বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকের আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বৈঠক করবেন তা জানা ছিল আগেই। কিন্তু সেই বৈঠকে যে দুই নেতা এক সঙ্গেই যাবেন, তা জানা ছিল না। শনিবার সেই বিরল দৃশ্যের সাক্ষী থাকল ঢাকা। শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে যোগ দিতে মোদী তাঁর গাড়িতে তুলে নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তার সামান্য আগেই নেতাজি ইন্ডোরে মোদী-মমতা সখ্য নিয়ে রাহুল গাঁধী যখন কটাক্ষ করছিলেন, তখনও বোধহয় এই দৃশ্যটা কল্পনা করা যায়নি। এর পর ভারত-বাংলাদেশ বাস পরিষেবার উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাড়িতে শীর্ষ বৈঠক শুরু হয়ে যায়।
এ দিন শেখ হাসিনাকে শাড়ি উপহার দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার দুপুরে তাঁদের মধ্যে যখন দেখা হল, পরস্পরকে জড়িয়ে ধরে আরও একবার আন্তরিকতার উষ্ণতায় একে অন্যকে ছুঁয়ে নিলেন। মমতা শেখ হাসিনার হাতে একটি বালুচরী ও একটি কাঁথা স্টিচের শাড়ি তুলে দিয়ে বললেন, “এটা আপনারই জন্য।” এর আগেই আম এবং লিচু পাঠিয়ে দিয়েছিলেন মমতা। শুক্রবার সন্ধ্যায় পৌছেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর শনিবার সকালে পৌঁছলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দু’দিনের বাংলাদেশ সফরে এ দিন সকাল পৌনে দশটা নাগাদ ঢাকায় এসে পৌঁছয় প্রধানমন্ত্রীর বিমান।
মোদী-মমতা-হাসিনার পোস্টারে সেজেছে ঢাকার রাজপথ। ছবি: পিটিআই।
নিয়মিত উড়ানেই গতকাল ঢাকা পৌঁছন মমতা। যদিও সেই বিমানটিকে ভিআইপির তকমা দিয়েছিল বাংলাদেশ। রাজ্যের মন্ত্রী অরুপ বিশ্বাস, পরিবহণ সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ সপার্ষদ মমতাকে বিমানবন্দরেও ভিআইপি অভ্যর্থনা জানানো হয়। ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর ঠিকানা প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেল। মমতা উঠেছেন র্যাডিসন ব্লু গার্ডেনে। মোদীর সঙ্গে তাঁকেও একই হোটেলে থাকার জন্য অনুরোধ করা হলেও পারিষদ এবং সর্বোপরি তাঁদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া থেকে দূরে থাকতে চাননি তিনি। ঢাকায় এসেও অবশ্য দৈনন্দিন রুটিন থেকে দূরে থাকছেন না মমতা। র্যাডিসন হোটেলের চক্রাকার লাউঞ্জে বেশ কয়েক বার হেঁটেওছেন তিনি।
হিসাব মতো এ দিন রাতেই মুখ্যমন্ত্রীর কলকাতায় ফেরার কথা। ফেরার বিমান রাত সাড়ে ন’টায়। কিন্তু রাতের অনুষ্ঠান শেষ হতে ১০টা-সাড়ে ১০টা বেজে যাওয়ার কথা। অনুষ্ঠানের মাঝখানে তিনি চলে যাবেন কি না প্রশ্ন সেটাই।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ঢাকায় পৌঁছনোর পরই এক দিন বাড়তি থেকে যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়ে এসেছিল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফোন। ভেবে দেখার আশ্বাস দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শেখ হাসিনার অনুরোধে কি সরকারি সফরসূচিতে আর এক দিন যোগ করবেন মমতা? আপাতত সে দিকেই চোখ সবার।
এই সংক্রান্ত আরও খবর জানতে ক্লিক করুন...
সাক্ষরিত হল স্থলসীমান্ত চুক্তি