Advertisement
E-Paper

ফাঁসি বহাল শীর্ষ জামাত নেতার, স্বস্তিতে সোহাগপুরের বিধবারা

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে গণহত্যা ও নির্যাতনে দায়ী জামাতে ইসলামি নেতা মহম্মদ কামারুজ্জামানের ফাঁসি পুনর্বিবেচনার আর্জি খারিজ করল সে দেশের সুপ্রিম কোর্ট। ফলে প্রেসিডেন্টের কাছে প্রাণভিক্ষা করা ছাড়া ফাঁসি এড়ানোর অন্য উপায় রইল না তাঁর সামনে। ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের সময়ে কামারুজ্জামানের আল বদর বাহিনীর তাণ্ডবে বিধ্বস্ত হয়েছিল উত্তর শেরপুরের সোহাগপুর গ্রাম। আজ তাঁর ফাঁসির আদেশ বহাল থাকায় স্বস্তিতে সেই গ্রামও।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ এপ্রিল ২০১৫ ০৩:১৬
ঢাকার সেন্ট্রাল জেলে বন্দি কামারুজ্জামানের সঙ্গে দেখা করতে এলেন আত্মীয়রা। (ইনসেটে) মহম্মদ কামারুজ্জামান। ছবি: এএফপি।

ঢাকার সেন্ট্রাল জেলে বন্দি কামারুজ্জামানের সঙ্গে দেখা করতে এলেন আত্মীয়রা। (ইনসেটে) মহম্মদ কামারুজ্জামান। ছবি: এএফপি।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে গণহত্যা ও নির্যাতনে দায়ী জামাতে ইসলামি নেতা মহম্মদ কামারুজ্জামানের ফাঁসি পুনর্বিবেচনার আর্জি খারিজ করল সে দেশের সুপ্রিম কোর্ট। ফলে প্রেসিডেন্টের কাছে প্রাণভিক্ষা করা ছাড়া ফাঁসি এড়ানোর অন্য উপায় রইল না তাঁর সামনে।

১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের সময়ে কামারুজ্জামানের আল বদর বাহিনীর তাণ্ডবে বিধ্বস্ত হয়েছিল উত্তর শেরপুরের সোহাগপুর গ্রাম। আজ তাঁর ফাঁসির আদেশ বহাল থাকায় স্বস্তিতে সেই গ্রামও। প্রত্যাশিত ভাবেই সংঘর্ষের পথ নিয়েছে জামাত। নোয়াখালিতে জামাত সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে ইতিমধ্যেই এক জন নিহত। আগামিকাল থেকে জামাত ৪৮ ঘণ্টার দেশব্যাপী হরতালের ডাক দেওয়ায় আরও হিংসার আশঙ্কা করছে শেখ হাসিনা সরকার।

বিশেষ আইনে ট্রাইব্যুনাল গড়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যবস্থা করেছে শেখ হাসিনা সরকার। অভিযুক্তদের মধ্যে কামারুজ্জামান ছাড়াও বহু শীর্ষ জামাত ও বিএনপি নেতা ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। জামাত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ খারিজ করে মৃত্যুদণ্ড দেয় সুপ্রিম কোর্ট। পরে ফাঁসিও হয়েছে তাঁর।

২০১৩ সালে কামারুজ্জামানের ফাঁসির আদেশের পরে তার পক্ষে-বিপক্ষে প্রবল আন্দোলন দেখেছিল বাংলাদেশ। পরে সেই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আর্জি জানান ওই জামাত নেতা। সুপ্রিম কোর্টেও মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে। আজ সেই রায় পুনর্বিবেচনার আর্জির শুনানি ছিল প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র সিংহের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে। আজ শুনানির ফল জানতে সুপ্রিম কোর্টে ভিড় হয়েছিল ভালই। কিছু ক্ষণের মধ্যেই বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, আর্জি খারিজ। আদালত চত্বরেই কৌঁসুলিদের একাংশ উল্লাসে ফেটে পড়েন। তাঁদের মতে, একাত্তরের পরে ফের ‘বিজয়’ ফিরে পাওয়া গেল।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম জানান, এর পরে প্রেসিডেন্টের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করতে পারেন কামারুজ্জামান। তবে তিনি অন্য বন্দিদের মতো ২১ দিন সময় পাবেন না। কারণ, যুদ্ধাপরাধী হিসেবে বিশেষ আইনে তাঁর বিচার হচ্ছে। কামারুজ্জামানের কৌঁসুলি শিশির মণির জানান, প্রেসিডেন্টের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করা হবে কিনা সে সিদ্ধান্ত কামারুজ্জামানই নেবেন। পরে ঢাকার জেলে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন আত্মীয়রা। কৌঁসুলিরা দেখা করার অনুমতি পাননি। আর এক জামাত শীর্ষ নেতা আব্দুল কাদের মোল্লা অবশ্য ফাঁসির আদেশের পরে প্রেসিডেন্টের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করেননি।

এই রায়ে খুশি সোহাগপুর গ্রামের বিধবারাও। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে এই গ্রামে হত্যাকাণ্ডের পিছনে কামারুজ্জামানেরই হাত ছিল বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। প্রায় সব বিবাহিত পুরুষ আল বদর বাহিনীর হাতে নিহত হওয়ায় পরে ওই গ্রামের নাম হয়ে যায় বিধবাপল্লি।

রায় শুনে ১৯৭১-এ স্বামীহারা এক মহিলা বলেন, ‘‘আমার স্বামী-সন্তানকে যারা মেরেছে তাদের ফাঁসি দেখার ইচ্ছে ছিল। আজ কামারুজ্জামানের ফাঁসির সাজার কথা শুনে বুক থেকে পাথর সরে গেল।’’ তাঁর উদ্বিগ্ন প্রশ্ন, ‘‘ফাঁসি থামানোর কোনও রাস্তা নেই তো? কামারুজ্জামান খুনি। তার ক্ষমা নেই।’’

জামাতের তরফে জানানো হয়েছে, কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মিথ্যে প্রমাণ এনে মামলা সাজানো হয়েছে। মঙ্গল ও বুধবার দেশ জুড়ে হরতালের ডাক দিয়েছে তারা। পরিস্থিতি সামলাতে আজই আধাসেনা নামিয়েছে শেখ হাসিনা সরকার। তবে ইতিমধ্যেই নোয়াখালিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে জামাত সমর্থকদের। তাতে এক অজ্ঞাতপরিচয় যুবক নিহত হয়েছেন।

কামারুজ্জামানের ভাগ্য কোন পথে হাঁটে সে দিকেই এখন নজর গোটা বাংলাদেশের।

Bangladesh Jamaat Jamaat-e-Islami Supreme Court of Bangladesh Shishir Monir 1971 Sheikh Hasina
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy