প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে সমাজমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে অস্ট্রেলিয়া। একই পথে হাঁটার চিন্তাভাবনা করছে ব্রিটেনের মতো একাধিক দেশ। এর মাঝেই ওয়াশিংটনে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালতে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামের পরিচালক সংস্থা মেটার পুরনো একটি সমীক্ষার তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। নথিপত্র থেকে জানা গিয়েছে, ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সী প্রতি ৫ জন ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীর মধ্যে অন্তত ১ জনের (১৯%) ইনস্টাগ্রামে এমন সব নগ্ন বা যৌন ছবি ফিডে আসছে যা তারা দেখতে চায় না।
সংবাদসংস্থা রয়টার্স সূত্রে খবর, গত শুক্রবার ইনস্টাগ্রামের প্রধান অ্যাডাম মোসেরির জমা করা একটি সমীক্ষা রিপোর্ট আদালতে বিচারধীন হয়। যার আংশিক রিপোর্ট গত মার্চ মাসে জমা পড়েছিল বলে জানা গিয়েছে। তবে মেটার মুখপাত্র অ্যান্ডি স্টোন জানিয়েছেন, এই সমীক্ষাটি আসলে ২০২১ সালে করা হয়েছিল। ওই সমীক্ষাতে দেখা গিয়েছে ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সী প্রতি পাঁচ জন ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীর মধ্যে অন্তত এক জনের (১৯%) ইনস্টাগ্রামে এমন সব নগ্ন বা যৌন ছবি ফিডে আসছে যা তারা দেখতে চায় না।
মোসেরি জানান, সংস্থা সাধারণত সমীক্ষার ফলাফল প্রকাশ্যে আনে না। কিছু ক্ষেত্রে এই রিপোর্টের ফলে বিভ্রান্তিও দেখা যায়। স্টোন জানান, ইনস্টাগ্রামে ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে করা একটি সমীক্ষায় অশ্লীল ছবির পরিসংখ্যানটি উঠে এসেছে।
আরও পড়ুন:
মেটা বর্তমানে বিশ্ব জুড়ে বিভিন্ন মামলার সম্মুখীন। অভিযোগ উঠেছে, ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রাম তরুণ প্রজন্মের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে এবং আসক্তি তৈরি করছে।
সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের প্রায় ৮% জানিয়েছে যে তারা ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীদের নিজের ক্ষতি করতে বা আত্মহত্যার হুমকি দিতে দেখেছে।
মোসেরি জানান, অধিকাংশ আপত্তিকর ছবি ব্যক্তিগত মেসেজের (ডিরেক্ট মেসেজ) মাধ্যমে আদান-প্রদান করা হয়। তিনি উল্লেখ করেন, ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তার কথা মাথায় রেখে সব বার্তা স্ক্যান করা কঠিন, কারণ অনেকেই চান না তাঁদের ব্যক্তিগত মেসেজ সংস্থা পড়ুক।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের শেষ দিকে মেটা ঘোষণা করেছিল, তারা কিশোর-কিশোরীদের অ্যাকাউন্ট থেকে নগ্নতা বা যৌনতাপূর্ণ ছবি এবং ভিডিয়ো ও এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা তৈরি ছবি-সহ সব ছবি সরিয়ে ফেলবে। তবে চিকিৎসা বা শিক্ষামূলক বিষয়ের ক্ষেত্রে কিছু ছাড় দেওয়া হতে পারে। এই সমীক্ষা প্রকাশ্যে আসার পর সমাজমাধ্যমে কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রয়েছে উদ্বেগও।