সুইজ়ারল্যান্ডের পানশালার অগ্নিকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত শতাধিক। মৃতদের মধ্যে ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সি অনেকেই রয়েছেন। বর্ষবরণের উদ্যাপনে বুধবার রাতে ওই পানশালায় নানা বয়সের প্রচুর মানুষ হাজির হয়েছিলেন। স্থানীয় সময় রাত দেড়টা নাগাদ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সেই আগুন এত দ্রুত ছড়ায় যে, অনেকেই পানশালা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেননি। ফলে ঝলসে মৃত্যু হয় তাঁদের। আহত হন শতাধিক।
এই ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে এসেছে (যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)। দাবি করা হচ্ছে, সেই ফুটেজ অগ্নিকাণ্ডের ঠিক আগেই। সেখানে দেখা গিয়েছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি অনুযায়ী, বর্ষবরণের উদ্যাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন পানশালায় হাজির এক দল লোক। শ্যাম্পেনের বোতলের মুখে মোমবাতি জ্বালিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানান। এ ভাবে যখন তাঁরা নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে মগ্ন ছিলেন, তার মধ্যেই মোমবাতি থেকে আগুন লেগে গিয়েছিল সিলিংয়ের শব্দনিরোধী ফোমে। অত্যন্ত দাহ্য হওয়ায়, সেই ফোমের আগুন হু হু করে ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে সেখানে উপস্থিত লোকজন আগুন নেবানোর চেষ্টা করেন। অনেকে এর পরিণতি উপলব্ধি করতে পারেননি। অনেককেই দেখা গিয়েছে, ওই আগুনের ভিডিয়ো করছেন। কিন্তু পর মুহূর্তেই সেই পানশালা আগুনের গোলায় পরিণত হয়েছিল।
আরও পড়ুন:
যেখানে আগুন লেগেছিল, সেখান থেকে বেরোনোর একটিই মাত্র পথ ছিল। ফলে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। জানলা ভেঙে অনেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন। কিন্তু বেরোনোর পথ একটি থাকায় বিপত্তি আরও বাড়ে। ভিতরে আটকে পড়েন অনেকে। আগুন ক্রমশ বাড়তে থাকে। ফলে ঝলসে মৃত্যু হয় ৪০ জনের। এক পুলিশকর্তা জানিয়েছেন, যাঁরা ঝলসে গিয়েছেন, তাঁদের শনাক্ত করতে খুব সমস্যা হচ্ছে। দেহগুলি শনাক্ত মতো পরিস্থিতিতে নেই। হাসপাতালে হাসপাতালে স্বজনদের ভিড়। অনেকেই আবার মর্গে খুঁজে বেড়াচ্ছেন তাঁদের প্রিয়জনকে।
প্রসঙ্গত, বর্ষশেষের রাতে সুইস আল্পসের স্কি রিসর্টের বিলাসবহুল ওই পানশালায় ভিড় করেছিলেন কয়েকশো মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে ছিলেন দেশ-বিদেশের পর্যটকেরাও। সকলে যখন গান, নাচ, খানাপিনায় মত্ত, এমনই একটা মুহূর্তে প্রবল শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। লেলিহান শিখা মুহূর্তে গ্রাস করে পানশালাটিকে। কেউ কেউ বেরিয়ে এসে প্রাণ বাঁচাতে পারলেও অধিকাংশই আটকে পড়েন। এই ঘটনা ভারতের গোয়ার উত্তর গোয়ার আরপোরার ‘বার্চ বাই রোমিও লেন’ নৈশক্লাবের অগ্নিকাণ্ডের স্মৃতি উস্কে দিয়েছে। গত মাসে ওই নৈশক্লাবে আগুন লেগে মৃত্যু হয় ২৫ জনের।