যুদ্ধ বন্ধ করা নিয়ে আমেরিকা-ইরানের আলোচনার মধ্যে হুঁশিয়ারি দিলেন ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তিনি জানান, প্রয়োজন মনে করলে আবার ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাতে পারে ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি, ‘‘আমি যত দিন ক্ষমতায় আছি, তত দিন ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি চালু রাখতে দেব না।’’
‘চ্যানেল-১৪’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু জানান, অস্তিত্ব সঙ্কটে প্রতিরোধ করবেনই। ইজ়রায়েল আগে দু’বার ইরানে ঢুকেছে। আবার একই পদক্ষেপ করতে পিছপা হবে না ইজ়রায়েলি বাহিনী। তাঁর কথায়, ‘‘ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচতে আমরা দু’বার ইরানে প্রবেশ করেছি। প্রয়োজনে তৃতীয় বারও করব। যত দিন আমি প্রধানমন্ত্রী থাকব, তত দিন ইরানের হাতে কোনও পরমাণু অস্ত্র থাকবে না।’’
নেতানিয়াহু জানান, ইরান বা তার আঞ্চলিক ‘বন্ধু’দের বিরুদ্ধে ইজ়রায়েল যে অভিযান চালাচ্ছে, তা শেষ হয়নি। গত তিন বছরে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জনের পরেও ‘পুর্ণাঙ্গ জয়’ চান ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী। সেই চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি। গাজ়ায় ইজ়রায়েলি অভিযানের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে নেতানিয়াহু বলেন, ‘‘এর কোনও শেষ নেই। ইজ়রায়েল আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। আমাদের আরও কাজ করতে হবে। ইরানের হাতে যেটুকু শক্তি অবশিষ্ট রয়েছে তার বিরুদ্ধেও আমরা ব্যবস্থা নেব।’’ একই সঙ্গে জানান, ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজ়বুল্লাকে তাঁর দেশ হুমকি হিসাবে দেখে। আর যত দিন হিজ়বুল্লা ইজ়রায়েলের কাছে হুমকির কারণ হয়ে থাকবে তত দিন অভিযান চলবে। ইজ়রায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘‘আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। হুমকি বন্ধ না-হওয়া পর্যন্ত আমরা দক্ষিণ লেবানন ছাড়ব না।’’
আরও পড়ুন:
সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয়েছে আমেরিকা এবং ইরান। আপাতত দুই দেশ পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফেরানোর লক্ষ্যে আলোচনা চালাচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে। তবে শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার আগে আলোচনা সেরে নিচ্ছে দুই পক্ষ। সুইৎজ়ারল্যান্ডে পাকিস্তান এবং কাতারের মধ্যস্থতায় প্রথম দফার আলোচনা হয়েছে আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে। তবে দ্বিতীয় দফার বৈঠক কবে হবে, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। আমেরিকা-ইরান সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হওয়ার পরেও লেবাননে পর পর হামলা চালিয়েছে ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু সরকারের এই পদক্ষেপ নিয়ে সুর চড়ায় ইরান। তারা স্পষ্ট জানায়, ইজ়রায়েল যদি লেবাননে হামলা বন্ধ না-করে তবে কোনও শান্তি আলোচনা হবে না। লেবাননে হামলা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন ট্রাম্পও। নেতানিয়াহুর পদক্ষেপে খুশি নন বলে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন তিনি। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের হুঁশিয়ারি বা অসন্তোষের পরেও ইজ়রায়েল যে তাদের লক্ষ্য থেকে সরবে না, তা স্পষ্ট করলেন নেতানিয়াহু।