ষোভে মদত দেওয়া জন্য রাষ্ট্রপুঞ্জেও ট্রাম্পকে কাঠগড়ায় তোলেন সে দেশের রাষ্ট্রদূত আমির সৈয়দ ইরাভানি। তিনি দাবি করেন, ট্রাম্পই ইরানে অস্থিরতা সৃষ্টি করছেন। হিংসার ঘটনাকে উৎসাহ দিচ্ছেন। রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদকে লেখা এক চিঠিতে আমির দাবি করেন, ‘‘ইরানিদের, বিশেষত তরুণদের মৃত্যুর জন্য দায়ী একমাত্র আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল।’’
আরও পড়ুন:
গত ২৭ ডিসেম্বর থেকে ইরানে বিক্ষোভের সূত্রপাত। ওই দিন তেহরানের দোকানিরা প্রথম মুদ্রাস্ফীতি এবং মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। ক্রমে দেশের অন্য প্রান্তেও ছড়িয়ে পড়ে সেই বিক্ষোভের আঁচ। খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে প্রকাশ্যেই সমর্থন জানিয়েছেন ট্রাম্প এবং তাঁর প্রশাসন। বিক্ষোভ দমন করতে যে পদক্ষেপ করছে তেহরান, তাতেও অসন্তুষ্ট আমেরিকা। এরই মধ্যে রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কী ভাবে হস্তক্ষেপ করা যায়, কী কী কঠোর পদক্ষেপ করা যায়, মার্কিন বাহিনীর সামনে কী বিকল্প রয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে আমেরিকায়। এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ-ও জানান, ইরান সরকার যদি বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেওয়া শুরু করে, তবে আমেরিকা ‘খুব কঠোর পদক্ষেপ করবে’!